kalerkantho


একটু আলাদা

মুখোশ পরা র‌্যাকুন

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মুখোশ পরা র‌্যাকুন

র‌্যাকুনদের দেখলে হঠাৎ মনে হবে যেন ওরা মুখোশ পরে আছে। একটু পরেই যাবে চুরি বা ডাকাতি করতে।

আসলে চোখের পাশের কালো দাগগুলোর কারণেই এমন দেখায়। এই দাগের কারণে এরা ব্যান্ডিট মাস্কড র‌্যাকুন বা দস্যুর মতো মুখোশ পরা র‌্যাকুন নামেও পরিচিত। এদের লেজেও গোল গোল কালো দাগ। লম্বায় তিন ফুটের মতো হয় প্রাণীটা। এর অর্ধেকটাই হচ্ছে লেজ। ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজি।

র‌্যাকুনরা মোটামুটি সব কিছুই খায়। তা সে ফলমূল হোক কি ছোট জাতের কোনো প্রাণীই হোক। এমনিতে ওদের প্রিয় খাবারের মধ্যে আছে ইঁদুর, পাখির ডিম, বাদাম ইত্যাদি।

আবার পানি থেকে মুহূর্তের মধ্যে মাছ আর ব্যাঙ তুলে আনতে পারে। র‌্যাকুন নামটি এসেছে পুরনো আমেরিকান শব্দ অ্যারাকুন থেকে। অ্যারাকুন অর্থ ‘সে হাত দিয়ে আঁচড় কাটতে পারে’।

র‌্যাকুনের সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার চোখে পড়বে এদের সামনের দুই থাবায়। এগুলো অনেকটা মানুষের হাতের মতো কাজ করে। পাঁচটি করে আঙুল আছে। আর এই আঙুলগুলোর সাহায্যে বিদ্যুত্গতিতে পানি থেকে মাছ শিকার করতে পারে। শুনে অবাক হবেন, এই থাবা দুটির সাহায্যে খাঁচার হুড়কো এমনকি জুতার ফিতাও খুলতে পারে। একটু অসতর্ক থাকলে তোমার পকেটটাও মেরে দিতে পারবে ওই আঙুলগুলো দিয়ে।

র‌্যাকুন পোষ মানে, অনেকে তা পোষেও। আমেরিকার এক সময়কার প্রেসিডেন্ট কেভিন কুলিজ আর তাঁর স্ত্রী একটা র‌্যাকুন পুষতেন। ওটার নাম ছিল রেবেকা। তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, র‌্যাকুন না পোষাই ভালো। কারণ বাচ্চা থাকা অবস্থায় র‌্যাকুন মানুষের খুব ন্যাওটা থাকলেও একটু বড় হলে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন হঠাৎ মানুষকে আক্রমণ করা বিচিত্র নয়। র‌্যাকুন কিন্তু খুব বেশি দিন বাঁচে না। কোনো কোনোটা ভাগ্য ভালো হলে ১২ থেকে ১৪ বছরও বেঁচে যেতে পারে। তবে পোষা র‌্যাকুন নাকি ২০ বছরও বাঁচে।

র‌্যাকুন খুব বুদ্ধিমান। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে এরা বুদ্ধিমত্তায় ওপরের দিকেই থাকে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, এরা বিড়াল গোত্রের প্রাণীদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। তালা আর দরজা খুলতে রীতিমতো দক্ষ। আর কোনো কিছু শিখিয়ে দিলে অনেক দিন মনেও রাখতে পারে।

র‌্যাকুন রাতে চলাফেরা করে বেশি। দিনটা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়। শীতে ঘুমায় বেশি। ওদের সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকোসহ উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে। সাধারণত গাছে কিংবা গুহায় গর্ত করে বাস করে। তবে পরিত্যক্ত গাড়িসহ মানুষের তৈরি বিভিন্ন জায়গায়ও থাকে।

 

— তুষার ইশতিয়াক


মন্তব্য