kalerkantho

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স ম ৎ স্য গ ন্ধা

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘সেই ঘটনাটি ঘটার আগের কিছু কথা আছে মুনিবর। তা শুনলে মূল ব্যাপারটি আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আসল ঘটনাটি অদ্ভুত, অভূতপূর্ব, বিস্ময়কর। কিন্তু পটভূমিটি বিশ্বাসযোগ্য, বাস্তব।’ ধীরে ধীরে বলে গেল মত্স্যগন্ধা।

পরাশর বললেন, তোমার কথা বলার ধরন দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তন্বী। আগে অহংকার ছিল—মুনি-ঋষিরাই বুঝি গুছিয়ে বলতে পারঙ্গম, তাঁদের সংস্পর্শে এসে রাজা-মহারাজারাও বক্তৃতা দিতে জানেন। কিন্তু তুমি মত্স্যগন্ধা, তুমি তো সুসংস্কৃত জগত্ থেকে বহুদূরের এক ধীবরপল্লীতে বড় হয়ে উঠেছ, তোমার তো এ রকম করে কথা বলতে জানার কথা নয়। তুমি কিভাবে এ রকম গোছানো কথা বলছ, বাসবী?’ দীর্ঘক্ষণ কথা বলে মুনির যেন একটু হাঁপ ধরে গেছে। মুখটা বড় করে একটা শ্বাস টানলেন তিনি।

ঋষি পরাশরের এ প্রশ্নের কী উত্তর দেবে মত্স্যগন্ধা? এ প্রশ্নের উত্তর যে তার জানা নেই! কেন যে এ রকম গোছানো শব্দগুচ্ছ তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, তা কি তার জানা আছে। সুসভ্য আর্যদের মতো এ রকম ভারী ভারী শব্দ বলে কী করে সে—ভাবতে নিজেরই বিস্ময় লাগছে তার। মুনির প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না মত্স্যগন্ধা। জলের দিকে তাকিয়ে আপন মনে বৈঠা চালাতে লাগল।

একটা সময়ে মুখ তুলল সে। বলল, ‘সেই পটভূমিকাটাই বলি ঋষিবর?’

পরাশর মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘বলো।’

মত্স্যগন্ধা বলতে থাকল—

রাজা উপরিচর বসুর মহিষীর নাম গিরিকা। গিরিকা রাজার একমাত্র স্ত্রী। রাজাদের তো রমণীসম্ভোগের সীমা নেই। প্রধান-অপ্রধান মিলে তাঁদের নারীর সংখ্যাও অগণন। কিন্তু উপরিচর রাজাদের মধ্যে ব্যতিক্রম। গিরিকা ছাড়া রাজপ্রাসাদে বা প্রাসাদের বাইরে তাঁর অন্য কোনো রমণী নেই। এক নারীতে তুষ্ট তিনি। তিনি গিরিকাকে ভালোবাসেন। এই ভালোবাসা অপার আর নিখুঁত। দরবারে বসে রাজকার্য পরিচালনা করলেও তাঁর মন পড়ে থাকে অন্তঃপুরে, গিরিকার কাছে। গিরিকা অতুলনীয় রূপসী, স্বামীনিষ্ঠ।

একবার স্বর্গবাসী পিতৃপুরুষের মঙ্গল আকাঙ্ক্ষায় মস্তবড় এক যজ্ঞের আয়োজন করলেন উপরিচর। আয়োজন শেষে কুলপুরোহিত বললেন, ‘এই আয়োজনের প্রধান যে শর্ত, তা এখনো পালিত হয়নি মহারাজ।’

বসুরাজ করজোড়ে বললেন—‘কী শর্ত, গুরুদেব? আদেশ করুন। সেই শর্ত পালনে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’

‘আপনাকে যে একবার মৃগয়ায় যেতে হবে, মহারাজ।’ কুলগুরু বললেন।

‘মৃগয়ায়! এই সময়ে! যজ্ঞানুষ্ঠান আরম্ভ করার মুখে!’

