kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারী এখন বিচারক হওয়ার যোগ্য

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তাঁর এই সাফল্যের গল্প শুনিয়েছেন আশরাফ-উল-আলম

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নারী এখন বিচারক হওয়ার যোগ্য

বিএসসি ডিগ্রি নেওয়ার পর আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন নাজমুন আরা সুলতানা। কারণ তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল, সন্তানদের কেউ একজন আইনজীবী হবে।

ছোটবেলায় বাবাকে হারান। এ কারণে বাবার স্বপ্ন পূরণের মানসিকতা থেকে তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মোমেনশাহী (ময়মনসিংহ) ল কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে এলএলবি লাভ করেন। ১৯৭২ সালেই ময়মনসিংহের আদালতে ওকালতি শুরু। শুরুতে লোকজন ব্যঙ্গবিদ্রূপ করত। মেয়েরা ওকালতি করতে পারবে না—এমন কথাই বলাবলি করত। মা রশীদা সুলতানা সাহস জোগাতেন, উৎসাহ দিতেন।

আইনজীবী হিসেবে বাবার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর তাঁর ইচ্ছা হলো বিচারক হবেন। কিন্তু তত্কালীন আইন অনুসারে নারী বিচারক হওয়ার যোগ্য নয়। ১৯৭৪ সালে রাষ্ট্র মনে করল, নারীও বিচারক হওয়ার যোগ্য। এরপর বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন।

নাজমুন আরা সুলতানা কর্মজীবনে প্রথম নারী বিচারক হিসেবে খুলনার জেলা আদালতে, পরে নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন নাজমুন আরা সুলতানা। ঢাকায়ও মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন। কয়েক দফা পদোন্নতির পর ১৯৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজ হিসেবে নিয়োগ পান। পরে যোগ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে।

আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার পর এখন তিনি তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চের নেতৃত্বও দিচ্ছেন। শুধু আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি নন, হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতিও তিনি। নিম্ন আদালতের বিচারক হিসেবে নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম নিয়োগ পেয়েছিলেন। জেলা জজ হিসেবেও নাজমুন আরা সুলতানা প্রথম নারী বিচারক।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। যখন নারী বিচারকদের নিয়ে সংগঠন প্রতিষ্ঠা সহজ ছিল না, তখন তিনি সব নারী বিচারককে এক করতে পেরেছিলেন। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়ে প্রমাণ করেছেন, নারী এখন বিচারক হওয়ার যোগ্য।


মন্তব্য