kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেয়েদের নগ্ন রাখতে হত বুক, আব্রু রক্ষায় প্রাণ দিয়েছিলেন ইনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০১:১৯



মেয়েদের নগ্ন রাখতে হত বুক, আব্রু রক্ষায় প্রাণ দিয়েছিলেন ইনি

ক্যালেন্ডারের পাতা বেয়ে হাজির আরো একটা আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর সমানাধিকারের দুনিয়াজোড়া প্রতিশ্রুতি আর উদ্‌যাপনের মাঝে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে নানগেলির নাম।

আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগের এই নারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে যান। যার সামনে ঝুঁকতে হয় খোদ রাজাকেও। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে নারীদের সঙ্গে হয়ে চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
এবারের নারী দিবসে সেই বীর নারী নানগেলির প্রতি রইল আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য। প্রায় ১০০ বছর আগের কথা। কেরলের ত্রিবাঙ্গুরে সেই সময় এক অদ্ভুত নির্মম প্রথার চল ছিল। সমাজের নিম্নশ্রেণীর নারীদের নিজেদের বক্ষ আবৃত করার অনুমতি ছিল না। কোনো নারী শরীরের ঊর্ধাঙ্গ ঢাকলে তাঁকে কর দিতে হত। স্তন যত বড়, করও তত বেশি। স্থানীয় ভাষায় এই করের নাম ছিল মুলাক্করম। এই জঘন্য প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বছর ৩০-এর নানগেলি। স্থানীয় ভাষায় যাঁর নামের অর্থ সুন্দর। নানগেলি কারোর অনুমতির তোয়াক্কা না করে বক্ষ-আবরণী ব্যবহার করা শুরু করেন। তাঁকে রাজার নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে শরীরের ঊর্ধাঙ্গে পোশাক পরতে দেখে আপত্তি জানান অনেকে। রাজ-বিরোধিতার পরিণাম যে ভালো হবে না, সে কথাও তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁকে টলানো যায়নি। একদিন রাজার পেয়াদা পৌঁছে যায় তাঁর বাড়িতে। মুলাক্করম না দিলে তাঁর পরিবারকে এর ফল ভুগতে হবে বলে শাসায় তারা। সেপাইদের একটু অপেক্ষা করতে বলে ঘরের ভেতরে ঢুকে যান নানগেলি। একহাতে একটা গাছের পাতা, আর এক হাতে ছুরি নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। রাজ পেয়াদার সামনেই নিজের হাতে নিজের দুই স্তন কেটে পাতায় মুড়ে রাজাকে উপহার দিতে বলেন নানগেলি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। নানগেলির এই আত্মবলিদান বিফলে যায়নি। নিম্নশ্রেণীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে, এ কথা বুঝতে পেরে এই জঘন্য প্রথা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজা।
ত্রিবাঙ্কুরের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচিত নানগেলির কথা। এবার সেই নানগেলির নামে স্মৃতিসৌধ গঠনের দাবি তুললেন সেখানকার বাসিন্দারা। ত্রিবাঙ্কুরে নানগেলির বাড়ি যেখানে সেই চেরথালা নানগেলির স্মরণে মুলাচ্চিপারাম্বু নামে পরিচিত। মালয়ালী ভাষায় যার অর্থ নারী স্তনের ভূমি। তবে সরকারিভাবে এই এলাকার বর্তমান নাম মনোরমা কাভালা। নানগেলির আত্মবলিদানের কথা ইতিহাস বইতে স্থান দিতেও দাবি তুলেছেন এখানকার বাসিন্দারা।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য