kalerkantho

অদ্ভুত

বিনহাইয়ের চোখ

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিনহাইয়ের চোখ

বই পড়ছেন এমন সময় আবিষ্কার করলেন কিছু একটা বড় বড় চোখ মেলে একদৃষ্টে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, কেমন লাগবে?

ভালো লাগার কথা না। বই পড়ার সময় অমন দৃষ্টি অগ্রাহ্য করাও সম্ভব না; কিন্তু আপনি যদি চীনের বিনহাই লাইব্রেরিতে যান, সে ক্ষেত্রে আপনি হয়তো এই তাকিয়ে থাকার ব্যাপারটিকে মেনে নিতে রাজি হবেন। ঘোলাটে লাগছে? তাহলে খুলেই বলি। চীনের তিয়ানজিন প্রদেশের এই গ্রন্থাগারের বৈশিষ্ট্য হলো—এর ঠিক মাঝখানে প্রকাণ্ড একটি গোলাকার অডিটরিয়াম আছে, যেটা দেখতে মানুষের বিশাল এক চোখের মতো। বই পড়ার সময় মনে হবে ওটা যেন আপনাকে দেখছে।

ডাচ্ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমভিআরডিভি আর চীনের স্থানীয় আর্কিটেক্টরা মিলে বিনহাই জেলায় এই অসাধারণ লাইব্রেরি নির্মাণ করেছেন। ‘বিনহাইয়ের চোখ’ নামে পরিচিত ৩৪ হাজার বর্গমিটারের গ্রন্থাগারটি বানাতে সময় লেগেছে তিন বছর। অন্তত ১২ লাখ বই ধারণের ক্ষমতা আছে লাইব্রেরিটিতে। প্রথম দিন থেকেই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। দিনে প্রায় ১০ হাজার লোক এখানে আসে। তিন তলা এই পাঠাগারের নিচের তলায় আছে পড়ার জায়গা, দোতলায় লাউঞ্জ এবং তিন তলায় অফিস, কম্পিউটার ঘর ইত্যাদি। তবে অমন অসাধারণ লাইব্রেরির মধ্যে বসে পড়া কতটুকু হবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। দর্শণার্থীরা যে এর নির্মাণকৌশল দেখেই মুগ্ধ হয়ে বসে থাকেন।

প্রথমদিকে অবশ্য কর্তৃপক্ষ দর্শকদের সঙ্গে কিঞ্চিৎ মশকরা করতে ভোলেনি। গ্রন্থাগারের বেশির ভাগ বইয়ের জায়গায় শুধু কম্পিউটারে প্রিন্ট করা বইয়ের প্রচ্ছদ সেঁটে রাখা হয়েছিল সেলফে। তবে এখন লাইব্রেরিটি পুরোদমে পড়ার জায়গা হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে জনসাধারণের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিপুল বইয়ের সংগ্রহ এবং চমৎকার নির্মাণকৌশলের কারণে স্থানীয় চীনা পাঠক ও বিদেশিদের কাছে এরই মধ্যে বিনহাইয়ের এই লাইব্রেরি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে।

অমর্ত্য গালিব চৌধুরী


মন্তব্য