kalerkantho


দাদী | ইলিয়াস হোসেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:০৮



দাদী | ইলিয়াস হোসেন

বিকেলের রোদটা খুব দ্রুতই পড়ে যাচ্ছে, একটু তাপের আশায় পৌত্রীকে দিয়ে চেয়ার আনিয়ে বসেছেন কিছুক্ষণ আগেই; যেখানটায় রোদ পাওয়া যায়। হাঁটাহাটি আগের মতো করতে পারেন না, শরীর নিষেধ করে দিয়েছে; তাই কারো সাহায্য নিয়ে প্রতিদিন একটু রোদে এসে বসেন,ভালই লাগে। ডান হাতের লাঠিটা ইদানিং বিশ্বস্ত কোনও পরিচারিকা হয়ে গেছে উনার।

চোখের দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে আসছে দিনকে দিন; তিনি যেখানটায় বসে আছেন তার ঠিক সামনেই পায়ে হাঁটার কাচা গ্রাম্য রাস্তাটা বয়ে গেছে।রাস্তার পাশের জমিতে সরিষা প্রায় পেকে যাচ্ছে, এখানে কয়দিন পরেই আবার পেয়াজ,সেই সাথে মরিচ চারা লাগানো হবে। রাস্তা দিয়ে সারাক্ষণই বিভিন্ন কিসিমের মানুষের যাতায়াত।

ঝাপসা চোখে বিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সী রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোন যুবককে দেখলেই তার বুকটা কেমন জানি করে উঠে। মনের অজান্তেই ডাক দিয়ে বসেন-

চঞ্চল নাকিরে? অই তুমি ক্যারা?
বড়মা, আমি তো অমুকের পোলা অমুক। কেমন আছেন আপ্নে?
ওওও!আল্লায় ভালই রাখছে।অই আমার চঞ্চল ফোন দ্যায় না তুমার কাছে?
হ, কাকার সাথে তো মাঝে মাঝে কথা অয়।ক্যান আপ্নেরে ফোন দ্যায় না,কথা কয় না?
কেমন আছে ও?ফোন দ্যায়, আমি তো কানে বেশী হুনি না,কথা বুঝিও না। ফোন করে,কথা কয় আমার সাথে। তয় আসে না তো ম্যালাদিন।
তুমারে ফোন কল্লে আসপার কইয়ো, ওরে। আমারে জানি দেইখা যায়।

মমতাময়ী এই বয়স্কা 'আদুরজান বিবি' আমার দাদী; নিয়মিতই ঠিক এই ভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে উনার আদরের এই নাতির খবর নেন।

শুধু নির্বাচিত গল্পগুলো ধারবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। নির্বাচিত গল্পগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৫ জনকে বেছে নেওয়া হবে।



মন্তব্য