kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়ার অঙ্গীকার লুলা ডিসিলভার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ২২:১০



দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়ার অঙ্গীকার লুলা ডিসিলভার

 ব্রাজিলের সাবেক প্রসিডেন্ট লুলা ডিসিলভা তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
পেট্রেব্রাস কেলেঙ্কারিতে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত এই তেল কোম্পানির কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য উৎকোচ গ্রহণ করেছিলেন লুলা ডিসিলভা।
গত শুক্রবার ব্রাজিলের সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুর্নীতির অভিযোগে। বলা হচ্ছে, পেট্রোব্রাস কেলেঙ্কারিতে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন এই রাজনীতিক।
জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি কোনো কিছুকেই ভয় পাই না। আমি শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধি। এই দেশের সেরা প্রেসিডেন্ট ছিলাম আমি। এ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী আমাকে পুনর্নির্বাচন করেছিল, কারণ আমার কারণেই তারা এখন ক্ষুধা নিবারণ করতে পারছে। ’
এর আগে লুলা ডিসিলভাকে সাময়িকভাবে আটক করেছিল পুলিশ। তখন ওই আটকাদেশ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে সেই আটকাদেশ তুলে নেয়া হয়।
লুলা ডিসিলভা ব্রাজিলের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম পুরোধা। ২০১১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করেন। বর্তমানে তার দল ওয়ার্কার্স পার্টির অনেক নেতা-কর্মীকে পেট্রোব্রাস দুর্নীতির ঘটনায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অপারেশন কার ওয়াশ নামের ওই তদন্তে কয়েক ডজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় ঘণ্টা তিনেক আটক থাকার পর দেয়া বক্তব্যে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা বলেছেন, তার কাছে মনে হয়েছে তিনি যেনো ‘বন্দী’।
শুধু তাই নয়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এই দিনটিকে তিনি ‘গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক একদিন’ বলেও উল্লেখ করছেন।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল প্রতিষ্ঠান পেট্রোব্রাস-এর এক অর্থ কেলেঙ্কারিতে মিলিয়ন ডলার ঘুষের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে লুলা ডি সিলভার বাসভবনে অতর্কিত অভিযান চালায় পুলিশ।
শুধু তাই নয়, তার পরিবার ও তার দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পুলিশ অভিযান চালায় এবং প্রায় তিন ঘণ্টার জন্য তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সাবেক একজন প্রেসিডেন্টকে এভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার সমালোচনা করেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ।
দিলমা রৌসেফ বলছেন, লুলার মতন একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বক্তব্য পেশ করে এসেছেন এবং ব্যাখ্যা দিয়ে এসেছেন, তাকে এভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাটিতে আমি আমরা পূর্ণ অসন্তোষ প্রকাশ করছি।
লুলা বলেছেন যে, তাকে আটক করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। কারণ পুলিশ যদি তার কাছে থেকে কোনো বক্তব্য শুনতে চাইতো তাহলে পুলিশ তাকে জানালে তিনি নিজেই গিয়ে কথা বলে আসতেন।


মন্তব্য