kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাওবাদী কিনা প্রমাণ দেবে বুকের দুধ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৬ ২২:২২



মাওবাদী কিনা প্রমাণ দেবে বুকের দুধ!

কোনো আদিবাসী মেয়ে মাওবাদী কি না, চিনবেন কী করে ? এ নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। আপনাকে পুলিশ বা জওয়ানও হতে হবে না।

একবার শেখালে বা জানালে আপনিও পারবেন। এটাই নাকি সায়েন্স! কিন্তু, বাধবে গিয়ে রুচিতে। আপনার শিক্ষায়।

আদিবাসীদের মধ্য থেকে মাওবাদী মেয়ে চেনার উপায় কী? জওয়ানদের মধ্যে সহজ সূত্র রয়েছে। বুক টিপে দুধ বেরোলে, তিনি মাওবাদী নন। আর না বেরোলেই তিনি বা সে মাওবাদী! কেন? জওয়ানদের যে যুক্তি, মাওবাদী মেয়েরা বিয়ে করে না। ফলে, অবিবাহিত আদিবাসী মেয়েরাই আসলে মাওবাদী।

না, মনগড়া গল্প নয়। এটাই ষোলআনা সত্যি। যে সত্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে ছত্তিশগড়ের সুকমার আদিবাসী মহিলাদের। লাজলজ্জা ভুলে, দাঁড়াতে হয়েছে মাওবাদী কি না, সেই পরীক্ষায়। না গেলে উপায় নেই, বাহিনীর অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ভয়েই লজ্জাশরম বিসর্জন দিয়ে, বুক খুলে দাঁড়াতে হয়েছে। কখনও নিজেই নিজের স্তনে চাপ দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। কারো বাধো বাধো ঠেকলে, জওয়ানরাই টেনে ছিঁড়ে দিয়েছে লজ্জাবস্ত্র! নারী অঙ্গে হাত দিয়ে, মাওবাদী কি না, সে পরীক্ষা করেছেন ওই জওয়ানরা।

ঘটনার দিন: ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি। গ্রামের নাম: পেদরাস। কী হয়েছিল সেদিন? অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রামে টহল দিতে আসা জওয়ানরা নারীদের উদ্দেশে বলেন, মাওবাদী কি না, মেয়েদের সেই পরীক্ষা দিতে হবে। কেন? সরকারি নিয়মের উল্লেখ করে জওয়ানরা জানিয়ে যায়, আদিবাসী মেয়েদের বিয়ে না-হওয়া মানে, তাঁরা মাওবাদী। কারণ, মাও মেয়েরা বিয়ে করে না। তাই 'কুমারী' কি না, তা দেখতেই এই পরীক্ষা!

তাঁরা যে কুমারী নন, সেই পরীক্ষা দিতে প্রকাশ্যে, ওই জওয়ানদের সামনে বুক টিপে সেদিন দুধ বের করতে হয়। কোনো বয়সের ছাড়ছুড় ছিল না। সব মেয়েকেই এটা করে দেখাতে হয়েছে। আপত্তির কোনো জায়গা ছিল না। এমনকী যাঁদের কোলে সন্তান রয়েছে, দেখে বোঝা যায় সন্তান মাতৃদুগ্ধ পান করে, ছাড় পাননি তাঁরাও! যাঁদেরই বুক দিয়ে দুধ বেরোয়নি, জওয়ানরা তাঁদের মাওবাদী বলে দেগে দেন। তাঁদের বয়েস বিবেচ্য হয়নি।

বিশেষ একটি দিনের কথা বলা হলেও, এটা কোনো একদিনের ঘটনা নয় কিন্তু। আদিবাসী মেয়েদের অভিযোগ, প্রায়ই এমন পরীক্ষার মুখোমুখি তাঁদের হতে হয়। শালীনতা রক্ষায় তাই মেয়েদের মঙ্গলসূত্র জোগাড় করতে হয়, নিজেদের বিবাহিত বলে প্রমাণ করতে। এমনকী কুমারীরাও তাই করে। কারণ, প্রাণ যে বড় দায়!

অত্যাচার শুধু এটুকুতেই থেমে থাকে না। এই পরীক্ষার নামে আদিবাসী মেয়েরা যৌনহয়রানির শিকার হয়। আপত্তি করলে, চলে বেদম মিলিটার মার। মেরে হাত ভেঙে দিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী ধর্ষণের হাত থেকেও রেহাই মেলে না।

আমাদের অগোচরে মাও অধ্যুষিত অঞ্চলে এ ভাবেই অত্যাচার হয়ে চলেছে। এর পর কোনও আদিবাসী মহিলা যদি শালীনতা রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেয়, তার দায় কার?

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য