kalerkantho


তোমারই প্রতীক্ষায় | পারভেজ সোহরাব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২১:৩৪



তোমারই প্রতীক্ষায় | পারভেজ সোহরাব

নামিরাকে দেখে চমকে উঠল রাতুল। যার জন্য নিজের এলাকার সেরা কলেজে ভর্তি না হয়ে দূরের কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে এই বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হলো, সেখানেই নামিরা! তার বন্ধুরা হয়ত বিশ্বাসও করবে না যে, সে জানতনা নামিরা এখানে পরে। নামিরাই এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করল,  'কেমন আছ?' শুকনো হাসি দিল রাতুল। 

নামিরা আবার জিজ্ঞাসা করল,  'তুমি এখানে ভর্তি হয়েছ?' 

- 'হুঁ'।

- 'আমি আছি জানলে হয়ত হতেনা?'

- 'সেটাই তো স্বাভাবিক, তাই না?'

মুহুর্তেই যেন ফ্লাশব্যাকে রাতুলে মনে পরে গেল স্কুল লাইফের ঘটনা। ডানপিটে স্বভাবের রাতুল স্কুল জীবনে সারাদিন থাকত খেলা, ডিবেট, লিটল ম্যাগ এসব নিয়ে। এরই মধ্যে ও যখন এইটে, তখন স্কুলে নাইনে ভর্তি হয় নামিরা। প্রথম দেখাতেই যেন কী হয়ে যায় রাতুলের। কয়েকদিনের মধ্যেই অবশ্য ডিবেট ক্লাবের প্রোগ্রামের সূত্র ধরে বন্ধুত্ব হয়ে যায় দুজনের। স্কুলের হয়ে ইন্টার স্কুল ডিবেটে রানার্সআপও হয়। সেদিনই নামিরাকে প্রপোজ করে রাতুল। নামিরা কিছু না বলেই চলে যায়। রাতুল ভাবে, সে কী ভুল করল!

কিছুক্ষণ পর তার মোবাইলে নামিরার টেক্সট, 'তোমার চেয়ে আমি বড়, তাই এটা সম্ভব না। আর আশা করি ভবিষ্যতে আমরা দূরত্ব বজায় রেখে চলব।'

রাতুল সরাসরি কিছু না বললেও নামিরাকে ফলো করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে নামিরা একদিন বিরক্ত হয়েই রাতুলকে বলে, 'তুমি এসব করলে হয়ত আমার পরিবার আমার পড়াশুনাই বন্ধ করে দিবে। যদি ভালোইবাসো, আর বিরক্ত করো না।'

-রাতুউউউল।

ক্লাসমেটের ডাকে রাতুল বাস্তবে ফিরে এল। তারপর থেকেই রাতুল নামিরার থেকে দূরেই থাকত। রাতুল নিজেকে বলল, বাবার অনেকগুলো টাকা খরচ করে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সে। এখানে এমন কিছু করা যাবেনা, যা তার বাবার মনোকষ্টে কারণ হয়। এর মধ্যে মাঝে মাঝে টুকটাক কথা হয় রাতুল আর নামিরার। কিন্তু রাতুল একটা দূরত্ব বজায় রাখে নামিরা সেটা বোঝে। 

তিন মাস পর। রাতুলকে কোথাও পাচ্ছেনা নামিরা। শুধু ওর এক ক্লাসমেটের কাছে শুনল, ওর বাবার ট্রান্সফার এর কারণে ও ক্রেডিট ট্রান্সফার করে চলে গেছে। ফোন নাম্বার বন্ধ, ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাক্টিভ। বুকের মাঝখানে দলা পাকিয়ে ওঠে নামিরার তবে কি সেও....!!

আট মাস পর।

রাতুল হেঁটে হেঁটে নতুন ক্যাম্পাস থেকে বের হচ্ছে আর ভাবছে, ওর বাবা যখন ওকে বলল তার ট্রান্সফার হয়েছে রাতুল কি করবে, মা হারা রাতুল বলেছিল- 'তোমাকে ছাড়া তো থাকিনি থাকবওনা। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে নেব।'

আজ দুই সেমিস্টার শেষ হল এখানে। নামিরাকে ভোলার চেস্টা করছে সে। মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে রাস্তার ওপারে দেখল নামিরাকে! চমকে উঠল সে! ও এখানে কীভাবে? নামিরার কাছে যেতেই নামিরা তাকে জড়িয়ে ধরল। সবার সামনে গালে চুমু এঁকে দিল। আর বলল তোমাকে হারিয়েই বুঝেছি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম।

- কিন্তু আমার ঠিকানা কিভাবে পেলে?

- নামিরা মুচকি হেসে বলল মন থেকে চাইলে কি না পাওয়া যায়?

রাতুল বলল, 'তা আর বলতে....'

*শুধু নির্বাচিত গল্পগুলো ধারবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। নির্বাচিত গল্পগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৫ জনকে বেছে নেওয়া হবে।


মন্তব্য