kalerkantho

যাদের কোনো অস্তিত্বই নেই

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাদের কোনো অস্তিত্বই নেই

এরা কেউ বাস্তবের মানুষ নন

ইন্টারনেটে যেসব মানুষের ছবি দেখতে পান, সেসবের সবাই কি সত্যিকারের মানুষ? এই প্রশ্নের উত্তরটি হচ্ছে ‘না’। একটি সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এমন এক সাইট তৈরি করেছে, যা কিনা মানুষের ছবি তৈরি করতে পারে। আর সেসব ছবির মানুষগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই সত্যিকারের দুনিয়ায়! জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

 

গ্রাফিকস কার্ড বানায় এনভিডিয়া। আর সেটা করেই নাম কামিয়েছে তারা। কিন্তু এবার তারা নিজেদের পরিচিত অঙ্গন থেকে বেরিয়ে তৈরি করেছে অদ্ভুত এক ওয়েবসাইট—‘দ্য পারসন ডাজ নট এক্সিস্ট’। প্রতিবার রিফ্রেশ করলে ওয়েবসাইটটি একটি করে মানুষের ছবি দেখায়, যার কোনো অস্তিত্ব কখনো ছিল না, এখনো নেই। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এনভিডিয়ার দাবি, তারা এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যেটি পুরোপুরি নতুন সব চেহারার জন্ম দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন একটি শাখা ‘জেনারেটিভ অ্যাডভারসরিয়াল নেটওয়ার্কিং’। এটা হচ্ছে নিউরাল নেটওয়ার্ক। এটি ব্যবহার করে একটি ছবি থেকে কিছু অংশ পরিবর্তন করে আরেকটি আনকোরা ছবি তৈরি করা হয়। এগুলোকে আবার ‘ডিপ ফেইক’ও বলা হয়ে থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অঙ্গনে।

তাঁরা এই অ্যালগরিদমটি নির্মাণ করেছে অসংখ্য সত্যিকারের মানুষের ছবি বিশ্লেষণ করে। এরপর অ্যালগরিদমটি এমন সব অবয়ব তৈরি করতে পারে, যার সঙ্গে কোনো ব্যক্তির মিল নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি ঠিক কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ পৃথিবীতে এখন জীবিত মানুষের সংখ্যা ৭৫৩ কোটি। যুগে যুগে আরো হাজার কোটি মানুষ পৃথিবীতে বাস করে গেছে। এত এত মুখের মধ্যে কোনো একটির সঙ্গে মিলবে না তা কী হয়? এটির ব্যাখ্যা এনভিডিয়ার তরফ থেকে দেওয়া হয়নি। তবে একটি বাস্তব অবয়ব থেকে আরেকটি অবয়ব তৈরি করলে সেটির সঙ্গে একজন বাস্তব মানুষের চেহারার মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলেই ধরে নেওয়া যায়।

বিষয়টি খুবই আকর্ষণীয় হলেও এটির আছে ভয়াবহ একটি দিক। যখন ডিপ ফেইকের নেতিবাচক দিক নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, তখন এমন একটি প্রযুক্তি এ ধরনের ডিপ ফেইককে আরো ডালপালা মেলতে সহায়তা করবে। ভুয়া একটি ছবি নিয়ে সেটি থেকে ভিডিও তৈরি করে সেগুলো অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচার করলে অমঙ্গলই বয়ে আনবে। রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়াতে এসব প্রযুক্তি অনেক সহায়তা করবে বলে আশঙ্কা করেছে ভার্জসহ অন্যান্য প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম। সেই সঙ্গে ফেইক আইডি বা বট তৈরিতেও এসব প্রযুক্তি বেশ সহায়তা করবে।

তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নানা শাখায় কাজে লাগবে বলেও মনে করেন অনেকেই। হিউম্যানয়েড রোবটের মুখ তৈরির ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি সহায়ক হবে। অগম্যান্টেড রিয়ালিটিতে কৃত্রিম মানুষ তৈরিতেও এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে।

মন্তব্য