kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গরু কিন্তু ‘গরু’ নয়

গরু! চোখের সামনে ভেসে ওঠে গোবেচারা একটা প্রাণী। কিন্তু গরু যে মোটেই বেচারা নয়; বরং বুদ্ধিশুদ্ধিতে আরো অনেকের ওপরে সেটাই জানাচ্ছেন আশিক চৌধুরী

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গরু কিন্তু ‘গরু’ নয়

১. মানুষের মতো গরু পুরোপুরি সামাজিক প্রাণী। কোনো গরুই একা একা থাকতে চায় না।

সব সময় দলবেঁধে ঘাস খেতে ভালোবাসে। রাতে ঘুমানোর সময়ও গরু তার পরিবার ও বন্ধুর কাছে থাকতে পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে গরুর আবার মুরব্বিজ্ঞানও প্রখর। গোয়ালে কে কোন অবস্থানে থাকবে সেটা গরুরা নিজেরা ঠিক করে নেয় বয়সের ক্রমানুসারে। গরু আবার বন্ধুত্বও করতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে এক গোয়ালে থাকতে চায় গরু। এমনকি তিন-চার বছরেও সেই বন্ধুত্বে এতটুকু ফাটল ধরে না। এর মধ্যে সহজে নতুন কাউকে বন্ধু হিসেবে মানতেও পারে না গরু। এ কারণে গোয়ালে নতুন গরু এলে দেখবে একটা আরেকটাকে শিং দিয়ে গুঁতা দেওয়া শুরু করে।

২. মানুষের মতো গরুও কোনো সমস্যার সমাধান খোঁজার সময় বেশ উত্তেজিত থাকে। ধরো, গোয়ালের দরজা বন্ধ। গরু সেটা খোলার চেষ্টা করছে। এমন সময় তাদের হার্টবিট থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এ অবস্থায় তাদের মগজের তরঙ্গও মেপে দেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে কোনো সমস্যার মুখে পড়লে গরুর মস্তিষ্কে খুব উত্তেজনা কাজ করে। আর সমস্যার সমাধান পেলে গরু খুশিতে লাফিয়েও ওঠে। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় আটকে থাকার পর খোলা মাঠে ছাড়া পেলেও খুশিতে একই কাণ্ড ঘটায় গরুর পাল।

 

৩. গরু একসঙ্গে চারপাশ দেখতে পায়। অনেকটা মোবাইলের প্যানারোমার মতো। দুই চোখ মিলিয়ে গরুর দৃষ্টিসীমায় ধরা পড়ে ৩৬০ ডিগ্রি। অর্থাৎ তুমি যেখানেই দাঁড়াও না কেন গরু তোমাকে দেখবেই। এ ছাড়া গরুর কানে শোনার ক্ষমতাও অনেক শক্তিশালী। মানুষ শোনে না—এমন উচ্চ তরঙ্গের শব্দও গরু শুনতে পায়।

 

৪. অনেকের ধারণা গরুর চারটি পাকস্থলী আছে। আসলে এটা ভুল। গরুর পাকস্থলী একটাই, তবে এতে চারটি আলাদা ভাগ আছে। প্রতিটি ভাগই ঘাস, লতা-পাতাকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। এ কারণে গরুর পেটে হজম হয় ভালো। এ ছাড়া গরু প্রথমে যা খায়, তা আংশিকভাবে হজম হয়। পুনরায় খাবার চিবুতে (যাকে বলে জাবর কাটা) দিনে ৮ ঘণ্টা সময় নেয় একটি গরু।

 

৫. আমেরিকায় গরু ছিল না। কারো মতে, আমেরিকায় প্রথম গরু আসে জেমসটাউন শহরে, ১৬১১ সালে। আবার কেউ বলেন ১৪৯৩ সালেই ক্রিস্টোফার কলম্বাস তাঁর দ্বিতীয় অভিযানের সময় সঙ্গে করে গরু নিয়ে আসেন।

 

৬. পৃথিবীতে এ মুহূর্তে প্রায় ১০০ কোটি গরু আছে।

 

৭. কারো বুদ্ধিশুদ্ধির ঘাটতি থাকলে আমরা তাকে ‘গরু’ বলে ডাকি। গরু কিন্তু মোটেই ‘গরু’ না।   গরুর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে। তাতে প্রায় সব প্রজাতির গরুই দারুণ বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে লিভার টেনে দরজা খোলা, নিজে নিজে ভার নেওয়া, কল চেপে পানি পান, মানুষের দেখাদেখি মাথা ঝাঁকানো, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা, গুটিয়ে রাখা চাদর বিছানো, মুখে তুলি নিয়ে ছবি আঁকা, বল নিয়ে খেলা ইত্যাদি। আর এগুলোর ভিডিও দেখতে হলে যেতে হবে এই লিংকে— https://www.youtube.com/watch?v=FK-4-5eYRwc|

গরুর স্মৃতিশক্তিও অসাধারণ। কেউ তার প্রতি খারাপ আচরণ করলে গরু সেটা অনেক দিন মনে রাখে। মওকা পেলে পুরনো শত্রুকে আচমকা ঢু মেরে বসতে দেখা গেছে অনেক গরুকে।

 

৮. মানুষের থাকুক বা না থাকুক, প্রাপ্তবয়স্ক গরুর ৩২টি দাঁত থাকে।

 

৯. মানুষের যেটা ১০১ ডিগ্রি জ্বর, গরুর জন্য সেটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা।

 

১০. গৃহপালিত গরু দিনে ৪ ঘণ্টা ঘুমায়। দৌড়ানোর গতি গড়ে ঘণ্টায় ৩৫ মাইল।

 

১১. গরুর ঘ্রাণশক্তি প্রবল, ৫ মাইল দূরের গন্ধও এরা টের পায়।

 

১২. ১৯৩০ সালে এলম ফার্ম ওলি নামের একটি গরু প্রথম বিমানে চড়ে।

 

১৩. গরু সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারলেও নামতে পারে না। কারণ নামার জন্য বিশেষ কায়দায় তারা তাদের হাঁটু বাঁকাতে পারে না।


মন্তব্য