‘হ্যাঁ, মহারাজ। এটাই এই যজ্ঞের প্রধান শর্ত। পিতৃগণের সন্তুষ্টির জন্য যে যজ্ঞ, তা শুরুর আগে যজ্ঞ আয়োজনকারীকে মৃগয়ায় যেতে হয়।’

একটুক্ষণ কী যেন ভাবলেন উপরিচর। তারপর চোখমুখ উজ্জ্বল করে বললেন, ‘অবশ্যই যাব গুরুদেব। আমি মৃগয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সেনাপতিকে নির্দেশ দিচ্ছি।’

কুলগুরু ডান হাতখানি আশীর্বাদের ভঙ্গিতে ওপরের দিকে তুললেন। মৃদুকণ্ঠে বললেন, ‘রওনা দেওয়ার আগে দুটি দিন দুটি রাত পবিত্র জীবন যাপন করতে হবে আপনাকে। স্ত্রীসঙ্গ বর্জন করতে হবে।’ মৃগয়ায় যাত্রার দিন গিরিকা স্বামীর সামনে এসে দাঁড়ালেন। মুখটা তাঁর প্রেমস্পর্শী, বাসনাপ্রবণ। কী যেন একটা বলতে চান তিনি রাজাকে। কিন্তু লজ্জায় বলতে পারছেন না। বলার জন্য ভেতরে ভেতরে ছটফট করছেন তিনি। বসুরাজ বুকের কাছে টেনে নিলেন গিরিকাকে। হঠাত্ কুলপুরোহিতের কথা মনে পড়ে গেল তাঁর। ছিটকে স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হলেন মহারাজ। নিজেকে সংযত করলেন। বললেন, ‘রানি, বুঝতে পারছি—কিছু একটা বলতে চাইছ তুমি আমায়।’ কণ্ঠকে একেবারে নরম করে রাজা আবার বললেন, ‘বলো, কী বলতে চাইছ।’

তাঁর বক্ষের কাছ থেকে রাজাকে ছিটকে পড়তে দেখে বেশটুকু অবাকই হয়েছিলেন মহিষী গিরিকা। স্বামীর কোমল কণ্ঠ শুনে আশ্বস্ত হলেন। স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে সলজ্জগলায় বললেন, ‘এই মুহূর্তে তোমায় আকাঙ্ক্ষা করছি আমি।’

‘আকাঙ্ক্ষা করছ! এই মুহূর্তে।’ দিশাহারা ভাব রাজার। ‘হ্যাঁ, এখনই তোমার সঙ্গ চাই আমি। ঋতুমতী হয়েছি। ঋতুস্নান শেষে কামাতুর হয়ে পড়েছি আমি। আমাকে তুষ্ট করো তুমি, রাজা।’

‘তা কী করে হয়।’

‘হবে না কেন? তুমি আমার স্বামী। আমার বাসনা প্রবল। স্ত্রীর বাসনার নিবৃত্তি ঘটানো স্বামীর কর্তব্য।’

‘কিন্তু আমি যে সেই দায়িত্ব পালনে এই মুহূর্তে একেবারেই অক্ষম, মহিষী।’

‘কেন?’

‘আমি যে পিতৃকুল কল্যাণে যজ্ঞ করছি।’

‘যজ্ঞের সঙ্গে স্ত্রীকে বঞ্চিত করার সম্পর্ক কী, মহারাজ?’

