kalerkantho


পাখির জন্য প্রাসাদ

কেউ পাখি ভীষণ ভালোবাসেন, কেউ পাখি মারার জন্য ফাঁদ পাতেন। তবে পাখির জন্য তুর্কিদের ভালোবাসার তুলনা হয় না। ওরা পাখিদের জন্য বাসা নয়, রীতিমতো প্রাসাদ বানিয়ে দেয়! জানাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পাখির জন্য প্রাসাদ

তুর্কি সমাজে পশুপাখির বেশ কদর। পাখি হলে তো কথাই নেই।

পাখিরা সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে তাদের বিশ্বাস। পাখিদের জন্য দৃষ্টিনন্দন নীড় বানিয়ে দিয়ে পালকযুক্ত প্রাণীদের প্রতি তারা ভালোবাসা দেখায়। চড়ুই, ঘুঘু আর কবুতরের জন্য সুন্দর সুন্দর নীড় বানিয়ে দেয় তুর্কিরা। এসব নীড়ে পাখিরা আশ্রয় নেয়, ছানা ফোটায়, ছানাদের বড়ও করে তোলে। তুর্কিমানবদের বানানো এসব নীড় সুউচ্চ ভবনে। বিশেষ করে মসজিদ, মাদরাসা, গ্রন্থাগার, বাড়ি, সমাধি, সেতু আর প্রাসাদে। ভবনের উঁচুতে সামনের দিকে খানিকটা বাড়িয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এসব পাখির নীড়। এসব যেন একেকটা প্রাসাদ। প্রাসাদই তো! কী নেই ওসব নীড়ে? ছোট ছোট ঘরের সামনে ব্যালকনি, বাঁকানো রেলিং, নকশা করা দরজা, কারুকাজ করা জানালা, সুশোভিত ছাদ, গম্বুজ আর খিলান। স্থাপত্য শিল্পের খুদে সংস্করণ চোখে পড়ে ওই পাখির প্রাসাদগুলোর দিকে তাকালে।

পাখিদের জন্য এমন দৃষ্টিনন্দন নীড় তৈরির প্রচলন শুরু হয়েছিল উসমানিয়া যুগ থেকে। এরপর থেকে খুদে প্রাসাদসম এ ধরনের বাড়ি নির্মাণ চলছে। সবচেয়ে প্রাচীন পাখি প্রাসাদের সন্ধান মিলেছে আনাতোলিয়ায়। নির্মিত হয়েছে তেরো শতকে। সিভাসের সিফায়া মাদরাসার পাখির প্রাসাদ নির্মিত হয় ১২১৭ থেকে ১২১৮ সালের দিকে। ১২৬০ সালে নির্মিত কনিয়ার স্লেন্ডার মিনারেত মাদরাসা, ১৩০৫ সালে নির্মিত কায়শেরির কুতলু হাতুন সমাধিতে পাখির প্রাসাদ রয়েছে। যদিও প্রথম দিককার পাখির প্রাসাদ অতটা জমকালো ছিল না। আঠারো শতকের দিকে নির্মিত প্রাসাদগুলো সে রকম নকশা করা। এ সময়কার নির্মিত পাখির প্রাসাদগুলো দেখা মিলবে ১৭৬০ সালে নির্মিত আয়াজমা মসজিদ, ১৭০৮ সালে নির্মিত ইয়েনি ভালিদ মসজিদ, ১৭২৭ সালে নির্মিত দারফানে ই আমিরি ও ১৮০৪ সালে নির্মিত সেলিমিয়া মসজিদে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে নির্মিত পাখির প্রাসাদের এ কয়েকটি নমুনাই এখন পর্যন্ত ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে।


মন্তব্য