kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কানাডার রূপকথা

হেলেন ও একটি আপেল গাছ

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হেলেন ও একটি আপেল গাছ

আঁকা : সব্যসাচী মিস্ত্রি

এক শরতের বিকেল। ছোট্ট মেয়ে হেলেন বাগানে বসে একটি আপেল খাচ্ছিল।

খেতে খেতে হঠাৎ আপেলটি ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল। মাটিতে পড়েই গড়াতে গড়াতে একটা ইঁদুরের গর্তে ঢুকে গেল। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঘুমিয়ে পড়ল। আপেলটি ঘুমাচ্ছে তো ঘুমাচ্ছে।

মাটির নিচে আপেলটি ধীরে ধীরে একটা ছোট্ট বীজ হয়ে জেগে উঠল। মজার বিষয় কি, জানো? হেলেনের ঘরের নিচেই বীজ হয়ে জন্ম নিল। আপেলটি কিন্তু এসব কিছুই জানত না। সে কেবল বড় হয়ে উঠছে দিন দিন।

আর হেলেন? ও গেল কোথায়? আরে বাবা, ও কোথাও যায়নি। হেলেনের খুব জ্বর! তাই তোমরা ওকে বাগানে দেখছ না। জ্বরের জন্য ও ঠিকমতো খায় না। কথা বলে না। মনটা খুব খারাপ। চুপচাপ শুয়ে থাকে দিন-রাত। কাউকে কিছু বলেও না। তাই দেখে সবারই মন খারাপ হলো! হেলেনের জন্য অনেক ডাক্তার এলো। কিন্তু হেলেনকে কেউ ভালো করে দিতে পারল না। শুধু একজন ডাক্তার বলল, ‘আমার মনে হচ্ছে গ্রীষ্মের জন্য হেলেনের মন কাঁদছে। হেলেন চাচ্ছে, সূর্য যেন হেলেনকে আবার গ্রীষ্মের মতো উত্তাপ দেয়। ’ ডাক্তারের এ কথাগুলো কিন্তু একজন ঠিকই শুনে ফেলল। বন্ধুরা, কে শুনল? তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে। হ্যাঁ, আপেল। আপেলটিই শুনল। কারণ ও তো হেলেনের ঘরের নিচেই থাকে। কিন্তু শুনে আপেলের মন খুব খারাপ হলো। মনে আর শান্তি থাকল না। আপেলটি চাইল, হেলেন যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। আবার আগের মতো খেলা করবে। কথা বলবে। আপেলটি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, হেলেনকে সুস্থ করে তুলবে। তাই নিজেকে অনেক বড় হতে হবে, ফুটতে হবে আর সবুজ রঙের হয়ে অনেক সুন্দর একটি গাছ হতে হবে। শুধু হেলেনের জন্য।

মাটির নিচে একটা গর্তের মতো অংশে ছোট্ট এক সবুজ শিখার মতো দেখা গেল! ওটা থেকে গাছের একটা কাণ্ড জন্ম নিল। ওটা যখন দ্রুত ছাদের কাছাকাছি চলে এলো, তখন ওটা জোড়ে এক ধাক্কা দিয়ে কার্পেট সরাল, একদম হেলেনের ঘরের ভেতরে মাঝখানে এসে দাঁড়াল। হেলেন দেখল। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। হেলেনের মনে হলো, ও সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। হেলেনকে এমন দেখে কাণ্ড দ্রুত আরো কয়েকটি ডালপালার জন্ম নিল। ওগুলোতে ফুল ফুটতে শুরু করল। সব ডালপালা সবুজ পাতায়  ভরে গেল। টুকটুকে লাল লাল আপেল ধরল। আপেলগুলো বড় হলো।

ইশ! সে অপূর্ব এক গাছ! এত সুন্দর গাছ দেখে হেলেনের মন ভালো হয়ে গেল। হেলেন একটা আপেল নিল। খেতে না খেতেই হেলেনের ফ্যাকাশে গাল দুটো যেন প্রাণ ফিরে পেল। হেলেনের এখন সব কিছুই ভালো লাগতে শুরু করল। বোঝা যায়—হেলেন একদম সুস্থ। অনেক খুশি। অনেক সুখী। সারা দিন নেচে-গেয়ে বেড়ায়।

আচ্ছা, হেলেনের ঘরের ভেতরের গাছটির কী হলো? বন্ধুরা, তোমরা কি জানো? আমি কিন্তু জানি না। তবে আমার মনে হয়, হেলেন পুরোটাই কল্পনা করেছিল! এমন হতে পারে না? পারে। খুব বেশি জ্বরের ঘোরে এমন হতেই পারে। তবে কল্পনা হলেও আমার কিন্তু খুব মায়া হচ্ছে। আ হা রে! হেলেনকে সুস্থ করার জন্য আপেলের বীজটি কত কি-ই না করল? হাত থেকে পড়ে যাওয়া আপেলটির কত মায়া ছিল হেলেনের জন্য। তাই না? সে যা-ই হোক, হেলেন সুস্থ হলো। এটাই আসল কথা।

বন্ধুরা, হেলেনের সঙ্গে সঙ্গে তোমরাও সুস্থ থেকো কিন্তু।

 

অনুবাদ : সুজান হক


মন্তব্য