‘আমাকে যে মৃগয়ায় যেতে হচ্ছে।’

‘তো।’

‘কুলপুরোহিত বলে দিয়েছেন, যজ্ঞ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীসঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে আমায়। এর ব্যতিক্রম ঘটলে নাকি যজ্ঞানুষ্ঠান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। পিতৃকুল অসন্তুষ্ট হোক, তা চাই না আমি।’ স্বামীর কথা শুনে মাথা নিচু করলেন গিরিকা। মৃদু পায়ে রাজার সামনে থেকে সরে দাঁড়ালেন। মুখে কিছু বললেন না। কামাবিষ্ট দৃষ্টিতে রাজার দিকে তাকিয়ে থাকলেন শুধু।

রাজার অন্তরে উথাল-পাথাল ঢেউ উঠল। কামান্ধতার ঢেউ। চোখেমুখে কামকাতরতার চিহ্ন ফুটে উঠল। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করলেন উপরিচর। তারপর পায়ে পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন। পেছনে পড়ে থাকলেন কামাতুরা ঋতুস্নাতা মহিষী গিরিকা।

রাজা চললেন বটে মৃগয়ায়; কিন্তু তাঁর মনপ্রাণ পড়ে থাকল রাজ অন্তঃপুরে, রানি গিরিকার কাছে।

মৃগয়া করতে গভীর অরণ্যে প্রবেশ করলেন বসুরাজ। কিন্তু মৃগয়ায় মন নেই তাঁর। অতিনিকট থেকে পশুরা অলস পায়ে চলে যাচ্ছে, রাজা তীর নিক্ষেপ করছেন না। সব কিছু দেখছেন তিনি; কিন্তু কিছুই যেন লক্ষ করছেন না। পারিষদগণের সেনাপ্রধানদের বিস্ময়ের সীমা থাকে না। ব্যাপার কী! নৃপতি তো এ রকম নন। তিনি তো অতি নিপুণ একজন তীরন্দাজ। তাঁর তীরের আওতাধীন হয়ে আজ পর্যন্ত কোনো পশু প্রাণ নিয়ে তো পালিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু আজ প্রাণহরণ দূরের কথা, তীরও যে নিক্ষেপ করছেন না মহারাজা! উপরিচর তীর ছুড়বেন কী করে। তিনি যে তাঁর মধ্যে নেই। তাঁর সমস্ত অন্তর জুড়ে যে বাসনাবঞ্চিত মহিষী গিরিকা।

রাজা উপরিচর এসেছেন কোলাহল নামের গহিন-গভীর অরণ্যে। এখানকার বৃক্ষগুলো গায়ে গায়ে লাগানো। সূর্যের আলো বৃক্ষপত্র ভেদ করে মাটিতে পৌঁছতে পারে না। এই অরণ্য নানা পশুপাখিতে পূর্ণ। কোলাহল অরণ্যে মৃগয়া সহজতর। সহজে সিদ্ধ শিকারকার্যটিও রাজা সম্পন্ন করতে পারছেন না।

‘এর পেছনে কারণও আছে একটা।’ বলল মত্স্যগন্ধা।

পরাশর আলতো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী কারণ।’

মত্স্যগন্ধা বলতে থাকল—এই অরণ্যেই গিরিকার সঙ্গে উপরিচরের প্রথম দেখা। গিরিকা তখন কুমারী আর উপরিচর যুবরাজ। যুবরাজ বসু কোলাহল অরণ্যে সাথিদের নিয়ে মৃগয়ায় এসেছিলেন সেদিন। শিকার করতে করতে দূর থেকে দেখতে পেয়েছিলেন গিরিকাকে। রূপ দেখে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন যুবরাজ। গিরিকার সঙ্গে যেচে কথা বলেছিলেন। গিরিকা জানিয়েছিলেন—তিনি পিতৃমাতৃ পরিত্যক্তা। তাঁর বাবার নাম সচেতন, মা শক্তিমতী। সচেতন ছিলেন কামান্ধ। প্রবল বলশালী সচেতন জোর করে শক্তিমতীকে দখল করেছিলেন। জন্ম নিলেন গিরিকা। কামাতুররা যা হয়, ঠিক সে রকমই সচেতন। প্রয়োজন ফুরালে শক্তিমতীকে ত্যাগ করে গেলেন সচেতন। কন্যা একটু বড় হতে না হতেই শক্তিমতী মারা গেলেন। সেই থেকে এই অরণ্যে গিরিকা। অরণ্যই গিরিকার মা, গিরিকার বাবা। অরণ্যলালিত গিরিকার কথা শুনে যুবরাজের হূদয় দ্রবীভূত হয়ে গেল। রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন যুবরাজ বসু, গিরিকাকে। প্রথমে বেশ দ্বিধান্বিত ছিলেন গিরিকা। অরণ্যকন্যা জন-অরণ্যে ঘেরা রাজধানীতে খাপ খাওয়াতে পারবেন তো! শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে গিয়েছিলেন গিরিকা। রাজি না হয়ে উপায়ও ছিল না। তাঁর হূদয় যে তখন যুবরাজের জন্য প্রেমে পরিপূর্ণ!

