অভিবাসন নীতি নিয়ে আক্রমণ-334942 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


অভিবাসন নীতি নিয়ে আক্রমণ হিলারি-বার্নির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:৩৩



অভিবাসন নীতি নিয়ে আক্রমণ হিলারি-বার্নির

ফ্লোরিডা, ওহায়ো-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোটের আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রবল আক্রমণ শানালেন হিলারি ক্লিন্টন ও বার্নি স্যান্ডার্স৷ বুধবার রাতে স্প্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল ইউনিভিশন-এর আয়োজনে ডেমোক্র্যাটিক বিতর্কে লড়াইয়ের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠল অভিবাসন নীতি৷

হিলারি অবশ্য এক সময় কিছুটা বিপাকে পড়েন এবং বলতে বাধ্য হন, আমেরিকায় ইতিমধ্যেই এসে পড়া শিশুদের এবং অপরাধমূলক কোনও কাজের রেকর্ড নেই এমন অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবেন না তিনি৷ যদি শেষ পর্যন্ত নভেম্বরের নির্বাচনে লড়াইটা ট্রাম্প বনাম হিলারি হয়, তা হলে বিল-পত্নীর এই 'চরম' অবস্থানকে যে রিপাবলিকানরা প্রচারের হাতিয়ার করতে কসুর করবেন না, তা বলা বাহুল্য৷ শুধু তাই নয়, ১৫ মার্চের আসন্ন ভোটে ওহায়োর মতো রাজ্যগুলিতে স্যান্ডার্সও সুবিধা পেতে পারেন৷

সম্ভবত সে জন্যই বিতর্ক শেষ হওয়ার পরে হিলারির অনুগামীরা তাঁর বক্তব্যকে কিছুটা লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন৷ তাঁদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ওবামাও আমেরিকায় শিশু হিসেবে আসা অভিবাসীদের অথবা আমেরিকায় জন্মানো শিশুর অভিবাসী বাবা-মায়েদের ক্ষেত্রে নরম নীতি নিয়েছেন৷ হিলারি সেই নীতিকেই বজায় রাখতে চাইছেন৷ তিনি এ কথা আদৌ বলছেন না যে, আমেরিকায় থাকা ১১০ লক্ষ অভিবাসীর সবাইকে নির্বিচারে সুরক্ষা দেবেন৷ কিন্ত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনকি তাঁর একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজও অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে যে চরম অবস্থান নিয়েছেন, হিলারির এ দিনের বক্তব্যকে যে তার চরমতম বিপরীত প্রান্ত হিসেবে দেখানো যেতে পারে, সেটা বুঝতে পারছেন তাঁরাও৷ আর সে ক্ষেত্রে সাধারণ ভোটারদের গরিষ্ঠ অংশ, যাঁরা যে দলকেই সমর্থন করুন না কেন, মধ্যপন্থার দিকে ঝুঁকে থাকেন, তাঁরা হিলারিকে ভোট দিতে ইতস্তত করবেন, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷

বুধবারের বিতর্কে ঠিক কী বলেছেন হিলারি?
বিতর্কের সঞ্চালক রামোস হিলারিকে প্রশ্ন করেন, 'আমি একদম স্পষ্ট উত্তর চাইছি৷ আপনি কি আজ রাতে আমাদের বলছেন যে, প্রেসিডেন্ট হলে যে সব শিশুরা ইতিমধ্যেই এ দেশে রয়েছে, তাদের আপনি ফেরত পাঠাবেন না?' হিলারি জবাব দেন, 'না, পাঠাব না৷' রামোস ফের প্রশ্ন করেন, 'আর যে সব অভিবাসীর ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই, তাদেরও ফেরত পাঠানো হবে না?' জবাবে হিলারি বলেন, 'ঠিক সেটাই তো আমি আপনাদের বলছি৷'

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই অবস্থান নিতে গিয়ে হিলারি অনেকটাই বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন৷ সব ধরনের ভোটারের কাছে আবেদন বজায় রাখার জন্য যে ভারসাম্যটা জরুরি ছিল, তার থেকে হয়তো একটু সরেই গেলেন৷ তার জন্য মিশিগানের অপ্রত্যাশিত হারকেও দায়ী করেছেন কেউ কেউ৷ তাঁদের মতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে স্যান্ডার্সের কাছে মিশিগানে তাঁর হেরে যাওয়াটা ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক শ্রেণির কাছে হিলারির গ্রহণযোগ্যতার অভাবকে ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে৷ ফলে মায়ামিতেবেশ কিছুটা চাপে ছিলেন বিল-পত্নী৷ তার উপর বিতর্কের সঞ্চালক একটানা যে ভাবে অভিবাসন নীতি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন, তাতেও কিছুটা বেকায়দায় পড়েন তিনি৷ তাঁকে দিয়ে অভিবাসন নীতির বিষয়টি এক রকম প্রায় বলিয়েই নেন রামোস৷

হিলারি নিজেও অবশ্য অভিবাসন নীতি নিয়ে স্যান্ডার্সকে আক্রমণ করেন৷ তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০০৭ সালে এমন একটি বিল আনা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আমেরিকায় বাস করা ১১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে একটা বড় অংশকে নাগরিকত্ব পেতে সাহায্য করতে পারত৷ কিন্ত্ত স্যান্ডার্স তার বিপক্ষে ভোট দেন৷ ২০০৯ সালে ওবামা দায়িত্ব গ্রহণের আগে আর্থিক সংস্থাগুলির জন্য 'বেল-আউট' বিলেরও বিরোধিতা করেছিলেন স্যান্ডার্স৷ হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী অবশ্য সব অভিযোগের বিরুদ্ধেই পাল্টা যুক্তি খাড়া করেন৷ এমনকি ১৯৮৫ সালের একটি ভিডিয়ো দেখিয়ে যখন তাঁর বিরুদ্ধে কিউবার একনায়কতন্ত্রী সরকারকে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়, তখনও নিজের অবস্থান বজায় রেখে স্যান্ডার্স বলেন, 'আমি মনে করি বিশ্ব জুড়ে আমেরিকার উচিত অন্য দেশের সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করা৷ সরকার বদলে অংশগ্রহণ করা নয়৷'

তবে দিনের শেষে বুধবারের বিতর্কে হিলারি বা স্যান্ডার্স, কেউই 'জয়ী' হতে পারেননি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ মনোনয়নের দৌড়ে একে অন্যকে পাল্লা দেওয়ায় তাই ফাঁক পড়বে না৷

সূত্র: এই সময়

মন্তব্য