kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফিচার

জাদুঘরের ব্যাঙেরা

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জাদুঘরের ব্যাঙেরা

দর্জি ব্যাঙ

জাদুঘরে কি ব্যাঙ থাকে? যদি থেকেই থাকে তো জাদুঘরে ব্যাঙেরা কী করে?

অনেক কিছুই করে। মানুষ হিসেবে আমরা যা করি, ব্যাঙেরাও সেটাই করে থাকে।

কী কী করে?

ছাত্র ব্যাঙেরা স্কুলের বেঞ্চে বসে পড়াশোনা করে, আর শিক্ষক ব্যাঙেরা স্কেল নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের তাড়া দেয়, ডেন্টিস্ট ব্যাঙেরা রোগীর দাঁত তোলে, কিছু ব্যাঙ জিমন্যাস্ট দেখায়, কেউ সাঁতার কাটছে, কেউ টেনিস খেলছে, কেউ সেলাই মেশিনে সেলাই করছে এবং সবই করছে ব্যাঙেরা। ওই যে বললাম—সবই করছে মানুষের মতো।

বাহ! ব্যাঙেরা আবার মানুষের মতো এমন আচরণ শুরু করল কবে থেকে? কবে থেকে উভচর ব্যাঙ একেবারে ডাঙার ‘মানুষ’ হয়ে উঠল?

আসলে তা নয়। আসলে এ ব্যাঙেরা জাদুঘরেই থাকে। আর জাদুঘরটা আছে ক্রোয়েশিয়ার উপকূলীয় শহর স্প্লিন্টে। জাদুঘরটার নাম ফ্রগিল্যান্ড। ওই জাদুঘরে ব্যাঙ আছে ৫০৭টি। তবে কোনো ব্যাঙই বেঁচে নেই। সব মমি।

১৯ শতকের গোড়ার দিকে টেক্সিডার্মি ছিল বেশ জনপ্রিয়। চার্লস ডারউইন এবং রানি ভিক্টোরিয়ার ভীষণ পছন্দের ছিল টেক্সিডর্মি। টেক্সিডর্মি হচ্ছে পশুপাখির চামড়া ঠিক রেখে ভেতরের পচনশীল জিনিসপত্র বের করে বিশেষ রাসায়ানিক দিয়ে সংরক্ষণ। যারা এ ধরনের কাজে পটু, তাদের বলা হয় টেক্সিডর্মিস্ট। হাঙ্গেরির এক বিখ্যাত টেক্সিডর্মিস্ট ছিলেন ফ্রাঙ্ক মেরি। ভীষণ রকম ব্যাঙভক্ত মানুষ। জানা যায়, ফ্র্যাঙ্ক মেরির ছোটবেলা কেটেছিল এমন এক পুকুরের ধারে, যে পুকুর ছিল হাজারো ব্যাঙের আস্তানা। ব্যাঙ সংগীতে তাঁর চোখে ঘুম নামত আবার ব্যাঙের ডাকেই ঘুম ভাঙত। তো টেক্সিডর্মিস্ট হওয়ার পর, প্রিয় ব্যাঙদের অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখার খায়েসেই ব্যাঙের টেক্সিডর্মি শুরু করেন ফ্র্যাঙ্ক। ১৯১০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে এক হাজার ব্যাঙের টেক্সিডর্মি করে ফেলেন। ওই ব্যাঙ জাদুঘরের বর্তমান মালিক ইভান মেদভেসেক বলেন, ফ্র্যাঙ্ক মেরি যে উপায়ে ব্যাঙদের টেক্সিডর্মি করতেন, তা আজও রহস্য। ব্যাঙের শরীরের কোনো ক্ষতি না করে, শুধু মুখ দিয়ে ব্যাঙের শরীরের ভেতরটা বদলে দিতেন।

এখানেই শেষ নয়, ব্যাঙের শরীরের আকারও বদলে দিয়েছিলেন ফ্র্যাঙ্ক। সেই বদলানো আকার নিয়েই ২১ ধরনের নানা ভঙ্গিতে ৫০৭টি ব্যাঙ এখনো ঠিক তেমনই আছে। ১০০ বছর পরও যদি কখনো ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ ঘটে, তাহলে চলে যেতে পারো আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলীয় শহর স্প্লিন্টের ফ্রগিল্যান্ডে। আর দেখে আসতে পারো মানুষের মতো ব্যাঙদের কীর্তিকলাপ।

—ডেইলি মেইল অবলম্বনে আহমেদ রিয়াজ


মন্তব্য