kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এই সাত প্রাণী সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৬ ২২:৫৩



এই সাত প্রাণী সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার!

আজ ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ডে। বন্যপ্রাণী পাচার রুখতে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জারড স্পেসিস অব ওয়াইল্ড ফনা অ্যান্ড ফ্লোরার কনভেশনে আন্তর্জাতিক চুক্তিরে স্মরণে রাখতেই এই দিন উদযাপন।

তবে, ঢাকঢোল পিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালনের আয়োজন হলেও, এই প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা সাধিত হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ আমাদের দেশেই এখনো বন্যপ্রাণীদের নিয়ে বেআইনি ব্যবসা এখনো অব্যাহত। আসুন, সবাই মিলে লুপ্তপ্রায় সেই প্রাণীদের অস্তিত্বরক্ষায় একজোট হই।

বিশ্বজুড়ে সংগঠিত অপরাধের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেআইনি বন্যপ্রাণী ব্যবসা। অস্ত্রপাচার, মানবপাচার, মাদকপাচারের পরেই সবচেয়ে বেশি হয় বন্যপ্রাণীপাচার। ভারতে এই অপরাধ রুখতে কড়া আইন থাকলেও, তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিত্যদিন এই বেআইনি ব্যবসা চলছে রমরমিয়ে।

প্যাঙ্গোলিন
বিশ্বের এই একমাত্র আঁশযুক্ত স্তন্যপায়ী এশিয়া ও আফ্রিকায় দেখায় যায়। তবে, এর মাংস বিক্রির জন্য এটিকে বেআইনিভাবে পাচার করা হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে। এছাড়াও এদেরে আঁশ, রক্ত ও শরীরের অন্যান্য অংশ চিনের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

গেকো গেকো
পাচার হতে হতে এই প্রাণীটি উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গল থেকে প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে। এর শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে চিনে ওষুধ ও হুইস্কি তৈরি করা হয়। গেকো গেকোর তৈরি ওষুধ খেয়ে ডায়বেটিজ বা AIDS সারে, এমন ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে অনেকের মধ্যে। অনেকে আবার এটিকে বাড়িতেও পোষেন।

স্টার টরটয়েজ
এই কচ্ছপের খোলসটির গায়ে তারার মতো ছোপ ছোপ থাকে। এই প্রাণীটি সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে অনেকে বাড়িতে বা মন্দিরে রাখেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বেআইনিভাবে এই প্রাণীটি বিভিন্ন দেশে পাচার করে চোরাশিকারীরা।

পাহাড়ি ময়না
পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে ক্রমেই কমে আসছে এই পাহাড়ি ময়না। মানুষের ভাষায় কথা বলা ছাড়াও বিভিন্ন শব্দ করতে পারে এই পাখিটি। এটিও ধরে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে চোরাশিকারীরা।

পেঁচা
লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা। অনেকের মনে কুসংস্কার রয়েছে, এর ডানা, হাড়, মাংস ও শরীরের অন্যান্য অংশ ঘরে রাখলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। সেজন্যই পেঁচা পাচার করে মোটা টাকা আয় করে চোরাশিকারীরা।

রেড স্যান্ড বোয়া বা দুমুখো সাপ
দু মুখো সাপ ক্রমেই বিলুপ্ত হতে বসেছে। বিষহীন এই সাপ বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে এই ধারণা থেকে এর দিকে নজর রয়েছে চোরাশিকারীদের। বিক্রির সময় এগুলিকে তরল পারদ বা স্টিলের বল বিয়ারিং খাইয়ে দিয়ে ওজন বাড়িয়ে নেয় চোরাশিকারীরা।

শামুক
শামুক দিয়ে গয়না, পেনস্ট্যান্ড, পেপারওয়েট বা ঘর সাজানোর জিনিস তৈরির হিড়িকে বেআইনিভাবে শামুকের বিক্রির বাড়বাড়ন্ত। মাত্রাতিরিক্ত হারে শামুক তুলে এনে বিক্রির ফলে সমুদ্রতলের ইকোসিস্টেমেও বিস্তর প্রভাব পড়ছে।

এদের রক্ষায় কী কী করা উচিত?
* বন্যপ্রাণী ব্যবসা করবেন না বা কোনোভাবে এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়বেন না
* বন্যপ্রাণীদের শরীরের অংশ দিয়ে তৈরি কোনো জিনিস কিনবেন না
* কেউ সেসব বিক্রি করছে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তর, পুলিশ স্টেশন বা বন্যপ্রাণীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় খবর দিন।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য