kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একটু আলাদা

ছদ্মবেশের রাজা

তুষার ইশতিয়াক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছদ্মবেশের রাজা

শক্তিধর প্রাণীদের বোকা বানাতে অসহায় প্রাণীদের প্রকৃতি দিয়েছে নানা কৌশল। তবে কৌশলের কথাই যদি আসে তবে অন্যদের চেয়ে এককাঠি সরেস হলো মিমিক অক্টোপাস।

এই প্রাণী প্রথম মানুষ খুঁজে পায় ১৯৯৮ সালে। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের ধারের সাগরে। ওখানেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মিমিক অক্টোপাসের দেখা পাওয়া গেছে। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের যেকোনো অগভীর জলের এলাকায়ই পেতে পারো এদের। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল সেটা আবার কী, তাই ভাবছ? ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। আবার এই দুই মহাসাগরের মাঝখানের কিছু জলভাগও পড়েছে এর মধ্যে।

গায়েগতরে বেশি একটা বড় হয় না মিমিক অক্টোপাস। এই ধরো, লম্বায় ফুট দুয়েক হবে। গায়ের রং ফ্যাকাসে বাদামি। এর মধ্যে আবার কিছু বাদামি আর সাদা ডোরা দাগ থাকে। এবার বলব এর গুণপনার কথা। মিমিক অর্থই নকল বা অনুকরণ করা। অন্য অক্টোপাসের মতো মিমিকদেরও চামড়ার গায়ে বিশেষ এক ধরনের কোষ থাকে। এগুলো পরিচিত রং বদলানো কোষ নামে। একটু অন্যভাবে বললে এদের শরীরে রঞ্জক পদার্থের একটা থলে থাকে, যার নাম ক্রমাটোফোরস। এর সাহায্যে চটজলদি রং বদলে ফেলতে পারে মিমিক অক্টোপাস। ধরো হঠাৎ বেশ বড়সড় একটি সামুদ্রিক প্রাণী মিমিকদের ধারে চলে এলো। ওটা আবার বাগে পেলেই মিমিকদের ধরে খেয়ে ফেলবে। তখন মিমিকরা গায়ের রং বদলে পরিবেশের সঙ্গে এভাবে মিশে যাবে যে ওই প্রাণীটি তাকে খুঁজেই পাবে না। হয়তো কোনো প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে মিশে যাবে কিংবা শৈবালে ঢাকা কোনো পাথরের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলবে নিজেকে। তবে রং বদলানোর এই গুণ অন্য আরো অনেক প্রাণীর আছে।

মিমিক অক্টোপাসের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো, এরা অন্য অনেক প্রাণী বা বস্তুর চেহারা নিতে পারে। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? অন্তত আরো ১৫ রকম প্রাণীর বেশ ধরতে পারে এরা। কাজটা করার জন্য এরা শরীরের রং বদলানোর পাশাপাশি শরীরের গঠনটাও পাল্টে ফেলে। সেই সঙ্গে হাতগুলোর নাড়াচাড়ার ধরনও বদলে ফেলে। অর্থাৎ হাতগুলো এভাবে নাড়াচাড়া করে যেন যে প্রাণীর বেশ ধরবে তার মতো দেখায় তাকে। যেসব প্রাণীর ছদ্মবেশ এরা ধরতে পারে তার মধ্যে লায়ন ফিস, সি স্নেক অন্যতম। আবার সাগরতলে নামা ডুবুরিরা জেলি ফিস, সি হর্সসহ আরো অনেক প্রাণীর বেশ ধরতেও দেখেছেন এদের। কিন্তু কখন কোন প্রাণীর চেহারা ধরবে মিমিক? এটা কি তাদের খেয়ালখুশি মতো? না। বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে এক মজার তথ্য। কখন মিমিক অক্টোপাস কোনো প্রাণীর ছদ্মবেশ ধরবে তা নির্ভর করে কোন প্রাণীটির আক্রমণের শিকার হতে যাচ্ছে তার ওপর। যেমন ডেমসেল ফিসরা কাছাকাছি এলে তারা নিজেদের চেহারা বানিয়ে ফেলে অবিকল লায়ন ফিসের মতো। কারণ ডেমসেলফিসরা আবার বেশ সমঝে চলে লায়ন ফিসদের।

আরো কিছু জাতের অক্টোপাসের মতো সাগরতলের নরম বালুতে সুড়ঙ্গ আর গর্ত খুঁড়তে ওস্তাদ মিমিকরা। এই সুড়ঙ্গ পথে চলে এরা শত্রুদের বোকা বানাতে পারে। তেমনি সহজে ধরতে পারে শিকার। মিমিক অক্টোপাসের খাবার হিসেবে পছন্দ ছোট মাছ আর কাঁকড়াজাতীয় প্রাণী।


মন্তব্য