'দত্তক নিন ছেলেকে' পথে দাঁড়িয়ে আবেদন-331726 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


'দত্তক নিন ছেলেকে' পথে দাঁড়িয়ে আবেদন বাবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫১



'দত্তক নিন ছেলেকে' পথে দাঁড়িয়ে আবেদন বাবার

ব্যস্ত রাস্তা। ফুটপাথের ওপর দিয়ে সাধারণ মানুষরা যাতায়াত করছেন। হঠাৎ নজরে আসতেই আঁতকে উঠছেন প্রায় সকলে। কেউ আবার দাঁড়িয়েও পড়ছেন একটা প্ল্যাকার্ড দেখে। একটা আবেদন। চার বছরের শিশুসন্তানকে দত্তক নেওয়ার আবেদন এক বাবার! এক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর নিজের ছেলেকে চীনের একটি ব্যস্ত রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে জনসমক্ষে তিনি একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল, 'এই শিশুকে দত্তক নিতে কেউ আগ্রহী?'

চীনের জংইয়াং প্রদেশে বাড়ি ট্যাং নামে ওই ব্যক্তির। ব্যবসায়ী ট্যাং একসময়ে নিজের সংস্থায় ১ মিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করেন। কিন্তু, ভাগ্য খারাপ থাকায় তাঁর প্রয়াস কাজে লাগেনি। আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। শেষপর্যন্ত ২০০৭ সালে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হন তিনি। এরপর নিজের সংসার চালানো, বাড়ি ভাড়া দেওয়া, সর্বোপরি দুই ছেলেকে খাওয়ানোর টাকা তিনি জোগাড় করতে পারছিলেন না। অতএব অন্য এক পথ বেছে নিলেন তিনি। চার বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে সোজা চলে আসেন চিনের আনহু প্রদেশের একটি ব্যস্ত রাস্তায়।

সেখানে ছেলের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে দেন। এবং নিজের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড রাখেন। ট্যাংয়ের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, আমার ছেলেকে কে দত্তক নেবেন? ট্যাংয়ের শিশুপুত্রের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, কীভাবে দেউলিয়া হয়েছেন ট্যাং। এবং কী জন্য তিনি নিজের ছেলেকে দত্তক দিতে চাইছেন। সেই সঙ্গে, ওই শিশুর আরজি ছিল, আমাকে দত্তক নাও (প্ল্যাকার্ডের লেখা অনুযায়ী)।

আশ্চর্য হলেও, অনেকেই এর প্রতিবাদ করেছেন। বেশ কয়েকজন আবার বিষয়টিকে সোশাল নেটওয়ার্কেও ছড়িয়ে দিয়েছেন। অনেকে আবার ওই শিশুকে দত্তক নেওয়ার জন্য নিজের ফোন নম্বর পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন। অনেকের মনে আবার প্রশ্ন জেগেছে, ওই শিশু পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে যাবে না তো ? না, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

সমালোচনার মুখে অবশ্য পিছু হটেছেন ট্যাং। তবে, তাঁর সাফাই, এটা একটা 'আর্ট'। তিনি শুধু নিজের অবস্থাটা মানুষের কাছে জানাতে চেয়েছিলেন। তবে, নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি।

মন্তব্য