• ই-পেপার

ময়লা পরিষ্কার করতে নেমে গেলেন বিদেশি পর্যটকরাই

পর্যটনকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
পর্যটনকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

দেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে চলমান এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাড়বে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম), গ্রামীণ পর্যটন এবং টেকসই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন খাতের বিকাশে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ পর্যটন খাতকে আরো গতিশীল করবে বলে আশা করছে সরকার।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বিমান নিরাপত্তা জোরদার এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন খাত গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সমন্বিত যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নয়ন করা হবে।

সরকারের আশা, পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি সিডিসির

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি সিডিসির
প্রতীকী ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় সংক্রামক রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মানুষকে সতর্ক করতে নিয়মিত ভ্রমণ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা (ট্রাভেল হেলথ নোটিশ) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।

এসব সতর্কবার্তার উদ্দেশ্য হলো ভ্রমণকারীদের গন্তব্য দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা এবং রোগ সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশিকা থেকে এ তথ্য জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিডিসি তাদের এই নির্দেশিকা হালনাগাদ করে।

সিডিসি সাধারণত চারটি কারণে ভ্রমণ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করে। এগুলো হলো— কোনো দেশ বা অঞ্চলে রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, নতুন বা অস্বাভাবিক এলাকায় রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া, প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বড় ধরনের জনসমাগম বা আন্তর্জাতিক আয়োজনের কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।

ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সিডিসি সতর্কবার্তাকে তিনটি স্তরে ভাগ করে।

লেভেল-১ এ সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

লেভেল-২ এ ভ্রমণকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ, মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা এবং বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে লেভেল-৩ এ উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সিডিসি ভ্রমণের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির কথাও বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে গন্তব্য দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যাচাই করা, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ টিকা গ্রহণ করা এবং নিয়মিত টিকাগুলো হালনাগাদ আছে কি না তা নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সম্পর্কে ধারণা থাকলে অনেক সংক্রামক রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তারুণ্যে দেশ না ঘুরলে হারাবেন জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো

ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধ গড়ে তোলারও এক অনন্য মাধ্যম

অনলাইন ডেস্ক
তারুণ্যে দেশ না ঘুরলে হারাবেন জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো
ছবিঃ এ আই জেনারেটেড

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আহ্বান ছিল—চল্ চল্ চল্। নতুনকে জানার, অজানাকে আবিষ্কার করার এবং সীমা ভাঙার এই বার্তা আজও তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। তারুণ্য এমন এক সময়, যখন মানুষের মনে থাকে স্বপ্ন, সাহস এবং পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তাই এই বয়সেই ঘুরে দেখা উচিত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।

পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর, বন আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই দেশ শুধু চোখ জুড়ায় না, শেখায় জীবনকে নতুনভাবে দেখতে। ভ্রমণের প্রতিটি পথ, প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি অভিজ্ঞতা একজন তরুণের জীবনকে আরো সমৃদ্ধ ও পরিণত করে তুলতে পারে।

জীবনের প্রতিটি বয়সেরই আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ বয়সে ভ্রমণ শুধু আনন্দের জন্য নয়, বরং নিজেকে গড়ে তোলা, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার অন্যতম সেরা উপায়।

বাংলাদেশ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি দেশ। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর, চা-বাগান, বনাঞ্চল এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণ। কিন্তু অনেক তরুণই পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা ভবিষ্যতের চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে দেশের এই সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারুণ্যেই দেশ ঘুরে দেখার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শারীরিক সক্ষমতা। এই বয়সে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পাহাড়ে ট্রেকিং, ঝরনা দেখতে দুর্গম পথে যাওয়া কিংবা নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ও ব্যস্ততা যেমন বাড়ে, তেমনি কমে যায় সময় ও শারীরিক শক্তি।

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, বিশেষ করে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। একইভাবে সুনামগঞ্জের হাওর, কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত, সিলেটের চা-বাগান কিংবা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘুরে দেখতে প্রয়োজন সময়, উদ্যম এবং ভ্রমণের মানসিকতা—যা তারুণ্যে সবচেয়ে বেশি থাকে।

