kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যেখানে কোনো মানুষ নেই!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:২৫



যেখানে কোনো মানুষ নেই!

মানুষ ভাবে এক, আর হয় এক!
নইলে সাধ করে বানানো বসবাসের আস্তানা খালি হয়ে যায় কী করে?
আসলে, মানুষ বরাবরই ঘটনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যে ৬টি জায়গার এখন আমরা উল্লেখ করতে যাচ্ছি, সেগুলোও মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে ঘটনার ফেরে।


কীভাবে?
 
ইতালির ক্র্যাকো
ক্র্যাকো শহর যখন গড়ে উঠছিল, তখনই বোধ হয় বিধাতা অলক্ষে হেসেছিলেন। একের পর এক দুর্ভাগ্য ক্রমাগত আঘাত হেনেছে এই শহরের বুকে। প্লেগ, বিদেশি আগ্রাসন, খরা- সব মিলিয়ে ক্র্যাকোর দশা বেহাল হয়ে গিয়েছিল উনিশ শতকের শেষ থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগের মধ্যেই। সেই সময়েই শহরের অনেক অধিবাসী সৌভাগ্যের খোঁজে পাড়ি দেন উত্তর আমেরিকায়। আর যাঁরা থেকে গিয়েছিলেন প্রিয় শহর আঁকড়ে? ১৯৬৩ সালে ধস, ১৯৭২ সালে বন্যা এবং সবার শেষে ১৯৮০ সালে ভূমিকম্প শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় ক্র্যাকোর কফিনে। তার পরেই শহরটি হয়ে যায় পুরোপুরি মনুষ্য-বর্জিত।
 
সাইপ্রাসের ভরসা
গ্রিসের এই দ্বীপটি এক সময়ে বিখ্যাত ছিল বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য। হলে কী হবে, ১৮৭৪-এর তুর্কি আগ্রাসনে দুর্ভাগ্যের ছায়া নেমে আসে ভরসায়। এভাবেই যত দিন যেতে থাকে, ধীরে ধীরে অবহেলার চাদরে শরীর ঢেকে নেয় ভরসা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সমুদ্রতট-লাগোয়া হাইরাইজ হোটেলের চাহিদা। সব মিলিয়ে, এখন ফাঁকাই পড়ে থাকে দ্বীপের বাড়িগুলো!
 
তাইওয়ানের সানঝি
পূর্ব এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর অফিসাররা এই আবাসনটি গড়ে তুলেছিলেন ছুটি কাটাবার জন্য। মজা করে অ্যাপার্টমেন্টগুলো তৈরি হয়েছিল ইউএফও বা মহাকাশযানের আদলে। কিন্তু, ওই ছুটির ফাঁদে লুকিয়ে ছিল মৃত্যু। একের পর এক মৃত্যু, আত্মহত্যা এক সময়ে রেওয়াজ হয়ে দাঁড়ায় এই আবাসনে। ফলে, পরিত্যক্ত হওয়া ছাড়া সানঝির ইউএফও বাড়িরও আর কোনও গতি ছিল না।
 
হাশিমা দ্বীপ
জাপানের হাশিমা দ্বীপ পরিত্যক্ত হওয়ার কারণ অবশ্য নেহাতই অর্থনৈতিক। জাপানের সমুদ্র সৈকত থেকে ৯ মাইল দূরে অবস্থিত হাশিমায় এক সময়ে প্রায় হাজার পাঁচেক মানুষের বসতি ছিল। প্রচুর কয়লা পাওয়া যেত বলে সেই সময়ে হাশিমায় বসবাসও ছিল লাভজনক। অবস্থা পালটে গেল খনিজ তেলের বাড়বাড়ন্তের পরে। এখন সেই সাধের বসতিকে লোকে ভুতুড়ে দ্বীপ বলেই ডাকে!
 
ইউক্রেনের প্রিপইয়াট
প্রিপইয়াট বললে ক'জন চিনবেন, বলা মুশকিল! কিন্তু যদি বলি চেরনোবিল, তাহলেই সব রহস্যের সমাধান হবে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার পয়েন্টের সেই দুর্ঘটনার পরে স্বাভাবিকভাবেই এখন আর কেউ থাকেন না ওই শহরে।
 
ফ্লোরিডার লেহাই
ফ্লোরিডার লেহাইয়ের গল্প বোধহয় সব চেয়ে করুণ! কেন না, ভাল করে মানুষের বসতি গড়ে ওঠার আগেই পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল লেহাই। বিশ শতকের মাঝামাঝি ফ্লোরিডার এই যোজন-বিস্তৃত ভূমির দিকে নজর পড়েছিল নির্মাণ-ব্যবসায়ীদের। থাকার জন্য ছোট ছোট কটেজ বানানও শুরু হয়। কিন্তু, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কাজ আর শেষ হয়নি। তার পর থেকে পড়েই আছে বাড়িগুলো।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য