সহপাঠীর ঘুষিতে ছাত্রের মৃত্যু-332049 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


সহপাঠীর ঘুষিতে ছাত্রের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৬ ১১:৩৮



সহপাঠীর ঘুষিতে ছাত্রের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় সহপাঠীর সঙ্গে নিছক রসিকতা করেছিল ছেলেটি। তাতিই রেগে গিয়েছিল অপর এক সহপাঠী। এর পর 'দেখে নেওয়া'র হুমকি তাকে। তার পর শুরু কোচিং ক্লাসের দুই পড়ুয়ার মধ্যে মারামারি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু! বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের একটি ইংরেজি কোচিংয়ের ক্লাসে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম নাম ময়াঙ্ক সুরেকা (১৫)। ময়াঙ্কের পরিবারের তরফে তারই সহপাঠী নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের বাসিন্দা অপর পড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো এ দিনও স্কুলের পর কোচিং সেরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার কথা ছিল ময়াঙ্কের। দুপুরে কোচিং থেকে হঠাৎ ফোন যায় তার মা কবিতা সুরেকার কাছে। ময়াঙ্ক অসুস্থ জানিয়ে ডেকে পাঠানো হয় তাকে। তিনি পরিজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সেখানে যান।

ময়াঙ্কের প্রতিবেশী স্বদেশ চক্রবর্তী বলেন, ''গিয়ে দেখি মাটিতে পড়ে রয়েছে ময়াঙ্ক। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই তাকে। সেখানে চিকিৎসকরা ময়াঙ্ককে মৃত ঘোষণা করেন।'' ওই হাসপাতাল থেকেই মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আরজি করে পাঠায় পুলিশ।

এ দিন বিডন স্ট্রিট-সংলগ্ন যদু পণ্ডিত রোডে ময়াঙ্কদের বাড়িতে গেলে তার বাবা বিনোদকুমার সুরেকা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে ময়াঙ্কের মেসো বিজয়কুমার হরভজনকা বলেন, ''আমরা দোষীর উপযুক্ত শাস্তি চাই। কোচিংয়ের শিক্ষক কেন ময়াঙ্কের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন না, তা-ও জানতে চাই।''

কোচিংয়ের ওই শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময়ে ওই শিক্ষক শৌচাগারে ছিলেন। মারপিটের শব্দ এবং চিৎকার শুনে বেরিয়ে এসে তিনি দেখেন সোফায় পড়ে রয়েছে ময়াঙ্ক।
এ দিন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে অবশ্য কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশিরা জানান, অভিযুক্তের বাবা একটি ব্যবসা করেন। তারাও ঘটনায় হতবাক। তাদের বক্তব্য, ছেলেটি মেধাবী হলেও বরাবর সে অল্পেই রেগে যায়। পাড়ায় কেউ তার সঙ্গে সামান্য রসিকতা করলেও রেগে যেত সে।

অভিযুক্ত কিশোরের প্রতিবেশী বুদ্ধদেব শীল বলেন, ''পাড়ায় কুকুর তাড়া করলে তাকে পাল্টা তাড়া করতে যেত সে।'' পড়শিরা জানান, এই ধরনের স্বভাবের জন্য বড়দের কাছে নিয়মিত বকাও খেত সে।

এ দিন সন্ধ্যায় লালবাজারের কর্তারা জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। কোচিং ক্লাসে উপস্থিত ময়াঙ্কের অন্য সহপাঠীরা জানায়, স্কুলে দুজনের মধ্যে রসিকতাকে কেন্দ্র করে বিপত্তির সূত্রপাত। তার পরই ময়াঙ্ককে 'দেখে নেওয়ার' হুমকি দেয় অভিযুক্ত।

এর পর কোচিংয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই দুজনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তার জেরেই মারপিট। ময়াঙ্ককে হঠাৎ ঘুষি মারে অভিযুক্ত কিশোর। এর পরই ময়াঙ্ক নিস্তেজ হয়ে পড়ে বলে জানায় সহপাঠীরা।

মন্তব্য