প্রাচীন গল্প-334474 | টুনটুন টিনটিন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭

প্রাচীন গল্প

পুনর্কথন : বিপ্রদাশ বড়ুয়া

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রাচীন গল্প

কার জয় হলো

 

ষাঁড় ও ঘোড়া বুঝতে পারল সামনে খারাপ দিন। ওদের মালিক সেনানায়ক যুদ্ধে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। ঘোড়া খুব চিন্তিত হয়ে পড়ল, তার পিঠে চড়েই যুদ্ধক্ষেত্রে যাবে মালিক! সেখানে প্রতি পদে বিপদ। ঠিকমতো লাগলে একটি গুলিতেই জীবন শেষ। ওদিকে ষাঁড় বেজায় খুশি। তাকে তো যুদ্ধে নিয়ে যাবে না মালিক। কাজেই খাও-দাও ফুর্তি তার।

কিন্তু সব হিসাব একেবারে উল্টো হয়ে গেল। যুদ্ধের মাঠ থেকে খবর এলো শক্ররা আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য জুড়ে উৎসব শুরু হয়েছে। যুদ্ধজয়ের ভোজে দরকার প্রচুর মাংস। কাবাক, টিক্কা, রেজালা, সুরুয়ার আয়োজন শুরু হলো। মাংস হবে বাড়ির ষাঁড়। তাহলে ষাঁড় ও ঘোড়ার মাঝে কার জয় হলো?

 

বিড়াল ও মুরগিরা

 

একদিন বিড়াল শুনতে পেল যে মুরগির খামারে রোগ দেখা দিয়েছে। এই সুযোগের জন্য বিড়াল রোজ খামারের আশপাশে ঘুরঘুর করছিল। ব্যস, ডাক্তারের মতো পোশাক পরে হাতে ঝুলি নিয়ে চলল বিড়াল ডাক্তার। ঝুলিতে ওষুধ, ইনজেকশন, স্টেথস্কোপ, কাঁচি, ব্যান্ডেজ, বোতল ইত্যাদি নিয়ে চলল। খামারে পৌঁছে বিড়াল প্রথমে বলল, ‘সুপ্রভাত মোরগ-মুরগিরা, আমি তোমাদের ডাক্তার। আজ কেমন আছ? জ্বর, সর্দি ও পেটখারাপ নেই তো? দরজা খোলো দয়া করে। রোগ হলে বসে থাকতে নেই, ওষুধপথ্য খেতে হয়। দয়া করে দরজা খোলো। আমি তোমাদের কষ্ট দূর করতে এসেছি।’

সঙ্গে সঙ্গে মুরগিরা সবাই এক সুরে বলল, ‘ধন্যবাদ আপনাকে। আজ আমরা সবাই খুব ভালো আছি। জ্বরটর একদম হাওয়া হয়ে যাবে আপনি চলে গেলে। কারণ, গায়ের জ্বর ও জোরের চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক শক্তিশালী।’

 

 

বানর ও জেলে

 

জেলে দুজন নদীতে মাছ ধরছিল জাল দিয়ে। জালের দড়ি বাঁ হাতের কবজিতে বাঁধা। প্রথমে জালের কিছু অংশ বাঁ হাতের কনুইয়ে তুলে নিল। তারপর ডান হাতে ও বাঁ হাতে গুছি করে ধরে নদীতে ছুড়ে মারল। বেশ। গোল হয়ে শব্দ করে জাল মেলে গিয়ে পড়ল। তারপর একটি সম্মিলিত শব্দ হলো ঝপাং। গাছে বসে আম খেতে খেতে বানরটা সব দেখল। তারপর জেলেরা জাল থেকে মাছ বের করে ডুলায় ভরে রাখল।

ওই দেখে দেখে বানরের খুব লোভ হলো। এদিকে সূর্য মাঝ আকাশে উঠে এলো। হয়রান হয়ে ওরা খেতে চলল। কিন্তু যাওয়ার সময় মাছের ডুলাটি নিতে ভুলল না। খেয়ে এসে আবার জাল বাইবে বলে জাল-দুটি রেখে গেল।

গাছ থেকে নেমে বানর একটি জাল তুলে নিল। বাঁ হাতের কবজিতে বেঁধে নিল। তারপর জেলেরা যেমন যেমন করেছিল তেমন তেমন করে জাল ছুড়ে মারল। না হলো না। আবার চেষ্টা করল। তাতেও হলো না; বরং সে উল্টো জালে জড়িয়ে পড়তে লাগল। শেষে একেবারে জালবন্দি।

তখন সে নিজে নিজে বলতে লাগল, ‘আমি আজ একটি জিনিস শিখলাম। তা হলো, এই কাজটি যে জানে তার জন্য রাখাই ভালো।’

 

অসুস্থ পশুরাজ

 

এক সিংহ। একবার বদহজম হয়ে তার পেট খারাপ হলো। খবর পেয়ে পশুদের সব ডাক্তার একে একে আসা শুরু করল।

জেব্রা এসে বলল, ‘মহারাজ, কী বদ গন্ধ আপনার নিঃশ্বাসে! আপনি...’

জেব্রা কথা শেষ করতে পারল না। পশুরাজ ঘৃণা ও রাগে বলে উঠল, ‘কী সাহস তোর...’ বলেই এক থাবায় মাটিতে ফেলে দিল।

হায়েনা এসে বলল, ‘কী সুন্দর ঘ্রাণ আপনার গায়ে!’ কারণ সে এরই মধ্যে জেব্রার পরিণতি দেখতে পেয়েছে।

অমনি পশুরাজ গর্জে উঠে বলল, ‘তুই কি মনে করিস আমি বোকা?’ বলেই যথারীতি তাকে এক থাবায় শেষ করে দিল। তারপর পাশে বসা শেয়ালকে ডেকে বলল, ‘তুই কি ভাবছিস ভাগনে, বল তো!’

ধূর্ত ও তীক্ষবুদ্ধির শেয়াল বলল, ‘মামা মহারাজ, সর্দিতে আমার নাক একেবারে বন্ধ, মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস টানছি। আমি কোনো গন্ধই টের পাচ্ছি না।’

মন্তব্য