kalerkantho


ফিচার

কুয়াশা তোমার বাড়ি কই

আজ থেকে শুরু পিঠাপুলির পৌষ। শীতের বুড়িমাও বসে নেই। চাদর জড়িয়ে এরই মধ্যে বেড়াতে শুরু করেছে গ্রামে-শহরে, ধানের ক্ষেতে। কীসের চাদর পরেছে, বলো তো? কুয়াশার! কিন্তু এই কুয়াশা জিনিসটা কী? কিভাবে তৈরি হয়? জানাচ্ছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কুয়াশা তোমার বাড়ি কই

কুয়াশা অন্য কিছু নয়, বিশুদ্ধ পানি। কিন্তু এটা মেঘও হয় না, বৃষ্টিও হয় না। কুয়াশা কুয়াশাই থাকে। আর সূর্য ওঠামাত্রই আবার উবে যায়। বছরজুড়ে দেখা মেলে না তার। আসে শুধু শীতের সময়ই। কিন্তু কেন?

কুয়াশা তৈরির পেছনেও আছে বিজ্ঞানের সূত্র। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, গরম একটা কাপে যদি ঠাণ্ডা পানি ঢালো, তবে পানিটাও একটু গরম হয়ে যাবে। কারণ বেশি তাপ সব সময় কম তাপের দিকে ছোটে। এই ছোটার কাজটা সমুদ্রেও ঘটে। সমুদ্রটা বিশাল বড়। দেখা গেল এর একদিকে গরম পানির স্তর, আরেকদিকে কণকণে ঠাণ্ডা। গরম পানির স্তরের ওপরের বাতাসটাও থাকে গরম। সমুদ্রের বাষ্প মেশানো সেই গরম বাতাস ছুটে আসে ঠাণ্ডার দিকে। এদিকে শীতকালে ওই ঠাণ্ডা সমুদ্রের পাশের ভূখণ্ডও থাকে ঠাণ্ডা। সেখানকার বাতাসে আগে থেকেই জমে থাকে জলীয়বাষ্প। অনেক দূর থেকে ছুটে আসে গরম হাওয়াটা, সেখানে এসেই ঠাণ্ডায় জমে যায়। বন্ধ হয়ে যায় তার ছোটাছুটি। এরপর? এরপর সমুদ্রের তীর ঘেঁষে থাকা বড় ভূখণ্ডে (যেমন আমাদের দেশ) বেড়ে যায় ঠাণ্ডা বাতাসের পরিমাণ। আর সেই বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্পগুলো গাদাগাদি করে থাকতে শুরু করে। জলীয়বাষ্পের কণাগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়ে গিয়েই তৈরি করে কুয়াশা। এবার আমার কথাগুলোর সঙ্গে ওপরের ছবিটা মেলাও। দেখবে কুয়াশা নিয়ে কেটে যাবে ধোঁয়াশা।

কুয়াশা মানে পানি, কিন্তু কত কুয়াশায় কত পানি? বিজ্ঞানীরা মেপে দেখেছেন একটা বিশাল বড় সুইমিং পুলভর্তি কুয়াশাকে যদি চেপেচুপে পানি বানানো হয় তবে বড়জোর সোয়া এক লিটার পানি পাওয়া যাবে। পৃথিবীর সবচেয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন জায়গাটা হলো আটলান্টিক মহাসাগরের গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্ক নামের একটি স্থান। বছরজুড়ে এর উত্তরে এসে পড়ে ল্যাব্রাডর নামের একটি ঠাণ্ডা স্রোত। দক্ষিণ থেকে আসে উপসাগরীয় অঞ্চলের গরম স্রোত। বছরের ২০০ দিনই এখান কুয়াশা জমে"

শীতের সময় কুয়াশা থেকে পানি তৈরি করে অনেক দেশ। পাশের ছবিতে বড় বড় যে জাল দেখতে পাচ্ছ, ওগুলো কুয়াশা ধরার ফাঁদ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মরু দেশে এ রকম কুয়াশার ফাঁদ দেখা যায়। এ রকম একটি ৪০ বর্গমিটার আকারের জালে দিনে গড়ে ৬০-৭০ লিটার পর্যন্ত পানি পাওয়া যায়। পানির পরিমাণ নির্ভর করে বাতাসের গতির ওপর।



মন্তব্য