kalerkantho


কোরিয়ান রূপকথা

নাচুনে বাঘের গল্প

অনুবাদ : নাবীল অনুসূর্য

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নাচুনে বাঘের গল্প

অঙ্কন : মানব

অনেক দিন আগে বাস করত এক কাঠুরে। সেই কাঠুরে আবার খুব ভালো বাঁশি বাজাতে পারত।

সে যখনই বনে গাছ কাটতে যেত, সঙ্গে বাঁশিটাও নিয়ে যেত। যখনই একটু বিশ্রাম নিতে বসত, বাঁশি বাজাত।

একদিন সেই কাঠুরে গাছ কাটছিল। হঠাত্ কোত্থেকে এক বাঘ এসে হাজির। কাঠুরেকে দেখেই তাকে ঘিরে চক্কর মারতে শুরু করল। এখনই ঘাড়ে লাফ দেবে দেবে।

ভাগ্যিস কাঠুরে বাঘটিকে দেখে ফেলল। যে গাছটা কাটছিল, বাঘ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই টুক করে সেই গাছেই চড়ে বসল।

তাই দেখে বাঘটা বিশাল এক গর্জন দিয়ে লাফিয়ে পড়ল।

আঁচড়ে-কামড়ে-লাফিয়ে গাছে ওঠার চেষ্টা করতে লাগল। সেটা ছিল একটা উইলোগাছ। যেমন উঁচু, তেমনই পিচ্ছিল। তাই শত চেষ্টাতেও বাঘটা আর গাছে উঠতে পারল না।

শেষে কী আর করা! বাঘটি চলে গেল।

বাঘ তো চলে গেল। কাঠুরে তো আর গাছ থেকে নামার সাহস পায় না। একদম গাছ খামচে বসে রইল। কোনো রকমে বাসায় ফিরতে পারলেই সে বাঁচে; কিন্তু নেমেই যদি আবার সেই বাঘের মুখে পড়তে হয়!

কিছুক্ষণ পর ঠিকই বাঘটা ফিরে এলো। তা-ও আবার একা নয়, সঙ্গে আরো পাঁচ-ছয়টা বাঘ। আর তারপর যে ঘটনা ঘটল, দেখে কাঠুরের একদম কলিজা শুকিয়ে গেল।

বাঘগুলো সব গাছের গোড়ায় এসে দাঁড়াল। তারপর একটা বাঘ আরেকটার পিঠে উঠতে লাগল। একটার পিঠে আরেকটা, সেটির পিঠে আরেকটা, তার পিঠে আরেকটা... এমনি করে উঠতে উঠতে ওরা তো কাঠুরেকে ধরেই ফেলল প্রায়। শেষ বাঘটা ওপর পর্যন্ত উঠলেই কাঠুরেকে ধরে ফেলবে। আর তারপর...

ভাবতেই কাঠুরে শিউরে উঠল। বাঁচার আর কোনো আশাই নেই। বরাবরের মতোই সে সঙ্গে করে প্রিয় বাঁশিটা এনেছিল। এবার সে শেষবারের মতো শখ মিটিয়ে বাঁশি বাজাতে শুরু করল। মরতেই যখন হবে, বাঁশি বাজাতে বাজাতেই না হয় মরা যাক!

ওদিকে একদম নিচের বাঘটা ছিল নাচিয়ে বাঘ। ওঝা বাঘও বলে ওটাকে। ওরা আবার সংগীতের তালে তালে নাচতে খুব পছন্দ করে। ব্যাপারটা একদম ওদের রক্তে মিশে আছে। গান-বাজনা শুনলেই যেন ওদের রক্তে নাচন লেগে যায়। আর কাঠুরে তো একেবারে জীবন দিয়ে বাঁশি বাজাচ্ছিল। অমন সুন্দর বাঁশির সুর বোধ হয় কাঠুরে জীবনে কখনো তুলতে পারেনি। আর সেই অসম্ভব সুন্দর বাজনা শুনে নাচুনে ওঝা বাঘটাও তালে তালে ঘাড় নাচাতে শুরু করে দিল, পা দোলাতে শুরু করে দিল। ওপরের বাঘগুলো পড়ে গেল বেশ বেকায়দায়। শেষ বাঘটা আর উঠবে কি, দাঁড়িয়ে থাকতেই হিমশিম খেতে লাগল।

ব্যাপারটা কাঠুরেরও চোখে পড়ল। বিষয়টা বুঝতেও বাকি রইল না ওর। সে এবার আরো দ্রুত লয়ে বাঁশি বাজাতে শুরু করল। ওঝা বাঘের নাচের গতিও বৃদ্ধি পেতে লাগল। সে এবার রীতিমতো হাত-পা ছুড়ে নাচতে শুরু করল। আর যায় কোথায়, বাঘগুলো সব ধপাস ধপাস করে নিচে পড়তে লাগল।

একদম ওপরের কয়েকটা বাঘ তো পড়ে কোমরই ভেঙে ফেলল। বাকিরাও এমন জখম হলো, কোনো রকমে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেল।

ওঝা বাঘের কিন্তু সেসবের প্রতি খেয়াল নেই। সে বাঁশির সুরের সঙ্গে ক্রমাগত নেচেই যাচ্ছে।

কাঠুরে এবার আস্তে আস্তে নিচে নেমে এলো। তারপর বাঁশি বাজাতে বাজাতে গাছটা থেকে দূরে সরতে লাগল। নাচুনে বাঘ তো পাগলের মতো বাঁশির সুরে নেচেই চলেছে। আর কাঠুরেও বাঁশি বাজাতে বাজাতে নিরাপদ দূরত্বে চলে গেল। তার পরই সে বাঁশি বাজানো থামাল।

বাঁশি থামতেই ওঝা বাঘের হুঁশ ফিরল। কিন্তু ততক্ষণে তো যা হওয়ার হয়ে গেছে। সে আর কী করে, লজ্জা পেয়ে লেজ গুটিয়ে বনের ভেতর হারিয়ে গেল


মন্তব্য