আয়লানের মৃত্যু : দুই মানব পাচারকারীর-332217 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


আয়লানের মৃত্যু : দুই মানব পাচারকারীর জেল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪৪



আয়লানের মৃত্যু : দুই মানব পাচারকারীর জেল

আয়লান কুর্দিকে মনে আছে? কয়েক মাস আগে যুদ্ধবিধবস্ত সিরিয়া ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল ৩ বছরের শিশুটির। বোদরাম থেকে গ্রিসের কোস দ্বীপে যাত্রার পথে নৌকা উল্টে মারা যায় সে, তার ৪ বছরের ভাই গালিপ, মা রিহান সহ ৫ জন। অতিরিক্ত লোকবোঝাই নৌকোয় চেপেই ঝুঁকির যাত্রায় রওনা দিতে রাজি হয়েছিল আয়লানের পরিবার।

তুরস্কের সমুদ্রতটে পড়ে থাকা আয়লানের নিথর দেহের ছবি গোটা দুনিয়ার কাছে সিরিয়ার শরণার্থীদের ভয়াবহ দুর্দশার কথা তুলে এনেছিল। তুরস্ক কর্তৃপক্ষ মৃত বাচ্চাটির প্রথমে নাম দেয় আয়লান। যদিও শিশুটির আত্মীয়া জানান, তাদের পরিবার চায়, ওকে আলান বলা হোক।

আজ আয়লানের মৃত্যুর ঘটনায় সিরিয়ার দুই মানব পাচারকারীর প্রত্যেককে চার বছর ২ মাসের কারাবাসের সাজা দিল তুরস্কের আদালত। সে দেশের সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, দুজনকে মানুষ চোরাচালানে দোষী সাব্যস্ত করে বোদরামের আদালত। তবে তাদের ‘ইচ্ছাকৃত উদাসীনতার ফলে’ পাঁচজনের মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণ হলে সাজা হওয়ার কথা ৩৫ বছরের কারাবাসের।

ডোগান সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মুওয়াফাকা আলাবাস ও আসেম আরফারহাদ নামে দুই সিরিয় নাগরিককে উদ্বাস্তু পাচারে দোষী ঘোষণা করেছে আদালত।

গোটা ট্র্যাজেডিতে জড়িয়ে পড়েছেন আয়লানের বাবা আবদুল্লা কুর্দি। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। বিপর্যয়ের সময় তিনি নৌকার চালকের আসনে ছিলেন বলে অভিযোগ।

বিচারপর্বে আসেম আরফারহাদও বলেছে, আসল অপরাধী হল নৌকাযাত্রার আয়োজনকারী আবদুল্লা কুর্দি। টিভিতে সে হিরো হয়ে উঠলেও সাক্ষ্য দিতে আসেনি! যদিও কুর্দির বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয় আদালত।

ঘটনাচক্রে ইউরোপে দলে দলে শরণার্থীদের পাড়ি দেওয়ার স্রোত রুখতে কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে ৭ মার্চ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরডোগানের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান ডোনাল্ড টাস্কের। তার আগেই ঘোষিত হল দুই মানব পাচারকারীর সাজা। তুরস্কে সাধারণত বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে মাসের পর মাস, এমনকী কখনও বছরও লেগে যায়। সম্ভবত, মানুষ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিতে তারা আন্তরিক, এটা বোঝাতেই বিচার শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সাজা ঘোষণা করা হল।

সূত্র: এবিপি আনন্দ

মন্তব্য