গিরিকাকে নিয়ে যুবরাজ বসু রাজধানীতে ফিরলেন। চেদিরাজ্যের রাজা তখন কৃতক। কৃতক যুবরাজ বসুর পিতা। কৃতক পুত্রের কাণ্ড দেখে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলেন। পরে প্রধান অমাত্যকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—এর পেছনে রহস্য কী? রাজধানীতে এত এত কুমারী থাকা সত্ত্বেও এই অরণ্যকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে এলো কেন যুবরাজ? রহস্য উন্মোচন করে যথাশিগগির আমাকে জানান। প্রধান অমাত্য অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উন্মোচন করেছিলেন। মহারাজ কৃতকের কাছে এসে বলেছিলেন—যুবরাজ এই অরণ্যকন্যাকে ভালোবেসে ফেলেছেন, মহারাজ।

ভালোবেসে ফেলেছে! বনবাসিনী এই মেয়েটিকে! বিস্ময়ে আবিষ্ট কণ্ঠে বলে উঠেছিলেন মহারাজ কৃতক।

প্রধান অমাত্য সমৃদ্ধগলায় বলে উঠেছিলেন, এই ভালোবাসা গাঢ়-গভীর।

কী বলেন আপনি! রাজার কণ্ঠ থেকে বিস্ময় কাটে না।

হ্যাঁ, মহারাজ। আমার কথায় একবিন্দু মিথ্যা নেই। গুপ্তচর আমাকে বানানো তথ্য দেয়নি।

তাহলে এখন আমি কী করি! বলে কিছুক্ষণ গুম হয়ে থাকলেন মহারাজ।

প্রধান অমাত্য কী যেন একটা পরামর্শ দিতে চাইলেন; কিন্তু মহারাজ কৃতকের গাম্ভীর্য দেখে নীরব থাকলেন।

অনেকক্ষণ পর মহারাজ কৃতক আবার বললেন, আমি কী করি এখন!

প্রধান অমাত্য সাহসে ভর করে বললেন—একটা কাজ করলে হয় না, মহারাজ?

কী কাজ? গুরুগম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন কৃতক।

ওদের দুজনকে বিয়ে করিয়ে দিলে কেমন হয়। গলাটা একটু কেঁপে উঠেছিল প্রধান অমাত্যের।

প্রধান অমাত্যের কথা শুনে ভাবনার আরো গভীরে ডুবে গিয়েছিলেন মহারাজ।

বহুক্ষণ পর মাথা তুলেছিলেন। স্পষ্ট চোখে প্রধান অমাত্যের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করুন অমাত্য।

মহারাজ অতি ধুমধামের সঙ্গে যুবরাজ বসুর সঙ্গে গিরিকার বিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর একদিন চোখ বুজলেন কৃতক। পিতার মৃত্যুর পর চেদিরাজ্যের রাজা হলেন বসু।

