kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাঁজাতেই তাজা ইলোরার গুহাচিত্র!‌

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৫৪



গাঁজাতেই তাজা ইলোরার গুহাচিত্র!‌

ইলোরার বিশ্ববিখ্যাত গুহাচিত্রমালা যে দেড় হাজার বছর ধরে টিকে আছে, তার কারণ হল বিশুদ্ধ গাঁজাপাতা। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, বা ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের বিজ্ঞান বিষয়ক শাখার এক প্রাক্তন কর্তা গবেষণা করে ইলোরার এই অনন্তযৌবনরহস্য খুঁজে পেয়েছেন। ইলোরার গুহার দেওয়ালে ছবি আঁকার আগে, মাটি আর চুনের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণে মেশানো হতো গাঁজাপাতার মণ্ড। যে কারণে এতদিন ধরে অক্ষত আছে পাথুরে দেওয়ালের গায়ের ওই আস্তরণ। কাণ্ডজ্ঞানহীন পর্যটক তার ওপর নিজের নাম খোদাই করে লিখে কিছু ছবি নষ্ট করলেও, সময় আঁচড় কাটতে পারেনি তার গায়ে। এ এস আই এ-র পশ্চিমাঞ্চল শাখার প্রাক্তন পুরাতাত্ত্বিক-রসায়নবিদ রাজদেও সিং-কে এই রহস্য উদ্ধারে সাহায্য করেছেন অওরঙ্গাবাদের মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক এম এম সরদেশাই। তাঁদের এই যৌথ সাফল্যের বিস্তারিত বয়ান প্রকাশিত হচ্ছে দেশের প্রথম সারির বিজ্ঞানচর্চার পত্রিকা কারেন্ট সায়েন্সে। নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ করে ওঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, মূলত কীটনাশক হিসেবে মাটি আর চুনের সঙ্গে মেশানো হয়েছিল গাঁজা পাতার মণ্ড, যে কারণে ইলোরার গুহাচিত্রে কখনও পোকা ধরেনি, আস্তরণ ফুটো করে কোনও পোকা বাসা বাঁধতে পারেনি, বা ছবির রঙ খেয়ে নষ্ট করতে পারেনি। অজন্তার গুহাচিত্রের বেলায় কিন্তু তা করা হয়নি, ফলে সেখানকার অন্তত ২৫%‌ ছবি পোকামাকড়ে নষ্ট করে দিয়েছে। দুই গবেষক জানাচ্ছেন, ষষ্ঠ শতক থেকেই ভারতে গাঁজা পাতার নানা ধরনের ব্যবহার প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে স্থাপনা ও নির্মাণের ক্ষেত্রে। ১২ শতকে তৈরি দেওগিরি বা দৌলতাবাদ দুর্গ তৈরির সময়ও গাঁজাপাতা ব্যবহার হয়েছিল। ইওরোপেও সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, বাড়ি তৈরির মশলায় গাঁজাপাতা ব্যবহার করায় বাড়ি ৬০০-৮০০ বছর অবধি টিকে গেছে। কিন্তু দেড় হাজার বছর ধরে গুহাচিত্র টিকে যাওয়াটা আরও বড় এক স্থাপত্যকৌশলের হদিস দিল।

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য