kalerkantho


সুনামির পাঁচ বছর পরও আতঙ্ক রয়ে গিয়েছে জাপানে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মার্চ, ২০১৬ ১৬:০৭



সুনামির পাঁচ বছর পরও আতঙ্ক রয়ে গিয়েছে জাপানে

আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ঠিক এই দিনে জাপানে আঘাত হেনেছিল প্রলয়ঙ্কারি সুনামি। প্রশান্ত মহাসাগরের তীব্র ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল জাপানকে।

বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছিল, ভেসে গিয়েছিল দালান কোঠা, ঘরবাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১১ সালের ১১ মার্চ। কিন্তু পাঁচ বছর পূর্তিতেও জাপানের মানুষের মনে রয়ে গেছে সেই ভয়াবহতার ছাপ।

ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপর্যয় মানুষের মনে যে আতংক তৈরি করেছিল সেটা এখনো রয়েছে। কেন্দ্রের চুল্লি দুটি এতদিন বন্ধ ছিল। সরকার থেকে চুল্লি চালু করতে চাইলেও জাপানের গণ মানুষ তাতে সায় দেয়নি। ফলে আদালতের নির্দেশে কয়েক দিন আগে চুল্লি দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আজকের দিনটি জাপানের মানুষের জন্য মোটেও সুখকর কোন দিন নয়। তবে স্মরণীয় একটি দিন।

এ উপলক্ষে জাপানের স্থানীয় সময় ২টা ৪৬ মিনিটে জাতীয়ভাবে নীরবতা পালন করে দেশটি। এতে অংশ নিয়েছিলেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো এবং প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।  

সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে যে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে বিপর্যয় আরও বহুগুণে বেড়ে গিয়েছিল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে জাপানের যে দুর্গতি হয়েছিল তার ভয়াবহতা দেখে সারা পৃথিবীতেই আতংক ছড়িয়ে পড়েছিল।

সাগরে সৃষ্ট রিখটার স্কেলের ৯ মাত্রার একটি ভুমিকম্প এবং সুনামিতে জাপানে নিহত হয়েছিল ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। এ ছাড়া আরও অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, ১৯৮৬ সালে জাপানের চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্যোগের পর ওই প্রথম এমন আরেকটি বিপর্যয় হয় সেখানে। তেজস্ক্রিয়তা থেকে বাঁচতে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ওই জায়গা থেকে।

আনন্দের সৃতি সহজে ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু বিপর্যয়ের সৃতি ভোলা যায় না। জাপানের যে সমস্ত মানুষের ওই ভয়াবহতার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তারাও এত সহজে ভুলতে পারবেন না সুনামির কথা। তবে সতর্কতা হয়তো আখেরে মঙ্গল ডেকে আনবে জাপানের জন্য।


মন্তব্য