kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একটু আলাদা

কাঁটাওয়ালা ড্রাগন

তুষার ইশতিয়াক   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কাঁটাওয়ালা ড্রাগন

নাম তার থর্নি ড্রাগন বা কাঁটাওয়ালা ড্রাগন। ওটিকে আবার চীনা কল্পকথার ড্রাগন টাইপের কিছু ভেবে বোসো না।

নিতান্তই ছোটখাটো ও নিরীহ প্রাণী থর্নি ড্রাগন। এরা আসলে এক ধরনের গিরগিটি। থর্নি ডেভিল নামেও পরিচিত। গায়ে কাঁটা থাকায় এদের দেখতে একটু ভয়ংকরই লাগে। মাথা আর শরীর ঢেকে থাকা এই কাঁটা গোলাপ ফুলের কাঁটার চেয়ে বড় নয়। এদের বাস অস্ট্রেলিয়ায়। লম্বায় আট ইঞ্চির মতো হতে পারে। বেঁচে থাকে পনেরো থেকে বিশ বছর।

নামে ড্রাগন হলেও এদের বরং অন্য শিকারি প্রাণীদের থেকে বেঁচে চলতে হয়। অবশ্য এই ড্রাগনদের শরীরের কাঁটার কারণে কোনো প্রাণী এদের খাওয়ার আগে অন্তত দুবার ভাবে। নিজেদের বুকটা বাতাস দিয়ে ভরে ফেলতে পারে থর্নি ড্রাগনরা। এতে এদের আকার যায় বেড়ে। তখন কোনো শিকারি প্রাণীকে এদের গিলতে বেশ কষ্ট হয়। অবিশ্বাস্য শোনালেও একটি নকল মাথা থাকে থর্নি ড্রাগনদের। ঘাড়ের পেছনে বাড়তি একটি অঙ্গ থাকে এদের, ওটাই মাঝেমধ্যে মাথার কাজ করে। কিভাবে? যখন কোনো প্রাণী আক্রমণ করতে আসে, দুই পায়ের ফাঁকে মাথাটা গুঁজে ফেলে থর্নি ড্রাগনরা। তখন আসল মাথার জায়গায় থাকে ওই নকল মাথা।

এই কাঁটাওয়ালা ড্রাগনরা কিন্তু শরীরের রং বদলায়। গরম আবহাওয়ায় এদের রং সাধারণত হালকা হলুদ আর লাল। তবে শীতল আবহাওয়ায় কিংবা ভয় পেলে রং আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সাধারণত প্রতিদিন সূর্য উঠলে রং বদলে আরো বেশি তত্পর হয়ে ওঠে থর্নি ড্রাগনরা। শীতল একটা সকালে এদের রং থাকে জলপাই-বাদামি। তাপমাত্রা যত বাড়তে থাকে, গায়ের রংও তত হালকা হতে থাকে। আর এরা বেশি গরম ও বেশি শীত পছন্দ করে না। অতিরিক্ত গরম আর শীতের মাসগুলোতে মাটির নিচের গর্তে থাকতেই ভালোবাসে। আর খাবার হিসেবে এদের একমাত্র পছন্দ পিঁপড়া। দিনে হাজারখানেকের বেশি ছোট, কালো পিঁপড়া পেটে যায় থর্নি ড্রাগনদের।


মন্তব্য