kalerkantho


ফিচার

সাবধান ক্লাউন আছে!

ক্লাউনদের শুধু সার্কাসে দেখা গেলেও আমেরিকায় আছে এক অদ্ভুত মোটেল। ঢুকতেই চোখে পড়বে শত শত ক্লাউন! ক্লাউন মোটেলের গল্প শোনাচ্ছেন মিজানুর রহমান

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাবধান ক্লাউন আছে!

ডানে ক্লাউন, বামে ক্লাউন। ওপর-নিচ সব জায়গায় ক্লাউনের ছড়াছড়ি।

দরজা, শোবার ঘর, গোসলখানা যেখানেই যাবে একটি ক্লাউন ভেংচি কেটে তাকিয়ে হাসবে তোমার দিকে। তবে মানুষ নয়, ওরা সব পুতুল।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা রাজ্যের নাম শুনেছ? সেখানে একটি শহর আছে না টনোপাহ। একসময় খনিকর্মীদের শহর নামে পরিচিত ছিল। সেখানেই আছে মোটেলটি। নাম ক্লাউন মোটেল। এখানে স্বাগত কক্ষে ঢোকার জন্য পা বাড়াতেই চোখে পড়বে সাবধান বার্তা, ‘সাবধান, ক্লাউন আছে!’ ভেতরে ঢুকতেই পাঁচ শরও বেশি ক্লাউন চোখে পড়বে একসঙ্গে। কানের সামনে সারাক্ষণ বাজতে থাকবে ক্লাউনের গা হিম করা হাসি।

শহরটি মরুভূমির মাঝে।

জনমানবশূন্য পরিবেশে এমন একটি ক্লাউন মোটেল ভৌতিকই মনে হয়। আর ভয়ের ষোলোকলা পূর্ণ করতেই যেন মোটেলটির পাশে আছে একটি ১০০ বছর পুরনো গোরস্তান।

লোকে বলে এই মোটেলটিতে নাকি মানুষ আসতেই চায় না। কারণ এখানে রাতে নাকি জীবন্ত ক্লাউন হাঁটাহাঁটি করে। একবার একজন অভিযোগ করেছিলেন মধ্যরাতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান তাঁর বিছানার পাশে একটি ক্লাউন দাঁড়িয়ে আছে। ভুল দেখছেন ভেবে চোখ ডলে যখন আবারও তাকান তখনো দেখেন ক্লাউন ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। আর একটু পর আবার দেখেন, কেউ নেই!

মোটেলের ঠিক উল্টো পাশেই টনোপাহ গোরস্তান। যেটি ১৯০১ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে। এই গোরস্তানে দাফন করা হয় রুপার খনিতে কাজ করা নিহত কর্মীদের। এখনো এই শহরে রুপার খনির একটি পরিত্যক্ত মুখ আছে।  

খনির কাজ যখন পুরোদমে চলত, তখন এই শহর ছিল কোলাহলপূর্ণ। বাস করত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে আড়াই হাজারে। সুনসান এই শহরে তাই সব সময়ই থাকে পিনপতন নীরবতা। ক্লাউন মোটেলকে ঘিরে তাই ভুতুড়ে গল্পের অভাব নেই এই শহরে।

ক্লাউন মোটেলের পাশেই মিজপাহ হোটেল। সেখানেও নাকি লাল পোশাকের একটি মেয়ে ভূত আছে। যে অনেক আগে হোটেলের একটি রুমে আত্মহত্যা করেছিল। এখনো ওই রুমে কেউ থাকতে পারে না। একদিন এক লোক তাঁর মেয়েকে নিয়ে নাকি হেঁটে যাচ্ছিলেন রাস্তার পাশ দিয়ে। হঠাৎ দেখতে পান এলোচুলের একটি মেয়ে লাল পোশাকে হেঁটে যাচ্ছে সামনে দিয়ে। পরে তাকে আর দেখতে পাননি তারা। এই কথা শুনে ফক্সনিউজ নামের একটি নামকরা টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা বের হন রোমাঞ্চ শিকারে। তাঁরা নাইট ভিশন ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়েন গোরস্তানে। ফিরে এসে দেখেন তাঁদের ক্যামেরায় কোনো ভিডিওই রেকর্ড হয়নি, তাঁদের সব বাতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি মোবাইলের নেটওয়ার্কও ছিল না!

ক্লাউন মোটেল ও টনোপাহ শহরের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে এমন অনেক গল্প। তবে ভয়কে যারা জয় করতে পারে তারা এখানে খুঁজে পায় রোমাঞ্চ। মোটেলটিতে কক্ষ আছে ৩১টি। অনেকেই বলে ৩১ হচ্ছে উল্টো ১৩, যার সঙ্গে অমঙ্গলের যোগ আছে। তবে অনেকেই বলে এটি আসলে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।


মন্তব্য