তরুণ বয়সে ভ্রমণের আরেকটি বড় সুবিধা হলো কম খরচে ঘোরার সুযোগ। শিক্ষার্থী বা নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করা তরুণরা সাধারণত বিলাসবহুল হোটেলের পরিবর্তে কম খরচের আবাসন, ক্যাম্পিং কিংবা দলবদ্ধ ভ্রমণকে প্রাধান্য দেন। এতে সীমিত বাজেটেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণ মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। বই থেকে অনেক তথ্য জানা গেলেও বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ঘুরলে মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এবং সংগ্রাম সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হয়। এতে দৃষ্টিভঙ্গি আরো বিস্তৃত হয় এবং সমাজ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা গড়ে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ক্লান্তি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, চাকরির প্রস্তুতি কিংবা কর্মক্ষেত্রের চাপের কারণে অনেকেই মানসিক অবসাদে ভোগেন। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণ হতে পারে কার্যকর একটি সমাধান। প্রকৃতির কাছে কিছু সময় কাটালে মন সতেজ হয়, মানসিক চাপ কমে এবং নতুনভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ভ্রমণ মানুষের যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও বাড়ায়। নতুন জায়গায় গিয়ে পথ খুঁজে বের করা, অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলা কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জীবনে কাজে লাগে।

অনেক সফল ট্রাভেল ব্লগার, ফটোগ্রাফার ও উদ্যোক্তার যাত্রাও শুরু হয়েছিল তরুণ বয়সের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে। কেউ শখকে পেশায় রূপ দিয়েছেন, আবার কেউ দেশের সৌন্দর্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন।

ভ্রমণপ্রেমীদের মতে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর অনেকটাই তৈরি হয় তারুণ্যে। বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ কোথাও বেরিয়ে পড়া, পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা, হাওরের মাঝে নৌকায় রাত কাটানো কিংবা কোনো অচেনা গ্রামের মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা—এসব অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করার জন্য নয়, বরং নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এবং দেশকে নতুনভাবে জানতে তরুণ বয়সেই ভ্রমণে বের হওয়া উচিত। কারণ সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। কিন্তু তারুণ্যের ভ্রমণ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও স্মৃতিগুলো সারা জীবন মানুষের সঙ্গেই থেকে যায়।

তাই সুযোগ থাকলে দেরি না করে ব্যাগ কাঁধে তুলে বেরিয়ে পড়ুন বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে। পাহাড়ের নীরবতা, সমুদ্রের গর্জন, হাওরের বিস্তৃতি কিংবা গ্রামের সরল জীবন—প্রতিটি অভিজ্ঞতাই আপনাকে নতুন কিছু শেখাবে। বয়স ও দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় বের করা কঠিন হয়ে যায়, কিন্তু তারুণ্যে অর্জিত স্মৃতি, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আজীবন সঙ্গী হয়ে থাকে। তাই নিজেকে জানার, দেশকে চেনার এবং জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তরুণ বয়সেই ঘুরে দেখা উচিত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।

ঈদের লম্বা জার্নির পর বাইকের ইঞ্জিন ও মাইলেজ ঠিক রাখতে যা যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক
ঈদের লম্বা জার্নির পর বাইকের ইঞ্জিন ও মাইলেজ ঠিক রাখতে যা যা করবেন
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দূর-দূরান্তের পথ। মহাসড়কের মাইলের পর মাইল ফাঁকা রাস্তা কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট—সব পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরা এবং ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল প্রিয় টু-হুইলারটির। তবে একটানা এত দীর্ঘ পথ চলার কারণে রাইডারের মতো মোটরসাইকেলের ওপর দিয়েও কম ধকল যায় না।

তাই ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাইকের ইঞ্জিন সচল ও পারফরম্যান্স নতুনের মতো ধরে রাখতে কিছু জরুরি মেইনটেইন্যান্স বা যত্নের প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রাইড শেষে অলসতা না করে মোটরসাইকেলের মৌলিক কয়েকটি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আর্থিক ক্ষতি—দুটো থেকেই বেঁচে থাকা সম্ভব।

