kalerkantho

25th march banner

রামিনের ব্যঞ্জনবর্ণ

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রামিনের ব্যঞ্জনবর্ণ

অঙ্কন : মানব

ক-খ-গ-ঘ লিখছে রামিন

খাতার পাতা ভরে,

আনকোরা এক কাঠপেনসিল

শক্ত করে ধরে।

 

ত্রিভুজ আঁকল। হাত একটা

ঝুলিয়ে দিল তবে,

ওটা যে কী লিখল রামিন?

ক-ই বোধ হয় হবে।

 

ক-এর পাশে কী আর হবে—

খ না হয়ে পারে?

হাত একটা উল্টো হয়ে

চড়ে আছে ঘাড়ে।

 

পরের অক্ষর গ নিশ্চয়—

প্যাঁচটা দেখে বুঝি,

ঘ-এর পেটটা না ঘুরিয়ে

লিখল সোজাসুজি।

 

৬-এর মতো একটা কিছু

লিখল রামিন খাতায়,

অনেক কষ্টে পুঁটলি একটা

চড়িয়ে দিল মাথায়।

 

পুঁটলি দেখে বস্তুটাকে

ঙ-ই মনে হয়,

পেনসিলে আর আঁক কষে না

হয়ে গেছে ক্ষয়।

 

ছ না লিখে চ লিখেছে

পাশাপাশি দুটো,

জ-ঝ-ঞ কঠিন বোধ হয়—

খাতার পাতা ফুটো।

 

চ-কে বোধ হয় ছ করেছে

২ বসিয়ে দিয়ে,

২-টা তবে পড়েছে তার

একটু দূরে গিয়ে।

 

ট লিখেছে, ঠ লিখেছে,

ঢ লিখেছে ঠিকই,

ট ও ঠ-এর টিকি লাগবে,

দিয়েছে সে টিকি।

 

কিন্তু এ কী! ঠ ও ঢ-এর

মাঝে আবার ৬—

৬-এর মাথায় দাগ দে দেখায়

ড কী করে হয়।

 

এবার তাকে লিখতে হবে

মূর্ধ্য ণ-টা তো?

গাছ এঁকে তার হাত ঝোলাল

কলার মোচার মতো।

 

৩-কে রামিন ত বানাল

ড-এর পদ্ধতিতে,

থ-এর মাত্রা এত্তটুকুন,

তা-ও ভোলেনি দিতে।

হাঁটু ভেঙে বসে ছিলাম

দারুণ মজা পেয়ে,

দ লিখল দু-বার আমার

হাঁটুর দিকে চেয়ে।

 

দন্ত্য ন-এর গোল্লাটা তার

দাঁড়ার চেয়ে বড়,

প-ফ-ব-ভ-ম-রা সবাই

ভয়েই জড়সড়।

 

অন্তঃস্থ য লিখেছে এক

খাঁজকাটা-খাঁজকাটা,

র-এর ফোঁটা ল-এর দিকে

দিচ্ছে যেন হাঁটা।

 

তালব্য শ-এর তাল দুটো যে

ঝুলছে কচুগাছে,

মূর্ধন্য ষ যেমনই হোক

পেটটা কাটা আছে।

 

দন্ত্য স-টা সহজ তো নয়

হ-এর মতো অত,

লিখতে ওটা বরাবরই

খায় সে থতমত।

 

ড়-ঢ় আছে পাশাপাশি—

স্পষ্ট গোটা গোটা,

তবে তারা শেয়ার করছে

একটি মোটে ফোঁটা।

 

ক্ষিয়-টা সে বেশ লিখেছে

অনেক কেটেকুটে,

অন্তঃস্থ য়-এর ফোঁটা তো

যাচ্ছে দূরে ছুটে।

খ-ত-টা সাপের মতো

খাতার পরে আঁকা,

অনুস্বরের শিংটা বোধ হয়

একটু বেশি-ই বাঁকা।

 

বিসর্গ-টা পড়তে গিয়ে

ঘুরে গেল মাথা—

বিসর্গ-টা উল্টো নাকি

উল্টো লেখার খাতা?

 

ওপর-নিচে উল্টাপুল্টা—

কী লিখেছে—যা-তা!

রামিন শেষে মুচকি হেসে

ঘুরিয়ে দিল খাতা।

 

অমনি সোজা হয়ে গেল

উল্টো বিসর্গ-টা,

এমন চালাক ছেলে আছে

বাংলাদেশে কটা?


মন্তব্য