kalerkantho

টাইমপাস

আনিসুর বুলবুল   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:১০



টাইমপাস

- 'যদি কিছু মনে না করেন', না, আমি ফযলে লোহানীর সেই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের কথা বলছি না; আমি স্রেফ আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি! একটু হেল্প করবেন আমাকে?

অফিসের ওয়াইফাই রেঞ্জের মধ্যে আসা মাত্রই দেখি ফেসবুকে কয়েকটি মেসেজ এসেছে! সাধারণত পরিচিত না হলে খুব একটা ফেসবুক মেসেজের উত্তর দেওয়া হয় না! কিন্তু কৌতুহলী হয়ে এই মেসেজটার উত্তর দিলাম স্রেফ একটি অক্ষর লিখে!

- বলেন!

আমি তার মেসেজটা দেখেছি দেড় ঘণ্টা পরে! অথচ আমার উত্তর সিন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা উত্তর এলো!

- আসলে আমি নিরুপায় হয়ে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি! আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। আমার বিশ্বাস; শুধুমাত্র আপনিই আমাকে হেল্প করতে পারবেন। এবার বলেন হেল্প করবেন কি না?

এতো বড় মেসেজ এত দ্রুত টাইপ করা সম্ভব নয়! তারমানে আগেই রেডি করা ছিলো! আমার কৌতুহল বেড়ে যায়। আমি প্রোফাইল ঘাঁটতে তার ওয়ালে চলে যাই। ওয়াল দেখে ফেক আইডি মনে হয়! হাতে কাজের চাপ কম থাকায় চ্যাটিং কন্টিনিউ করলাম।

- কি সমস্যায় পড়েছেন?

এবার যা হবার তাই হলো! সমস্যার কথা না বলে তিনি আমার সাথে ভাব জমাতে লাগলেন!

- তার আগে আপনি আমাকে তুমি করে বলেন!

আমিও কম যাই না! ফেক আইডি ধরে নিয়েই এগুতে থাকি!

- কিন্তু কেনো আপনাকে তুমি করে বলবো?

- না মানে; আমি আপনার চেয়ে অনেক ছোট!

- তো! আমার অনেক কলিগও তো আমার চেয়ে ছোট; তারপরও তো আপনি করেই বলি!

- আমি তো আর আপনার কলিগ না!

- আমার পরিচিতও তো না!

- ও এই কথা! তাহলে আসেন পরিচিত হই ..

- কোথায় আসবো বলেন?

মেসেজ সিন হলো ঠিকই কিন্তু কোনো উত্তর এলো না। আমি তো ধরেই নিয়েছি এটা ফেক আইডি। তাই চ্যাটিং বন্ধ করে পূনরায় কাজে মন দিলাম। ঘণ্টাখানেক পর দেখি আবারও মেসেজ এসেছে সেই আইডি থেকে।

- আপনি কোথায় আসতে চান?

আমি আর দেরি করলাম না। লিখে ফেললাম,

- আপনি যেখানে বলবেন।

- তাহলে একটা কাজ করেন ..

- কি কাজ?

- আগে আমাকে একটু হেল্প করেন!

- বলেন।

সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো,

- আসলে আমি নিরুপায় হয়ে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি! আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। আমার বিশ্বাস; শুধুমাত্র আপনিই আমাকে হেল্প করতে পারবেন। এবার বলেন হেল্প করবেন কি না?

এতো বড় মেসেজ এত দ্রুত টাইপ করা সম্ভব নয়! তারমানে আগেই রেডি করা ছিলো! আমার কৌতুহল আরও বেড়ে যায়। আমি তার প্রোফাইল ঘাঁটতে তার ওয়ালে চলে যাই। ওয়াল দেখে ফেক আইডি মনে হয়! হাতে কাজের চাপ কম থাকায় চ্যাটিং কন্টিনিউ করলাম।

- কি সমস্যায় পড়েছেন?

এবার যা হবার তাই হলো! সমস্যার কথা না বলে তিনি আমার সাথে ভাব জমাতে লাগলেন!

- তার আগে আপনি আমাকে তুমি করে বলেন!

আমিও কম যাই না! ফেক আইডি ধরে নিয়েই এগুতে থাকি!

- কিন্তু কেনো আপনাকে তুমি করে বলবো?

- না মানে; এই যে এতোক্ষণ আমি আপনার সঙ্গে চ্যাট করলাম!

- তো ..

- এখন আমাকে তুমি বলতে হবে!

- আজব! 

- হুম, আজবই ...

- হেল্পের সাথে আপনি-তুমির কি সম্পর্ক?

- আছে ..

- কী?

- আগে তুমি বলেন, বলছি!

চ্যাটিং বেশ জমে যায় আমাদের। পাল্টাপাল্টি মেসেজ চলতে থাকে। একই কথা বারবার ফিরে আসে। সেও কম যায় না। আমিও কম যাই না। অবশেষে আসল নাম জানা যায় কি না ট্রাই করি। লিখে ফেললাম,

- ঠিক আছে বলো তোমার নাম কি?

- মানে? 

- মানে তোমার নাম?

- প্রোফাইলে তো লেখাই আছে?

- তাই!

- তাই মানে?

- তাই মানে তাই!

- কেনো তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না!

এবার সে ধপ করে আপনি থেকে তুমিতে নেমে যায়। আমি আশ্চর্য হই! প্রশ্ন করি,

- তুমি হঠাৎ আমাকে তুমি করে বলছো যে?

- হ্যাঁ বলছি ..

- কিন্তু কেনো?

- আগে আমাকে একটু হেল্প করো!

- বলো।

সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো,

- আসলে আমি নিরুপায় হয়ে তোমার শরণাপন্ন হয়েছি! আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। আমার বিশ্বাস; শুধুমাত্র তুমিই আমাকে হেল্প করতে পারবে। এবার বলো হেল্প করবে কি না?

এতো বড় মেসেজ এত দ্রুত টাইপ করা সম্ভব নয়! তারমানে আগেই রেডি করা ছিলো! আমার কৌতুহল আরও বেড়ে যায়। আমি তার প্রোফাইল ঘাঁটতে তার ওয়ালে চলে যাই। ওয়াল দেখে ফেক আইডি মনে হয়! হাতে কাজের চাপ কম থাকায় চ্যাটিং কন্টিনিউ করলাম।

- কি সমস্যায় পড়েছো সেটাই তো বলছো না?

এবার যা হবার তাই হলো! সমস্যার কথা না বলে সে আমার সাথে ভাব জমাতে লাগলো! 

- তার আগে তোমার নাম বলো? 

- মানে? 

- মানে তোমার নাম?

- প্রোফাইলে তো লেখাই আছে?

- তাই!

- তাই মানে?

- তাই মানে তাই!

- কেনো তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না!

আমার এতক্ষণ রেগে যাওয়ার কথা! কিন্তু রাগ হচ্ছে না। মজাই পাচ্ছি। আমার কথাগুলো আমাকেই ফেরত দিচ্ছে কৌশলে!

এভাবে আপনি থেকে তুমি; তুমি থেকে তুইতে গিয়ে ঠেকে! কিন্তু তার সেই হেল্পের কথা বলা হয় না আর! 

- বার্তাজীবী


মন্তব্য