পাঠকদের জন্য এমন কিছু জরুরি পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো—

  • ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন

লং ট্যুর থেকে ফেরার পর সবচেয়ে প্রথম যে কাজটি করা দরকার, তা হলো ইঞ্জিন অয়েল বা মবিল পরিবর্তন। একটানা হাইওয়েতে উচ্চ গতিতে চলা এবং জ্যামের মধ্যে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণে মবিলের কার্যক্ষমতা বা ভিসকোসিটি (ঘনত্ব) দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই আপনার বাইকের ইঞ্জিন অয়েলের গ্রেড অনুযায়ী সেটি পরিবর্তন করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশগুলো ঘর্ষণজনিত ক্ষয় থেকে রক্ষা পাবে এবং বাইকের স্মুথনেস বজায় থাকবে।

  • এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার ও প্রতিস্থাপন

লং ট্যুরের ধকলের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করা। মহাসড়কে বা গ্রামীণ রাস্তায় চলার সময় বাতাসে থাকা প্রচুর ধুলাবালি বাইকের এয়ার ফিল্টারে জমা হয়। ফিল্টার জ্যাম হয়ে গেলে ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছাতে পারে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মাইলেজের ওপর। এতে বাইকের অ্যাক্সেলেরেশন বা টানতে সমস্যা হয় এবং জ্বালানি খরচ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যায়। তাই মেকানিকের কাছে গিয়ে প্রেসারাইজড হাওয়া দিয়ে ফিল্টারটি পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। তবে ফিল্টার বেশি নোংরা বা নষ্ট হলে তা বদলে ফেলাই শ্রেয়।

  • ড্রাইভ চেইন টিউনিং ও লুব্রিকেশন

দীর্ঘ পথ চলায় মোটরবাইকের ড্রাইভ চেইনের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। রাস্তার কাদা, পানি ও ধুলার কারণে চেইনের ভেতরের লুব্রিকেন্ট শুকিয়ে যায় এবং চেইন ঢিলে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঢিলে চেইন নিয়ে রাইড করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চেইনের টেনশন বা টাইট ঠিকঠাক করে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর ভালো মানের চেইন লুব বা গিয়ার অয়েল ব্যবহার করতে হবে। এতে চেইন স্প্রকেটের স্থায়িত্ব অনেক দিন বেড়ে যায়।

  • ব্রেক শু ও প্যাড পরীক্ষা

হাইওয়েতে বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রেকের ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত ব্রেকিংয়ের ফলে ব্রেক প্যাড বা শু দ্রুত ক্ষয়ে যায়। তাই দূরপাল্লার যাত্রা শেষে অবশ্যই সামনের ও পেছনের ব্রেক প্যাডের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। ক্ষয়ে যাওয়া প্যাড নিয়ে বাইক চালালে ব্রেক ডিস্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর পাশাপাশি ব্রেক অয়েলের লেভেল ঠিক আছে কি না, তা-ও নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন।

  • টায়ার ও স্পার্ক প্লাগের যত্ন

সর্বশেষে টায়ার ও স্পার্ক প্লাগের দিকে একটু নজর দিতে হবে। দূরপাল্লার রাইডে টায়ারে কোনো সূক্ষ্ম লিক হয়েছে কি না বা প্রেসার কমে গেছে কিনা তা চেক করে নেওয়া দরকার; কারণ অতিরিক্ত লোড ও গরমের কারণে টায়ারের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সাথে ইঞ্জিনের ভালো কম্বাশন বা সঠিক পাওয়ারের জন্য স্পার্ক প্লাগটি খুলে ভেতরের কার্বন পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে এই সাধারণ পাঁচটি যত্ন আপনার প্রিয় মোটরসাইকেলটিকে রাখবে একদম সুরক্ষিত, দীর্ঘস্থায়ী এবং সাশ্রয়ী। একটু সচেতনতাই পারে বড় দুর্ঘটনা ও বাড়তি খরচের হাত থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে।

ময়লা পরিষ্কার করতে নেমে গেলেন বিদেশি পর্যটকরাই | কালের কণ্ঠ