kalerkantho


বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমণ!

মাহতাব হোসেন   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪০



বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমণ!

পাররবতীপুর থেকে লালমনিরহাটগামী ডেমু ট্রেন

ত রবিবার সকাল দশটা। পার্বতীপুর জংশন থেকে ট্রেন ছাড়তেই দৌঁড়ে এসে ট্রেনে উঠলেন আবু বক্কর। টিকেট করার সময় নেই। ভাবলেন ট্রেনে উঠেই টিকেট কেটে নেবেন। ট্রেনে উঠে পড়তেই ট্রেন লালমনিরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে গেল। ট্রেনেও কোথাও টিকেট পেলেন না আবু বক্কর। কারণ ট্রেনে চেকার নেই।

কেননা আবু বক্কর এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। তিনি থাকেন ঢাকায়। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে একটি টুরিস্ট এজেন্সিতে আছেন। বাড়িতে আসেন বছরে দুই-একবার। আর ডেমু ট্রেন কিছুদিন আগে চালু হলেও সেটা সম্পর্কেও আইডিয়া নেই তাঁর।

ট্রেন খোলাহাটিতে থামলো না। বদরগঞ্জে  ট্রেন থামতে টিকেট করার জন্য নামতেই একজন হাত চেপে ধরলেন। বললেন, 'ভাই অনর্থক নামেন না। ট্রেন ছেড়ে দেবে। আর এই ট্রেনে কোনো টিকেট লাগে না। কোনো টিটি (টিটিই) নেই।'

আবু বক্কর নামলেন না। বাকিদের জিজ্ঞেস করলেন টিকেট কাটার কথা। এভাবে অন্তত ১০ জনকে জিজ্ঞেস করলেন টিকেট করেছে কি না। সবাই বক্করকে বোকা হিসেবে আখ্যা দিল। যে ট্রেনে (টিটিই) থাকে না সেই ট্রেনে আবার কেউ টিকেট করে নাকি? আবু বক্কর খুব অবাক হলো। ট্রেনে নাকি কেউ টিকেট করে না। তাহলে এই রেল ফ্রি চলে? নিজের মনে নিজেই প্রশ্ন করলেঙ তিনি।

আবু বক্কর রংপুরে নামলেন। লালমনিরহাট সে পরে যাবে আগে রংপুরে একটু কাজ আছে সেটা সেরে নেবে। তারপর বাসে যাওয়া যাবে। কিন্তু বিনা পয়সায় কেন বক্কর ট্রেনে ভ্রমণ করবে? মাত্র তো কয়েকটা টাকা। সে ভাবলো নাহ, রংপুর স্টেশনে টিকেট কালেক্টরের মাধ্যমে টিকেটের পয়সা তিনি দিয়ে দেবেন।

রংপুর স্টেশনের যে গেট দিয়ে বাইরে বেরোয় সেখানেই আবু বক্কর দুইজনকে দেখলেন- তারা টিকেট সংগ্রহ করছে। কাছাকাছি যেতেই একজন জিজ্ঞেস করলো 'দেখি আপনার টিকেট দেখি?' বক্কর টিকেট যে করতে পারে নি সে কথা ওই দুইজনকে বলল। এও বলল যে তাকে যেন একটি টিকেট করে দেয়।

বক্করকে ওইদুজন বলল দশটাকা দিলেই হবে। বক্কর জিজ্ঞেস দশটাকা দিলে টিকেট দেবে কি না। তারা জানায় টিকেট লাগবে না। শুধু তাদের দশটাকা দিয়ে যেন চলে যায়। বক্কর জোর করলেন টিকেট করে দেওয়ার জন্য। তারা টিকেট করাতে রাজি না। বাধ্য হয়ে বক্করকে জোর করে স্টেশন থেকে চলে যেতে বলল।

বাধ্য হয়ে বক্কর চলে এলেন। দশটাকাও ওরা নেয় নি। ওদের আসলে টিকেট কালেক্টরও মনে হয়নি বক্করের। কিন্তু টাকা না দিয়ে কেন সে ভ্রমণ করবে। বক্কর ব্যস্ততা নিয়ে সেদিন চলে এসেছিল।

বক্করের এই গল্পের ভিত্তিতে ঠিক পরেরদিন সোমবার ফের ওই ট্রেনে সওয়ার হবার পর দেখা গেল, সেটা গল্প নয়, আসলেই বাস্তব। এরই ভিত্তিতে পার্বতীপুর জংশনে জেআরআই (জুনিয়র রেল ইন্সপেক্টর, যিনি টিটিইদের দায়িত্ব বন্টন করেন) নুরুজ্জামানের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায় নি।

সহকারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সুজাউল ইসলাম মন্টু বলেন, আমাদের এখানে টিটিই সংকট। যে কারণে আমরা অনেক ট্রেনেই টিটিদের দায়িত্ব দিতে পারি না। ওপর পর্যায়ে জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে এ সমস্যা থাকবে না।

তাহলে আপাতত এভাবে বিনা পয়সায় চলবে রেল ভ্রমণ?


মন্তব্য