kalerkantho


ছড়া

উঠোনের বুকে আমনের সুখে

উত্পলকান্তি বড়ুয়া

১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভেজা ভেজা ঘাস জলে পাতি হাঁস সকালের চোখে আলো

সোনা রোদ সোনা খুশি আলপনা আঁকে সাদা নীল লালও।

শুয়ে শুয়ে থাকা মাঠে মাঠে পাকা স্বর্ণ-সোনালি ধান

কাতিকের মেয়ে আঘনেরে পেয়ে গেয়ে ওঠে সুরে গান।

শিশিরের প্রীতি মমতার রীতি জড়িয়ে রেখেছে গলা

কিষানের বউ রাঙা মৌ মৌ আনন্দে হেঁটে চলা।

উঠোনের বুকে আমনের সুখে কৃষকের মুখে হাসি

ঘরে ঘরে সুর আহা কী মধুর শুধু ভালোবাসাবাসি।

বাক দেয় রাতা, কাঁপে লতা পাতা বাতাসের লাগে দোলা

কাজে কাজে তাড়া মন মাতোয়ারা গোলা ভরে ওঠে গোলা।

সময়ের সেই অবসর নেই কাজ আর কাজ হাতে

তালে নাচে ঢেঁকি পায়ে পায়ে সে কী পিসি-মা-চাচির সাথে।

মন আনচান পিঠা পুলি ঘ্রাণ নতুন চালের গুঁড়ো

সারা দিন রাত উত্সবে মাত, খোকা-খুকু যুবা-বুড়ো।

হেমন্ত গান প্রকৃতির প্রাণ শীতল আমেজে ঘামে

কে যেন পাঠায় চিঠি এক গাঁয় শীতের হিমেল খামে।

এই সময়
জুয়াইরিয়া জাহরা হক

কয়েক বছর আগেও নাকি অগ্রহায়ণ মাসে

বিকেল গেলে ঘোর কুয়াশা-ভালোই শীত আসে!

এখন দেখি চরম গরম-২০-এ থাকে এসি,

চাদর গায়ে-ঘাসে পায়ে? পুরাই ফ্যান্টাসি!

ফুলকপি আর শিম-টমেটো ফি-বছরই থাকে,

রং গিয়েছে, পাইনা ফ্লেভার সেসব সবজি পাকে!

শীতের পিঠা ভাপা-পুলি প্রভু জানে কবে,

যাদুঘরের টিকেট কেটে দেখতে যেতে হবে!

যা হোক যদি খাতা খুলি, নাই বিচারের শেষ

কার সাথে আর সালিস হবে, তোমার আমার দেশ।

যদি একটু গরজ থাকে, থাকে একটু ভয়,

মাথায় রাখেন সুযোগ পেলেই গাছ লাগাতে হয়।

কমবে অনেক ঝামেলা আর কমবে কিছু তাপ

গরম বাবা পালিয়ে যাবে, বাঁচব ছেড়ে হাপ!


 


মন্তব্য