শান্তি মিশনে প্রথম নারী কনটিনজেন্ট-333316 | নারী দিবস বিশেষ সংখ্যা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


শান্তি মিশনে প্রথম নারী কনটিনজেন্ট কমান্ডার

২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে একটি কনটিনজেন্টের নারী কমান্ডার হিসেবে যোগ দিতে পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টে রওনা হন কর্নেল ডা. নাজমা বেগম। স্বামী ইঞ্জিনিয়ার দিলদার-উল-ইসলামের সঙ্গে কথা বলে কর্নেল ডা. নাজমা বেগমের সাফল্যের গল্প তুলে ধরছেন কাজী হাফিজ

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শান্তি মিশনে প্রথম নারী কনটিনজেন্ট কমান্ডার

১৯৬৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন নাজমা বেগম। তিনি যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তখন তাঁর বাবা নইমুল ইসলাম ব্লাড ক্যান্সারে মারা যান। বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে নাজমাদের পরিবারে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। তাদের ছয় ভাই-বোনের  লেখাপড়া, ভরণপোষণের জন্য সংগ্রাম শুরু হয় মা বেগম জুলেখা ইসলামের। সে সংগ্রামে সহযোগী হন নাজমাও। দীর্ঘ সে সংগ্রামের পরের কাহিনী ধারাবাহিক সাফল্যের। সে সাফল্য নাজমার একার নয়। তাঁর ভাই-বোনদেরও। সর্বোপরি তাঁর মা বেগম জুলেখা ইসলামেরও। সে কারণেই তিনি পেয়েছেন রত্নগর্ভা মা পুরস্কার। নাজমা বেগমও তাঁর সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করেছেন। তাঁদের বড় মেয়ে স্বপ্নিল দীতিষা চিকিৎসক। ছোট মেয়ে অনাবিল দিগর্ণাও মেডিক্যালের ছাত্রী।

নাজমা এখন কর্নেল ডা. নাজমা বেগম। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে একটি কনটিনজেন্টের নারী কমান্ডার হিসেবে যোগ দিতে আইভরি কোস্টে রওনা হন। তাঁর নেতৃত্বে ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট সেনাবাহিনীর একটি মেডিক্যাল কনটিনজেন্ট ওই রাতে জাতিসংঘের একটি ভাড়া করা বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এ দলের ছয়জনই নারী।  সেনাদলটি সেখানে লেভেল-২ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেবে। ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইভরি কোস্টে সুনামের সঙ্গে শান্তিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে।

কর্নেল ডা. নাজমা বেগমের স্বামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. দিলদার-উল-ইসলাম কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানান।

নাজমা বেগমের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক নীলফামারী থেকে। ১৯৮৫ সালে এমবিবিএস রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে। সেনাবাহিনীতে আর্মি মেডিক্যাল কোরে কমিশন লাভ করেন ১৯৯৩ সালে। নাজমা যখন রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন তখন মো. দিলদার-উল-ইসলামও ওই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র। পরে তিনি তাঁর শিক্ষার বিষয় মেডিক্যালের বদলে ইঞ্জিনিয়ারিংকেই বেছে নেন। 

চিকিৎসক হিসেবে নাজমা বেগমের নামের সঙ্গে এমবিবিএস ছাড়াও যুক্ত এমপিএইচ (বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়), সিসিইউ, সি-অল্ট্রি (ইউএসএ), ডিএমএইউডি, পিএইচডি (ইউএসএ) ডিগ্রি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথম নারী হিসেবে কনটিনজেন্ট কমান্ডার হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম নারী অধিনায়ক হিসেবে ২১ ফিল্ড অ্যাম্বুল্যান্সের নেতৃত্ব দেন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব মেডিক্যাল সার্ভিসেস (এডিএমএস) হিসেবে ১১ পদাতিক ডিভিশনে (বগুড়া সেনানিবাস) কর্মরত ছিলেন। আইভরি কোস্টে যাওয়ার জন্য  মেডিক্যাল কনটিনজেন্টের কমান্ডার নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ চার মাস তাঁকে ওই কনটিনজেন্ট প্রস্তুত করতে হয়। ২০০৮-০৯ সালেও আইভরিকোস্টে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সে সময় তাঁর স্বামী মো. দিলদার-উল-ইসলাম সেখানে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নাজমা লিখেছেন ‘শান্তিরক্ষী নারী যোদ্ধা’ ও ‘আটলান্টিকপাড়ের শান্তিরক্ষী ডায়েরি’ নামের দুটি বই। সে সময় একটি ফরাসি ম্যাগাজিনে প্রকাশ হয়েছিল ইংরেজিতে লেখা নাজমার একটি কবিতা ‘দ্য এন্ডলেস সান উইল প্রে ফর লং’।

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন তিনি। লিখেছেন অনেক বই। এসব বইয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার পদক, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পদক, নীলফামারী বার্তা পদক, জগজিৎ সিং পদক, বেগম সুফিয়া কামাল পদক, মাদার তেরেসা পদক ও সাংবাদিক ঐক্য ফাউন্ডেশন পদক।

মন্তব্য