তার পরও বহু বছর কেটে গেল। বিয়ের পর আর কোনো দিন কোলাহল অরণ্যে আসেননি উপরিচর। পিতৃকুলের দায়িত্ব পালনের জন্য সেই অরণ্যে মৃগয়ায় এসেছেন রাজা। স্মৃতিময় অরণ্যে এসে উপরিচরের ভালো লাগার কথা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হলো না। ভালো লাগাকে অস্থিরতা দখল করে বসল। এক গভীর উচাটন ভাব উপরিচরের সমস্ত মন জুড়ে। চঞ্চল মন নিয়ে কি মৃগয়া করা যায়? যায় না। তাই তো তার চারদিকে, অতি নিকটে পশুরা ঘুরে বেড়ালেও তীর নিক্ষেপ করছেন না চেদিরাজ।

দিন শেষে রাত আসে। রাত গভীর হয়। গভীর রাতে মানুষের মন স্থির হয়। উপরিচরের ক্ষেত্রে তা হলো না। রাজার কামনাঋদ্ধ অস্থিরতা উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল। একসময় রাজার মনে হলো—এই বুঝি তাঁবুর মধ্যে তাঁর শয্যাপাশে রানি গিরিকা শুয়ে আছেন। স্বল্প বসনা তিনি। রাজার চোখে রানির নগ্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি বিমুগ্ধ ও আত্মহারা হলেন। বাহ্যজ্ঞান বিযুক্ত হলেন উপরিচর। রানির দিকে হাত বাড়ালেন রাজা। ওই সময় রাজার শুক্র স্খলিত হলো।

রাজা তত্ক্ষণাত্ সংবিতে ফিরলেন। হায় হায়! একি হলো। এ যে অসংযমী মানুষের আচরণ! এ আচরণ তো তাঁর জন্য খাটে না। প্রথমে অস্থির হলেন তিনি, পরে সংযত হলেন। মনকে শক্ত করলেন। মনে মনে ঠিক করলেন—স্খলিত শুক্রকে বিফলে যেতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু কী করবেন তিনি এখন, এই গভীর রাতে? কিছু তো একটা করতেই হবে। নইলে যে তিনি ব্যর্থ শুক্রের মানুষ হিসেবে নিরূপিত হবেন। মানুষ হয়তো জানবে না; কিন্তু নিজেকে, নিজের বিবেককে ফাঁকি দেবেন কী করে?

মনে মনে সেই রাতে গভীর এক সিদ্ধান্ত নিলেন উপরিচর। এই স্খলিত শুক্র রানি গিরিকার কাছে পাঠিয়ে দেবেন তিনি। কিন্তু কী উপায়ে! এই অরণ্য যে রাজধানী থেকে বহু বহু যোজন দূরে। উপায়ও একটা বের করলেন রাজা। বাজপাখির ঠোঁটে করে রানির কাছে এই স্খলিত শুক্র পাঠাবেন তিনি। বাজপাখিটি তাঁর নিজের নাম—পঙ্খি কুশলী সে। পঙ্খি পরীক্ষিত। মানুষের কথা বুঝতে পারে পঙ্খি। রাজধানীর পথ তার ভালো করে জানা। সেই রাতে একটা বটপত্রে স্খলিত শুক্র ধারণ করে রাখলেন রাজা উপরিচর।

প্রত্যুষে শিকারি বাজপাখিটিকে নিয়ে আসতে বললেন উপরিচর বসু। দেহরক্ষী রাজার আদেশ পালন করল।

রাজা বাজপাখিটির কানের কাছে মুখ নিয়ে চাপা স্বরে বললেন, এই বটপত্রটি ঠোঁটে ধারণ করো। শক্ত করে ধারণ করবে। এবং এটা অক্ষত অবস্থায় মহিষী গিরিকার কাছে পৌঁছে দেবে। বলে স্খলিত শুক্রসমেত বটপত্রটি শ্যেনটির সামনে এগিয়ে ধরলেন উপরিচর।

 



মন্তব্য