kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

'শরীরে আমি এপসমে, কিন্তু হৃদয়ে আলেপ্পোতেই আছি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৬ ১৭:২৩



'শরীরে আমি এপসমে, কিন্তু হৃদয়ে আলেপ্পোতেই আছি'

২৬ বছরের আহমেদ তিন বছর আগে সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আসেন। এরপর থেকেই তার ঠাই হয়েছে এপসমের ব্রিটিশ দম্পতি, টিমোথি নাথান আর নিনা কে-র পরিবারে।

এখন তিনি সেই পরিবারের একজন সদস্য হয়ে উঠেছেন।

এপসমের বাড়িতেই জীবনে প্রথমবারের মতো পিয়ানো বাজানোর সুযোগ পেয়েছেন ২৬ বছরের আহমেদ। পিয়ানো বাজানো বা গানবাজনা তার সিরিয়ার রক্ষণশীল সমাজে ছিল নিষিদ্ধ। ২০১৩ সালে লরিতে করে চোরাচালান হয়ে যুক্তরাজ্যে আসেন আহমেদ।

শরণার্থী হিসাবে আবেদন করার পর থেকেই তিনি টিমোথি নাথান আর নিনা কে দম্পতির পরিবারে আশ্রয় পেয়েছেন। যদিও এখানে থাকার জন্য তাকে কোনো খরচ দিতে হয় না।

নিনা কে বলছেন, ''কিছুদিন আগেই আমাদের ছেলেমেয়েরা বাড়ি ছেড়েছে। তাই আমাদের কাছেও বাড়িটি বেশ খালি খালি লাগছিল। তাই আমরা ভাবলাম, হয়তো শরণার্থীদের কাউকে আমাদের এখানে আশ্রয় দিতে পারি। যতদিন না আহমেদ যুক্তরাজ্যের সমাজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, ততদিন সে এখানে বাস করতে পারবে। সে আমাদের সঙ্গে বাস করছে, এতেই আমরা আনন্দিত। ''

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার সিরিয়ান শরণার্থী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সরকার। যদিও সিরিয়ার সহিংসতা থেকে বাচতে, নতুন জীবনে খোজে অনেক বেশি সিরিয়ান নৌকায়, সড়ক পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছে। ২০১১ সাল থেকে প্রায় ৫ হাজার সিরিয়ানকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফের হিসাবে, যারা সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসছে, তাদের একতৃতীয়াংশই শিশু ও তরুণ। এদেরই একজন আহমেদ, যাকে একজন বন্ধুর মাধ্যমে এই পরিবারটি পেয়েছে।

কিন্তু কেন একটি পরিবার শুধুমাত্র সিরিয়ানদেরই আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? ইউরোপের, যুক্তরাজ্যের অনেকের হয়তো এরকম আশ্রয় দরকার হতে পারে। কিন্তু তাদের নয় কেন?

সেই ব্যাখ্যা দিয়ে টিমোথি নাথান বলছেন, ''তাদের জন্য সরকারের তরফ থেকেই অনেক রকম সুযোগ সুবিধা আছে। কিন্তু আমরা ভেবেছি, আমাদের এমন কাউকে সাহায্য করা উচিত, যাদের অন্য কোন আশ্রয় নেই, আমাদের কাছে আশ্রয় চাইছে। '' তবে ইউরোপের এই আয়েশি জীবনেও সিরিয়ার কথা ভুলতে পারছেন না আহমেদ।

তিনি বলছেন, ''আমার বাড়ির কথা খুব মনে পড়ে। আমি হয়তো এপসমের এই বাড়িতে আছি। শারীরিকভাবে আমি এপসমে আছি, কিন্তু আমার মনে, আমার হৃদয়ে আমি সারাক্ষণ আলেপ্পোতে আছি। '' যুদ্ধ থামলে একদিন আবার সিরিয়ায় ফিরে যাবার স্বপ্ন দেখেন আহমেদ।

যুক্তরাজ্যের জীবন অনেক ভালো আর নিরাপদ, শুধুমাত্র খাবার নিয়েই আহমেদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে । কারণ সিরিয়া আর এখানকার খাবার বেশ আলাদা ধরনের। এখন এ দেশের খাবার আর রীতিনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন আহমেদ।


মন্তব্য