kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রচারে এগিয়ে মমতা

জোট না বোঝাপড়া জটিল অঙ্কে আটকে 'বাম-কংগ্রেস জোট'

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা   

৯ মার্চ, ২০১৬ ২১:০০



জোট না বোঝাপড়া জটিল অঙ্কে আটকে 'বাম-কংগ্রেস জোট'

বিরোধীরা যেখানে এখনও চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারেনি। আর সেখানে জোরকদমে প্রচারণা চালাতে শুরু করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন ৮ মার্চ থেকে তিনি কলকাতা ও উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করেন। এ ছাড়াও মমতার টিম সেলিব্রেটি সংসদ সদস্য অভিনেতা সোহম, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, বৈশালী ডাল মিয়া, বাইচুং ভুটিয়া প্রমুখরাও একই দিন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাতকারে মমতা ব্যানার্জি আবারও ক্ষমতায় আসছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিজেপি সম্প্রদায়িক দল এবং বামফ্রন্ট ৩৪ বছর রাজ্যটিকে শেষ করে গিয়েছে। ওরা নেগেটিভ রাজনীতি করে তাই ওদের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস। এ সময় তিনি গত পাঁচ বছরের ঢালাও উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন রাজ্যবাসীর সামনে।

তবে উল্টো দিকের ছবিটা কিন্তু অন্য রকম। বামফ্রন্ট দুদিন আগে ১১৬ আসনের আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার বন্ধু কংগ্রেস মঙ্গলবার রাতে মাত্র ৭৫ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এই ৭৫ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি। কংগ্রেসের এই ঘোষিত আসনের মধ্যে বামফ্রন্টেরও কয়েকটি আসন রয়েছে, যেখানে বাম প্রার্থী লড়ছেন। আর এই নিয়ে বামপন্থীদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের এই বোঝাপড়া নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল দুই মাস ধরে। কিন্তু আজ বুধবার বিকাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক জোটের কোনও ঘোষণাই আসেনি। এর মধ্যে সোমবার রাতে বিমান বসু যখন আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন, তখন কংগ্রেসের সঙ্গে শুধুমাত্র ভোট যাতে ভাগ না হয় এর জন্য ’বোঝাপড়া’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা কোন জোট-ঘোঁট-ভোট নয়।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিমান বসুর এই মন্তব্যকে অবশ্য উড়িয়ে দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, আসলে আমি কিংবা বিমান বসু আমরা সবাই আমাদের দলের কর্মীদের চাপে আজ তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক কাতারে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। কারণ বাংলায় রাজনীতি করার জন্যও যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দরকার সেই পরিবেশটাও তৃণমূল কংগ্রেস গিলে খেয়েছে। এখনই সময় অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে এক হয়ে পশ্চিমবাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার।

এদিকে নির্বাচনের নিঘণ্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও রাজ্য বিজেপি কোনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপির অবস্থার অনেকটাই নড়বরে টের পেয়ে অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন না।

বিজেপির প্রার্থী সংকটের খবর বেশ কিছু দিন ধরেই মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও বিজেপি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেছেন, বিজেপির এই রাজ্যে বিধানসভায় নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান প্রমাণ করবে।

 


মন্তব্য