kalerkantho


ফিচার

টিং টিং আইসক্রিমমম!

চৈত্রের এ গরমে ছবিটা দেখে নিশ্চয়ই জিবে জল। ছবিটাকেই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে? আরে এটাই তো আইসক্রিমের জাদু। শিশু কী বুড়ো; কেউ খায় গোগ্রাসে, কেউ খায় লুকিয়ে। কেউ চায় স্ট্রবেরি, কারো চাই চকোলেট; ভ্যানিলা তো আছেই। আরো কত স্বাদের আইসক্রিম যে আছে দুনিয়ায়! লিখেছেন ফাহমিদা হক

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



টিং টিং আইসক্রিমমম!

ছবি : কাকলী প্রধান

কে খেল প্রথম আইসক্রিম?

 

আইসক্রিমের মতো এর ইতিহাসটাও মজার। নানাজনের নানা মত। কেউ বলে চীনে প্রথম আইসক্রিম বানানো হয়েছিল। সেখান থেকে ১৩০০ সালের দিকে মার্কো পোলো নামে বিখ্যাত এক অভিযাত্রী আইসক্রিম নিয়ে আসেন ইউরোপের দেশ ইতালিতে। কোনো ইতিহাসবিদ মনে করেন, ক্যাথারিন দো মেদিচ্চি নামের এক রাজা ইতালি থেকে ফ্রান্সে আসার সময় নিয়ে আসেন আইসক্রিম বানানোর রেসিপি। কেউ কেউ আবার আইসক্রিমের ইতিহাস টেনে নিয়ে যান আরো পেছনে। অটোমান রাজা সুলেমান মনের সুখে বরফ দেওয়া শরবত পান করতেন। ওটাও তো এক ধরনের আইসক্রিম। প্রাচীন গ্রিসের রাজা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের নাম নিশ্চয়ই শুনেছ? তিনিও কিন্তু বরফ আর মধু মেশানো এক ধরনের খাবার খেতে দারুণ ভালোবাসতেন। যেটা দেখতে অনেকটা এখনকার বরফ-গোলার মতো।

কিন্তু আগের আমলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বরফ আসতো কিভাবে? ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেল রোমের রাজা নিরোর শাসনকাল, মানে খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৫৪-৬৮ সময়কালে পাহাড় থেকে নিয়ে আসা হতো বরফ। সেগুলো ভরে রাখা হতো খড়ে ছাওয়া গর্তে। এতে বরফগুলো সহজে গলতো না। অর্থাৎ ওই খড়ের গাদা ছিল তখনকার ফ্রিজ!

৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দে চীনের ট্যাং সাম্রাজ্যের আমলে জমাট বাঁধা দুধের মতো একটা খাবার খেত রাজারা। গরু আর ছাগলের দুধের সঙ্গে ময়দা মাখিয়ে বানানো হতো ওটা। সুগন্ধ আনার জন্য এতে মেশানো হতো ক্যামফোর নামের সুগন্ধি। ঠাণ্ডা করতে সেটাকে ধাতব পাত্রে ঢেলে বরফের চাঁইয়ের মধ্যে রাখা হতো। এরপর আরো অনেক দেশ ঘুরে, অনেকের হাত ধরে আইসক্রিমে আসে নতুনত্ব। তবে মনে করা হয়, আধুনিক আইসক্রিম এসেছে অ্যান্টোনিও লাতিনি নামের স্পেনীয়র হাত ধরে। বাণিজ্যিকভাবে আইসক্রিম বানানোর শুরু হয় ১৮৫১ সালে আমেরিকার বোস্টনে।

 

কত শত আইসক্রিম

দোকানে গেলেই তো দেখা যায় আইসক্রিমের রকমফের। কিন্তু এর বাইরেও আছে আরো শত ফ্লেভার। জনপ্রিয়তার শীর্ষে ভ্যানিলা, চকোলেট, স্ট্রবেরি, আম, কলা, আমন্ড, পেস্তা। আছে মধু, কফি, রাসবেরি, বিস্কুটসহ নানা ফ্লেভারের আইসক্রিম। আইসক্রিমের ওপর আবার ‘টপিং’ হিসেবে পাওয়া যায় কুকি, বিস্কুট, ওয়েফার ও সিরাপসহ মজাদার সব খাবার। ইদানীং আবার আজব কিছু স্বাদও এসে হাজির হয়েছে। এর মধ্যে আছে হট-ডগ ফ্লেভার, আচার ফ্লেভার, অ্যাভোকাডো, জালাপেনো, কুমড়ো, এমনকি রসুনের স্বাদের আইসক্রিমও!

 

সবচেয়ে বড় আইসক্রিম

কার আইসক্রিম কত বড়, সেটা নিয়েও যে কত কাণ্ড হলো এখানে-ওখানে! ১৯৮৮ সালে কানাডার আলবার্টা অঙ্গরাজ্যের অ্যাডমন্টন শহরে ২৪ টনের বিশাল এক আইসক্রিম বানানো হয়। এরও আগে ১৯৮৫ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ১২ ফুট লম্বা এক আইসক্রিম সান্ডি বানানো হয়। ওটা বানাতে লেগেছিল চার হাজার ৬৬৭ গ্যালন আইসক্রিম। গেল বছরই নরওয়েতে বানানো হয়েছিল সবচেয়ে বড় কোন আইসক্রিম। ৪০ লিটারের লিনগনবেরি জ্যাম আর এক হাজার ৮০ লিটারের ভ্যানিলা আইসক্রিম আর ৬০ লিটারের চকোলেট দিয়ে বানানো এই আইসক্রিমের কোনের বিস্কুটেরই ওজনই ছিল ৭৫ কেজি। লম্বায় আইসক্রিমটা ছিল তিন মিটারের একটু বেশি।


মন্তব্য