kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতের প্রথম প্রাইভেট অভয়ারণ্যের মালিক এই দম্পতি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৬ ২২:৪৪



ভারতের প্রথম প্রাইভেট অভয়ারণ্যের মালিক এই দম্পতি!

৩০০ একর অনাবাদী জমি। তাতে কৃষিকাজের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

সেই জমিতেই অভয়ারণ্য গড়ে তুললেন অনাবাসী ভারতীয় দম্পতি। ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত অভয়ারণ্য। অনিল আর পামেলার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন এভাবেই সার্থক হল প্রকৃতির সাহচর্যে।
১৯৬০ সালে যখন ভালবেসে একে অপরকে বিয়ে করেন অনিল আর পামেলা, তখনই তাঁরা ওয়াকিবহাল ছিলেন নিজেদের স্বপ্নটাকে নিয়ে- থাকতে হবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে। শুধু থাকাই নয়, তার পাশাপাশি বন্যপ্রাণ এবং উদ্ভিদ জগতকেও রাখতে হবে নিরাপদে। সেই স্বপ্নের তাগিদেই ১৯৯১ সালে ভারতে শুরু হল তাঁদের জমির খোঁজ।
অনিলের পৈতৃক বাড়ি হরিদ্বারে। ফলে, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, হিমালয়ের কোল ঘেঁষেই গড়ে তুলবেন তাঁদের নিজেদের অরণ্যবাস। কিন্তু, ১৯৯১ সালে অনিলের পিতৃবিয়োগের পর দেখা গেল, উত্তর ভারত স্বপ্ন সফল করার জন্য বেশ কিছু বাধা ছড়িয়ে রেখেছে সামনে।
প্রথমত, দূষণ। পরিবেশ এবং গঙ্গা এতটাই দূষিত হয়ে উঠেছে যে ওই অঞ্চলে পছন্দের জমি পাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাছাড়া, উত্তর ভারতে চাষের জমি দখল নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপান-উতোর চলছে, সে সব বিতর্কের মধ্যেও নিজেদের জড়াতে চাননি এই দম্পতি।
তা বলে মুষড়েও পড়েননি তাঁরা। খোঁজ যখন চলছিল পুরোদমে, তখনই এক বন্ধু জানান পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে, ব্রহ্মগিরির পাদদেশে ৯৯ একর জমির কথা। অনাবাদী এই জমি বিক্রি করে দিতে চাইছিলেন সেই সময়ের মালিক। ''ওখানে কফি বা কোনও কিছুই তো চাষ হবে না। কথা বলে আমাদের জায়গাটা পছন্দ হয়ে গেল। কিনেও নিলাম'', জানালেন অনিল।
সেই শুরু। তার পর একে একে চারপাশের আরও অনাবাদী জমি যুক্ত হল তাঁদের প্রোজেক্টে। যার পোশাকি নাম সেভ অ্যানিমাল ইনিশিয়েটিভ বা সাই।
কিন্তু, চোরাশিকারি? বা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীওয়ালা মানুষজন? বা যাঁরা বুঝেই উঠতে পারছেন না, জঙ্গল বানিয়ে এই দম্পতি ঠিক করতে চাইছেনটা কী? তাঁদের সঙ্গে কী ভাবে লড়াই চালানো হল?
''এমন দিনও গিয়েছে, যখন আমি একটা কাঠ হাতে লড়াই করেছি চোরাশিকারিদের সঙ্গে। পাশের গ্রামের মানুষদের বুঝিয়েছি, পশু মারা উচিত নয়। এভাবেই ধীরে ধীরে লোকে আমাদে কথা বুঝেছে। পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর, এখন তো গোটা অভয়ারণ্যই ঘিরে রাখা হয়েছে ক্যামেরায়'', জানালেন পামেলা।
আর জানালেন, সাই অভয়ারণ্যের পশুকুলের কথা। নানা জাতের বিরল পাখি, হরিণ এখন নিশ্চিন্তে থাকে এখানে। কিছু দিন আগে ঘুরে গিয়েছে এক দল হাতিও!
তাঁদের এই উদ্যোগকে সাবাশ ছাড়া আর কী বা বলা যায়!

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য