kalerkantho

নারী দিবস

বিভীষিকা ভুলে পথ চলা নারী মাহমুদা ফেরদৌস

নিয়ামুল কবির সজল, ময়মনসিংহ    

৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৮



বিভীষিকা ভুলে পথ চলা নারী মাহমুদা ফেরদৌস

এসএসসি পরীক্ষার আগেই ধনাঢ্য পরিবারের এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় মাহমুদা ফেরদৌসকে। বাবা-মা'র স্বপ্ন ছিল ধনী পরিবারে গিয়ে সুখী হবে মেয়ে। সংসার হবে সাজানো গোছানো। মেয়ের সুখ দেখে তাঁরাও সুখী হবেন। কিন্তু বিধি বাম। মেয়ের কপালে সুখ আর জুটল না। বিয়ের পরই যৌতুকলোভী স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শুরু করল অত্যাচার।  

সব কিছু সহ্য করে সংসারে টিকে থাকলেন মাহমুদা। মেনে নিলেন সব কষ্ট আর নির্যাতন। সময় বয়ে চলল। কোলজুড়ে আসলো এক সন্তান।

মাহমুদা ভাবল তার এ কষ্টের দিন বোধ হয় শেষ হতে চলল।  কিন্তু সামনে হাজির হলো স্বামীর আরেক কদর্য রূপ। নেশাগ্রস্ত স্বামী এখন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠলেন।  

মাহমুদা বুঝলেন, তাঁর এ জীবন বড় অন্ধকারাচ্ছন্ন। একমাত্র লেখাপাড়াই তাঁকে নতুন জীবনের সন্ধান দিতে পারে। লেখাপাড়া করে সাবলম্বী হওয়ার কোনও বিকল্প নেই তাঁর সামনে। তাই মনেপ্রাণে লেখাপড়ার দিকেই ঝুঁকলেন।  

কিন্তু এখানেও বাধা। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কোনওভাবেই চান না মাহমুদা লেখাপড়া শিখুক। তারা মাহমুদার লেখাপড়ার বিষয়ে নানাভাবে বাধা দিতে লাগলেন। এইচএসসি পরীক্ষার আগের রাতে সব বই পুড়িয়ে ফেললেন স্বামী আব্দুল্লাহ। উদ্দেশ্য, যেন পরীক্ষা দিতে না পারে। পরীক্ষা দিলেও যেন ফেল করে। তবে থেমে থাকার মতো নারী নন মাহমুদা, এগিয়ে যেতে থাকলেন। একসময় তাঁর ওপর নেমে আসে আরও কঠিন নির্যাতন। তাকে ঘরে আটকে রেখে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দেওয়া হয়, দেওয়া হয় সিগেরেটের ছ্যাকা। মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। একপর্যায়ে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে হত্যার চেষ্টাও চালান স্বামী।  

এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে বাবার বাসায় চলে আসেন মাহমুদা। নতুন উদ্যমে শুরু করেন পড়াশুনা। একপর্যায়ে এমএ পাশ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলা লিংকে ডাটা এন্ট্রি ও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। একটি মাদ্রাসায় অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে  নিয়োগও পেয়েছেন। নিজের দুই সন্তানকে নিজের অর্থে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। ভর্তি হয়েছেন ময়মনসিংহ আইন মহাবিদ্যালয়ে।  

তাঁর ইচ্ছে তিনি আইনজীবী হয়ে তার মতোই হরদম নির্যাতিত সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়াবেন- যাদের। জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন মাহমুদা। এবার ময়মনসিংহ বিভাগে সেরা জয়িতা তিনি।


মন্তব্য