kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিজে বানাই

টিস্যু বক্স থেকে পেনসিল হোল্ডার

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



টিস্যু বক্স থেকে পেনসিল হোল্ডার

পড়ার টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঁচি, পেনসিল, কলম, কালার পেনসিল, সাইন পেনগুলো ভীষণ বিরক্ত করে রিনিতাকে।

ও শুধু ভাবে কী করে এগুলোকে একসঙ্গে করা যায়।

ওর চোখ খুঁজে বেড়ায় এমন কিছু, যেখানে সব জিনিসের একসঙ্গে জায়গা হবে। রিনিতা পেয়েও যায় এমন এক জিনিস।

গত মাসে বাজার থেকে বাড়িতে আসা একটি টিস্যু পেপার বক্স খালি হয়ে গেছে প্রায়। রিনিতা প্ল্যান করে ফেলল কিভাবে বক্সটিকে কাজে লাগাবে সে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে টিস্যু বক্সের চারপাশে নানা ছবি আঁকা। আছে জীবজন্তুর ছবি, আছে লেখাজোখাও। এগুলো ঢেকে দেওয়ার জন্য কিছু রঙিন কাগজ দরকার। তাই কয়েক দিন আগে দোকান থেকে কেনা স্টিকি নোট বুকটার কিছু রঙিন পাতা ছিঁড়ে নিল রিনিতা। জীবজন্তু আর লেখাজোখার জায়গায় একের পর এক রঙিন কাগজ লাগিয়ে গেল রিনিতা। আইকা দিয়ে খুব যত্ন করে লাগাল সেগুলো। টিস্যু পেপার বক্সের ওপরেও যে আছে হিজিবিজি ছবি। এবার সেগুলো ঢাকার জন্য স্টিকি নোটের দুটি সুন্দর রঙের পাতা নিয়ে দুটি ফুল তৈরির কাজে হাত দিল রিনিতা। কাঁচি দিয়ে স্টিকি নোটের পাতাটির এক কোনা থেকে কিছুটা জায়গা রেখে কাটা শুরু করে গোল করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাটল শেষ মাথা পর্যন্ত। তারপর সেই শেষ মাথাটা দুই আঙুল দিয়ে ধরে আরেক হাতের আঙুল দিয়ে পেঁচাতে থাকল। শেষ মাথায় গিয়ে একটি ফুল তৈরি হলো। একই নিয়ম অনুসরণ করে রিনিতা এবার বানাল আরো একটি ফুল।

তারপর আইকা লাগিয়ে টিস্যু বক্সের ওপরের দুই কোনার দুটি ছবির ওপর বসিয়ে দিল।

ফুলগুলো তৈরির সময়ও পেঁচানোর ফাঁকে ফাঁকে আইকা ব্যবহার করল রিনিতা।

এবার আরো দুটি স্টিকি নোটের পাতা ছিঁড়ে নিয়ে একই নিয়মে গোল করে কেটে অর্থাৎ জিলাপি যেভাবে গোল হয়, ঠিক সেভাবে কেটে আরো দুটি ফুল তৈরি করে ওই দুটি ফুলের ওপর একটি একটি করে বসিয়ে দিল।

ফুল বসিয়ে এলো পাতায়। হালকা সবুজ রঙের দুটি স্টিকি নোট ছিঁড়ে কাজে লাগাতে শুরু করল এবার।

দুটি স্টিকি নোটের পাতা থেকে মোট চারটি পাতা পাতার শেপে কাটল। আর পাতার মাঝে ভাঁজ তৈরির জন্য পাতাগুলোকে দুই ভাঁজ করে ফেলল। তারপর পাতার ওপরে যে দাগগুলো থাকে সে দাগ তৈরির জন্য পাতাগুলোকে বাঁকা করে আরো তিনটি ভাঁজ করল। এরপর খুলে এক কোনার একটি ফুলের দুই পাশে দুটি পাতা আইকা লাগিয়ে বসাল। আবার বক্সের আরেক কোনায় আরেকটি ফুলের পাশে আরো দুটি পাতা বসাল আইকা লাগিয়ে। তারপর পাতার ফাঁকে ফাঁকে পুঁতি ব্যবহার করল। ওয়াও! দারুণ একটা বক্স তৈরি হয়ে গেল রিনিতার। আর রিনিতাও এবার দৌড়ে দৌড়ে নিয়ে আসতে লাগল পেনসিল, ছবি আঁকার তুলি, রং পেনসিল, সাইন পেন—সব, যা এত দিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে বিরক্ত করত ওকে। সব কিছু একসঙ্গে রেখে দিল এই বক্সে।

বাহ্ দারুণ তো! সব কিছুই এখন কেমন গোছানো রিনিতার পড়ার টেবিলের!

 

     —তারেকা জুজু


মন্তব্য