kalerkantho


মজার বিজ্ঞান

ডিমের ডুবসাঁতার!

নাবীল অনুসূর্য

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ডিমের ডুবসাঁতার!

কী কী লাগবে একটা জগ, ডিম, লবণ ও পানি।

ধরো, তোমার সামনে একটা জারভর্তি পানি আছে। জারের বদলে স্বচ্ছ বড় মগ বা জগ হলেও চলবে। তাতে টুক করে একটা ডিম ছেড়ে দিলে। ডিমটা প্রথমে ডুবে যেতে শুরু করল বটে, কিন্তু জারের একেবারে তলা পর্যন্ত পৌঁছল না। মাঝামাঝি এসে ভেসে রইল। তখন কি মনে হবে না, ডিমটা ডুবসাঁতার দিচ্ছে?

সে আবার কেমন কথা? ডিম কখনো সাঁতার কাটে নাকি! না, কাটে না। কিন্তু বিজ্ঞানের জাদু দিয়ে ডিমকেও ডুবসাঁতার কাটানো সম্ভব। সে জন্য অবশ্য ছোট্ট একটা কৌশল অবলম্বন করতে হবে। জারের অর্ধেকটা স্যালাইন পানি, মানে লবণ গোলানো পানি দিয়ে ভরে নিতে হবে। আর বাকিটা ভরতে হবে শুধু পানি দিয়ে। পানিটুকু অবশ্য ধীরে ধীরে ঢালতে হবে, তাড়াহুড়া করা যাবে না। এবার তাতে টুক করে ডিম ছেড়ে দিলেই দেখা যাবে জাদু—ডিমটা জারের মাঝখানে গিয়ে ভাসতে থাকবে।

ব্যাপারটা ভীষণ আশ্চর্যজনকই বটে। তবে এর পেছনে বিজ্ঞানের যে সূত্রগুলো কাজ করে, সেগুলো জেনে গেলে একে ভীষণই মামুলি ব্যাপার মনে হবে। কোনো বস্তু পানিতে ডুববে না ভাসবে, সেটা শুধু সেই বস্তুর ওপর নির্ভর করে না। বস্তুটা তখন যতটা পানি সরিয়ে দিল, তার ওজনের ওপরও নির্ভর করে। একটা বস্তুকে পানিতে ছেড়ে দিলে সে যতটা পানি সরিয়ে দেয়, সেই পানির ওজন যদি বস্তুটার ওজনের চেয়ে বেশি হয়, তাহলেই বস্তুটা ভাসবে। আর বস্তুর ওজন বেশি হলে সেটা ডুবে যাবে। এই সূত্র আবিষ্কারের আনন্দেই আর্কিমিডিস ‘ইউরেকা! ইউরেকা!’ বলে দিগম্বর হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন রাজার কাছে।

এই একই সূত্র প্রয়োগ করেই ডিমটাকে ডুবসাঁতার কাটানো গেছে। তবে একটু ভিন্নভাবে। ঘটনা হলো, সাধারণ পানির চেয়ে স্যালাইন পানির ওজন বেশি। ফলে একটা ডিম পানিতে ছেড়ে দেওয়া হলে সেটা যে পরিমাণ পানি সরিয়ে দেয় তার চেয়ে ডিমের ওজন হয় বেশি। তাই সেটি পানিতে টুক করে ডুবে যায়। কিন্তু ডিমটা যে পরিমাণ স্যালাইন পানি সরায়, তার ওজন আবার ডিমের চেয়ে বেশি। ফলে সেটা আবার স্যালাইন পানিতে ভেসে থাকে। আর স্যালাইন পানির ঘনত্ব বেশি বলে তার সঙ্গে সাধারণ পানি মিশে না। তাই একই জারে ঢালার পরও দুটিই আলাদা থেকে যায়। স্যালাইন পানি থেকে যায় নিচে, আর সাধারণ পানি ওপরেই। কিন্তু দুটির রং একই বলে দেখে মনেই হয় না ওখানে দুই ধরনের পানি দুই স্তরে আলাদা হয়ে আছে। এদিকে ডিমটা সাধারণ পানিতে ডুবে গেলেও স্যালাইন পানির ওপরে ভেসে থাকায় মনে হয়, ডিমটা বুঝি জারের পানিতে ডুবসাঁতার দিচ্ছে!



মন্তব্য