গভীর সাগরের অসাধারণ ১০ তথ্য জেনে নিন-333227 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


গভীর সাগরের অসাধারণ ১০ তথ্য জেনে নিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৩৮



গভীর সাগরের অসাধারণ ১০ তথ্য জেনে নিন

সাগর নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। গভীর মহাসাগরের তলদেশে কী রয়েছে, তা জানতে কার না আগ্রহ রয়েছে। ২০০ মিটারের চেয়ে গভীর স্থানকে গভীর সাগর বলা হয়। এ লেখায় রয়েছে তেমন কয়েকটি মজার তথ্য। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. পাতালের রাজ্য
গ্রিক দেবতা জিউসের ভাই হ্যাডস। তার নাম অনুসারেই পাতালপুরিকে ‘হ্যাডাল’ বলা হয়। গ্রিক উপকথা অনুযায়ী সে রাজ্যের অধিবাসীদের অন্য কোনো স্থানে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। আর এ বিষয়টির সঙ্গে মিল পাওয়া যায় সাগরের গভীর প্রাণীদেরও। এ প্রাণীরা তাদের নির্দিষ্ট পরিবেশেই বাস করে এবং অন্য কোনো স্থানে যেতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অক্ষম।
২. সাগরের গভীরতা কতোখানি?
সাগরের গভীরতা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের। তবে পৃথিবীর সাগরের গড় গভীরতা হলো সাড়ে তিন কিলোমিটার। আর এ সাগরের সবচেয়ে গভীর স্থান হলো পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। সে স্থানের গভীরতা প্রায় ১১ কিলোমিটার।
৩. সাগরের গভীরতা কে প্রথম নির্ণয় করে?
১৮৭৩ থেকে ১৮৭৬ সাল পর্যন্ত এইচএমএস চ্যালেঞ্জার জাহাজের অভিযানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের সাগরের গভীরতা প্রথম জানা যায়। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজকে কিছুটা পরিবর্তিত করে এ অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ কাজে জাহাজটি সাগরের আট কিলোমিটার গভীর থেকেও পলি সংগ্রহ করে। ১৯৫৬ সালে প্রথম সাগরের তলদেশের ছবি তোলা হয়।
৪. সাগরের তলদেশ কেমন
সাগরের তলদেশে বিভিন্ন ধরনের ভূপ্রকৃতি রয়েছে। সেখানে রয়েছে গভীর খাদ ও পাহাড়-পর্বত। পৃথিবীর সাগরে ৩৩টি গভীর খাদের কথা জানা যায়। সাগরের গড় গভীরতা হলো ৮.২১৬ কিলোমটার। সাগরের ৪৫ শতাংশ এলাকা সবচেয়ে গভীর হিসেবে পরিচিত।
৫. মানুষের টিকে থাকার গোপন তথ্য
মানুষের জানামতে পৃথিবী এখনও একমাত্র গ্রহ, যেখানে প্রাণী টিকে রয়েছে। এ গ্রহে রয়েছে টেকটোনিক প্লেট চলাচলের মতো জটিল বিষয়। এটি ছাড়া ভূমি সব সাগরে ডুবে যেতে পারত। আর তা হলে মানুষের অস্তিত্ব কখনোই সৃষ্টি হত না।
৬. সাগরের তলদেশ কেমন
সাগরের তলদেশের পানির তাপমাত্রা এক থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত দেখা যায়। কিন্তু ভূপৃষ্ঠের চাপের মতো এ স্থানের চাপ নয়। সেখানে প্রতিটি প্রাণীকে প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে হয়। সাগরের সবচেয়ে গভীরে এটি হতে পারে আপনার আঙুলের ডগায় এক টন ওজন তুলে দেওয়ার সমান।
৭. কেমন প্রাণীরা বাস করে
বহু অভিযানেই সাগরের তলদেশে কেমন প্রাণীরা বাস করে তা অনুসন্ধান করা হয়। এতে দেখা যায় পলিচ্যায়েটস, বিভালভস, গ্যাস্ট্রোপডস, অ্যাম্ফিপডস ও হলোথুরিয়ানস গোত্রের প্রাণীরা সাগরতলে বাস করে। তবে কিছুটা অগভীর সাগরের তলদেশে বাস করে বিভিনন ধরনের শামুক, রঙিন মাছ ও নানা ধরনের কীট।
৮. বিপজ্জনক তথ্যও রয়েছে
সাগরের গভীরতম স্থানে বিপজ্জনক বর্জ্য ফেলা হয়। ১৯৭০ সালে পোর্টেরিকো ট্রেঞ্চ ছিল ফার্মাসিউটিক্যাল বর্জ্য ত্যাগের একটি স্থান। সে স্থানটিতে বিপুল সংখ্যক বর্জ্য ফেলা হয়। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন। এছাড়া চাঁদে অভিযানের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপোলো ১৩ মিশনের বিভিন্ন পারমাণবিক বর্জ্য ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত হয়েছে। সেখানে ছয় থেকে নয় কিলোমিটার গভীরে এটি কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৯. সাগরতলে ভূমিকম্প
সাগরের তলদেশেও ভূমিকম্প হয়। ২০১১ সালে জাপানের নিকটবর্তী এলাকায় ৯.০ মাত্রায় ভূমিকম্প হয়। এতে সুনামিও সৃষ্টি হয়। ফলে ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু কিংবা নিখোঁজ হয়ে যায়। সে ভূমিকম্পটির পরবর্তী কম্পন ৬৬৬ বার অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.০-এর বেশি। ২০০৪ সালে সুমাত্রা-আন্দামান ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জাভা ট্রেঞ্চ। সে ভূমিকম্পেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গবেষকরা বলছেন, এসব ভূমিকম্পে সাগরের অবস্থান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
১০. সাগর বনাম পর্বত
বিশ্বের সবচেয়ে গভীর মারিয়ানা ট্রেঞ্চে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট স্থাপন করা হলে তাও ডুবে যাবে। কারণ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতার তুলনায় প্রায় এক কিলোমিটার কম।

মন্তব্য