kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সব সময় নিজের সেরাটা দিয়ে যাব

মডেলিং, উপস্থাপনা, আরজে, অভিনয়—সব ক্ষেত্রেই তিনি সফল। মাত্র তিন বছরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে নুসরাত ফারিয়া। অচিরেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে কাজ করবেন বলিউডে। মাসিদ রণকে নিজের সফলতার পেছনের সেই গল্প শোনালেন ফারিয়া। ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সব সময় নিজের সেরাটা দিয়ে যাব

ঢাকাতেই কেটেছে ছোটবেলা। বাবা সেনা কর্মকর্তা।

  বুঝতেই পারছেন, অন্যদের থেকে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলাটা আমার জন্য একটু বেশিই প্রযোজ্য ছিল। খুব সাধারণ জীবন যাপন করেছি। অন্য সবার মতোই স্কুলজীবনের আগে সারা দিন বাসায়ই থাকতাম। কোনো আয়োজনে যোগ দেওয়া ছাড়া ঢাকার ভেতরে কোনো আত্মীয়ের বাসায়ও তেমন একটা যেতাম না। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে গ্রামের বাড়ি যেতাম। সেখানেও নিজের মতো করে সারা দিন বাসার বাইরে টো টো করে ঘুরে বেড়াতে বা বাচ্চামি করতে পারিনি। সব সময় চোখে চোখে রেখেছেন মা। মানুষের সঙ্গে যতটা মেশা উচিত ততটাই মিশতে দিতেন, বাড়াবাড়ি কখনোই তাঁর পছন্দ নয়। ছোটবেলায় আমার জগতে ছিল শুধু মা-বাবা আর বড় বোন। বাইরেও যে একটা বিশাল জগৎ আছে, সেটি আবিষ্কার করি স্কুলে গিয়ে। দেখি, আমার মতো একই বয়সের কত কত মানুষ। তাদের একেকজনের চেহারা যেমন আলাদা, তেমনি কথাবার্তা, চিন্তাভাবনাও আলাদা। এগুলো আমাকে খুব টানত। তাই স্কুলে মজা পেয়ে গেলাম। এমনও হতো, সামান্য অসুস্থ হলে মা স্কুলে যেতে দিতে চান না; কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা—স্কুলে যাবই।

স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হতো। সেখানে উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমার যোগ্যতা দেখানো শুরু করলাম। অনুষ্ঠানে আবৃত্তিও করতাম। মাঝেমধ্যে ছোটদের নাটকে অভিনয়ও চলত। মনে আছে, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্যারদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলাম। এসব ছোট ছোট ঘটনা আমার মনে মিডিয়ায় প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে। একসময় নাচের স্কুলে ভর্তি হলাম। দারুণ লাগত নাচতে। নিজের পুরোটা উজাড় করে দিয়ে নাচে মিশে যেতাম। কলেজ শেষ করে ভর্তি হই বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে লেখাপড়া করার সময় হঠাৎ করেই পুরোদস্তুর উপস্থাপনা শুরু করি। বলতে গেলে কলেজের সব অনুষ্ঠানেই উপস্থাপনার জন্য আমার ডাক পড়ত। বন্ধুদের পরামর্শে উপস্থাপনার পাশাপাশি শুরু করেছিলাম ফটোশুট। আরজে হিসেবে কাজ করলেও তখন তেমনভাবে পরিচিতি পাইনি। ২০১৩ সালে বলিউডের মিউজিক সেনসেশন সুনিধি চৌহান ঢাকায় আসেন। সেই অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ছিলাম আমি। ওই এক অনুষ্ঠানই আমাকে জনপ্রিয় করে তোলে। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রস্তাব পেতে থাকলাম। আজ এই অনুষ্ঠান তো কাল মডেলিং। টিভির জনপ্রিয় শোগুলো তো ছিলই, সেই সঙ্গে নিজের নামে রেডিও শো, দারুণ সব বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়া, স্টেজে বড় বড় শো উপস্থাপনার পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশন—সবই চলতে থাকে। শুধু বাদ ছিল অভিনয়। আগে থেকেই সচেতনভাবে নিজেকে নাটক থেকে বিরত রেখেছিলাম। চেয়েছিলাম বড় কোনো ছবিতে অভিনয় করে সরাসরি দর্শকের সামনে আসতে। সেটাও বাস্তব হলো। বাংলাদেশের বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’ থেকে অভিনয়ের অফার পেলাম। প্রথমেই সুযোগ পেলাম যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘আশিকি’তে। সেখানে নায়ক হিসেবে পেলাম কলকাতার হার্টথ্রব অভিনেতা অঙ্কুশকে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বর্তমানে কাজ করছি যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘বাদশা’য়। এই ছবির শুটিং শেষ হতে না হতেই আমার সাফল্যের পালকে যুক্ত হবে নতুন কিছু। অভিনয় করব বলিউডের একটি ছবিতে। সেখানে নায়ক হিসেবে পাশে থাকবেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক রণদীপ হুদা। দর্শকদের এত আগ্রহের কারনেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি, যখনই ভালো কাজের সুযোগ পাব, তখনই নিজের সেরাটা দিয়ে যাব।


মন্তব্য