kalerkantho


কবি পৌলোমী সেনগুপ্ত

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



কবি পৌলোমী সেনগুপ্ত

(জন্ম : ২৩ ডিসেম্বর ১৯৬৯—মৃত্যু : ১৭ অক্টোবর ২০১৮)

আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর ম্যাগাজিন বিভাগের এক্সিকিউটিভ এডিটর

 

কালের কণ্ঠ’র ঈদ সংখ্যা ২০১৪ ও ২০১৫-তে

কবিতা দুটি ছাপা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে

পুনর্মুদ্রণ করা হলো

 

 

সাময়িক

সময় একটি মাদকদ্রব্য।

নাক দিয়ে ঢুকলে বেরোয় মাথা ফুঁড়ে

আর হূদয়ে ঢুকলে?

আর তো কথাই নেই

বুক ফেটে চৌচির

 

সকালের সময় একটু অলস গতিতে ওড়ে

ফুরফুর করে ধোঁয়া টানার মতো

তাকে ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ করলে

সারা দিনের মতো অন্তরে ছেয়ে যায়

যেন করালকালো মেঘ ঘনিয়েছে

বাজ পড়ছে

আর টিপটিপ সারা দিন ধরে

চোখে জল

 

দুপুরে সময় ধারাবাহিকভাবে

স্রোতের মতো বয়ে যায়

তরল আগুন

সকালে কাঁদিয়েছ

বিকেলে সহ্য করো গর্জন!

মাতালের মতো টলতে টলতে সময়

আছড়ে পড়ে পাকস্থলীতে

তারপর শুধুই নাটক

 

অথচ রাতে সে একেবারেই অন্য রকম

একটু পাগল একটু লক্ষ্মীছাড়া একটুখানি মিচকে শয়তান

নেশা যেমন ছড়ায় শিরায় শিরায়

ঠিক তেমন আগুনে চলন

 

ভোররাতে সময় ঘুমোয়

নেশা ছাড়ার পর যেমন আকুল

যেমন বিরক্ত

যেমন বোধহীন

 

সময়কে বাঁধতে সেটাই প্রশস্ত সময়

লম্বা দড়ি দিয়ে বেঁধে

ফেলে দিতে হবে মাঝসমুদ্রে।

 

পথিক

সামনে শুধু মেঘের আনাগোনা

পেছনে পড়ে মানুষবিহীন পথ

হাত ধরেছে গাছের ডালপালা

পায়ের নিচে শ্যাওলার সম্পদ

 

আমার চোখের দৃষ্টিতে পাথর

আমার কানে ভোমরার ফিসফিস

আঙুল এখন কিবোর্ড-নির্ভর

জিভে এখন হত্যাকারী বিষ

 

তার মানে কি এখন পাখি ওড়ে?

তার মানে কি আকাশ মেঘময়?

দিনের শেষে অন্ধকারে একা

সময় থাকে নির্ভীক নির্দয়?

 

অনেক পথ পেরিয়ে আসা পায়ে

কাঁটা ফুটলে আর হয় না রাগ

আলো ফুটলে দেখতে পাব ঠিক

পায়ের নিচে ক্ষতস্থানের দাগ

 

ভোরবেলায় থমকে থাকে কথা

বিকেল ওড়ে রোদ্দুরে ভর দিয়ে

দুপুরে দেখি মানুষ নেই পথে

আমার গল্প পথের শেষ নিয়ে।



মন্তব্য