kalerkantho


সৈকত জুড়ে হাজার হাজার মরা মাছ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুন, ২০১৫ ১৩:০০



সৈকত জুড়ে হাজার হাজার মরা মাছ

সৈকত জুড়ে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার মরা মাছ। মোহনার পানি কি তবে বিষিয়ে গিয়েছে? না কি মাছের মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? নানা আশঙ্কায় দিশেহারা নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দারা। রহস্য সমাধানে নামলেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা।

নিউ ইয়র্কের সাফোক কাউন্টির জনবহুল এলাকা লং আইল্যান্ড। দ্বীপভূমির উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের মাঝে পেকোনিক নদী এসে অতলান্তিক মহাসাগরে মিশেছে। মনোরম এই সৈকত পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে সমুদ্রতটে হঠাত্‍ ভেসে এসেছে কয়েক হাজার মৃত বাঙ্কার মাছ। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, মরা মাছ থেকে ছড়াতে পারে মারাত্মক দূষণ। আপাতত মোহনার পানি পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সৈকতে স্নান করতে নামার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় পুর প্রশাসন।

কিন্তু কী কারণে প্রাণ হারাল মাছের ঝাঁক?

স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার গব্লার জানিয়েছেন, প্রতি বছর পেকোনিক নদীতে মাছের ঝাঁক মারা যায়। কিন্তু এবারের ঘটনা একটু অন্য রকম।

অধ্যাপকের মতে, মোহনার পানিে অক্সিজেনের অভাবই মাছের মৃত্যুর পিছনের মূল কারণ। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার নাগাড়ে ৬ ঘণ্টা পেকোনিক মোহনার পানি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, পানিে অক্সিজেনের উপস্থিতি এতই কম যে তাতে যে কোনও প্রাণের অস্তিত্ব টেকা মুশকিল।

কিন্তু কী কারণে আচমকা মোহনার পানিে অক্সিজেনের অভাব ঘটল?

অধ্যাপক গব্লারের মতে, এর পিছনে রয়েছে প্রোরোসেট্রাম শ্যাওলা। তিনি জানিয়েছেন, গত মে মাস থেকে মোহনার পানিে বিপুল হারে জন্মাচ্ছে এই শ্যাওলা। নদীর পানিে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এই উদ্ভিদ। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই প্রক্রিয়া চলার ফলে মাছের দেহে অ্যানক্সিয়া ঘটায় তারা প্রাণ হারায়।

তবে অধ্যাপকের যুক্তি মানতে নারাজ রিভারহেড সুপারভাইজার শন ওয়াল্টার। তাঁর মতে, 'ব্লু ফিশের তাড়া খেয়েই পেকোনিক নদীর পানিে ভেসে আসতে বাধ্য হয়েছে বাঙ্কার মাছের ঝাঁক। আর সেই হুড়োহুড়িতেই ওদের মৃত্যু হয়েছে। '

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বসন্তে ব্লু ফিশদের বার্ষিক অভিবাসনকালীন মিছিলের তাড়ায় পেকোনিক নদীর দু' তীরের অজস্র অগভীর খাঁড়িতে ঢুকে পড়তে বাধ্য হয় তুলনায় নিরীহ বাঙ্কার মাছেরা। অল্প পানিে আচমকা এত বেশি সংখ্যক মাছ জড়ো হওয়ার ফলে অক্সিজেনের ভাঁড়ারে টান পড়ে। তার জেরে মারা পড়ে মাছেরা। এইসময়

মাছের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে টানাপোড়েন চলছে, চলবে। তবে মোহনার পানিে অক্সিজেনের মাত্রা কী ভাবে স্বাভাবিক করা যায়, আপাতত তাই নিয়ে মাথা ঘামাতে ব্যস্ত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।


মন্তব্য