kalerkantho

আবার সেই ভয়ংকর

সামীউর রহমান   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবার সেই ভয়ংকর

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কম্পিউটারের ব্যবহার তখন মাত্র জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। কাজের পাশাপাশি তাতে গেইম খেলাটারও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে অনেকের। এমন সময়ে ‘দ্য হাউস অব দ্য ডেড’ নামের গেইমটা খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল বাংলাদেশের গেইমারদের কাছে। পোড়াবাড়ি, গোরস্তান, নানা রকম ভূতের আক্রমণ থেকে বাঁচার লড়াই। সে রকমই একটি গেইম ‘রেসিডেন্ট ইভিল’। ‘দ্য হাউস অব দ্য ডেড’ প্রকাশ করেছিল সেগা আর ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ প্রকাশ করেছিল ক্যাপকম। রেসিডেন্ট ইভিল সিরিজের চরিত্রদের নিয়ে পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র, এনিম্যাশন মুভি, কমিক বইসহ অনেক কিছুই বেরিয়েছে। নির্মাতারা চাইছিলেন, এই সিরিজের দ্বিতীয় গেইমটাকে নতুন প্রযুক্তিতে আবারও গেইমারদের কাছে নিয়ে আসতে। তাই তো ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রেসিডেন্ট ইভিল ২’ গেইমটাকে এই ২০১৯ সালে এসে নতুন প্রযুক্তিতে আরো উন্নত সংস্করণে গেইমারদের কাছে নিয়ে এসেছে ক্যাপকম।

গল্প সেই আগেরটাই আছে। একটি রাসায়নিক জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষা করতে গিয়ে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ টি-ভাইরাস। তাতেই যুক্তরাষ্ট্রের কাল্পনিক এক শহর ‘র‌্যাকুন সিটি’র সব প্রাণী পরিণত হয় অর্ধমৃত জোম্বিতে। সুস্থ মানুষদের দেখলেই আক্রমণ করে তারা, খেয়ে ফেলতে চায়। এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বেঁচে যায় অল্প কয়েকজন। যাদের ভেতর আছে র‌্যাকুন সিটির তরুণ পুলিশ সদস্য লিওন এস কেনেডি আর এক কলেজছাত্রী ক্লেয়ার রেডফিল্ড। তারা দুজনে মিলে খুঁজতে থাকে এই ভাইরাসের উৎস, চেষ্টা করে প্রতিষেধক তৈরির; কিন্তু শহরজুড়ে ওত পেতে থাকা জোম্বিদের কবল থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে তারা কি পারবে এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে? মানবজাতিকে এই বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে কি-বোর্ড আর মাউস নিয়ে বসে যেতে হবে গেইমারদের।

সারভাইভাল হরর ঘরানার এই গেইমের মূল আকর্ষণ হচ্ছে ভয়! কখন কোন বাঁকে, ছাদের ওপর কিংবা আলমারির ভেতর যেকোনো জোম্বিটি ঘাপটি মেরে আছে, অন্ধকারে তা বোঝা মুশকিল। আধো আলো আধো ছায়ায় স্রেফ টর্চলাইটের আলোয় পথ চলা। হঠাৎ কোন দিক থেকে যে বিপদ আসবে, টেরই পাওয়া যাবে না! সেই লড়াইটাই খেলার সবচেয়ে বড় উত্তেজনা। সেই সঙ্গে নেপথ্য শব্দ ও আবহ সংগীতও এমন একটা ভয় ধরানো অনুভূতি জাগিয়ে তোলে যে কম্পিউটারের পর্দা ছেড়ে জোম্বিগুলো ঘরের ভেতরেই চলে এসেছে মনে হয়!

এই ভয়ংকর জোম্বিদের ঠেকাতে হবে পিস্তলের গুলিতে মেরে। কখনো পাওয়া যাবে শটগান। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তুলে নেওয়া জিনিসও ব্যবহার করতে হতে পারে। গেইমের আরেকটা মনকাড়া ব্যাপার হচ্ছে, গ্রাফিকস। জোম্বিগুলোর বীভৎসতা, তাদের কামড়ের আধখাওয়া চেহারা—সবই এত সুচারুভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে ভয় না পেয়ে উপায় নেই। গুলি করে জোম্বি মারার সঙ্গে বেশ কিছু ধাঁধাও আছে গেইমজুড়ে। চাবি, ওষুধ কিংবা তথ্যের খোঁজে ছুটতে হবে এখান থেকে সেখানে। সমাধান করতে হবে কিছু ধাঁধারও।

পুরনো গেইমটা যখন মুক্তি পেয়েছিল, তখন তো ১৬ মেগাবাইট এজিপি কার্ডেই রীতিমতো চোখ কপালে উঠত। প্রসেসর স্পিডও ছিল মেগাহার্টজের অঙ্কে। এখন তো মাল্টিকোর আর গিগাহার্টজের যুগ, ফোরকে আর এইচডির যুগ। তবে সময় পাল্টালেও ভয়টা কিন্তু আদিমই রয়ে গেছে। যার ছাপ পাওয়া যাবে রেসিডেন্ট ইভিল টু গেইমে।

গেইমটি বাজারে এসেছে ২৫ জানুয়ারি। পিসির পাশাপাশি খেলা যাবে এক্সবক্স ওয়ান এবং প্লেস্টেশন ফোরেও।

 

খেলতে যা যা লাগবে

ইন্টেল কোর আই ফাইভ ৪৪৬০ ২.৭ গিগাহার্টজের প্রসেসর

অথবা এএমডি এফএক্স ৬৩০০

এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৭৬০/এ এমডি র‌্যাডিওন আর৭ ২৬০এক্স (২ গিগা ভিডিও র‌্যামসহ)

ডেডিকেটেড ভিডিও র‌্যাম : ২০৪৮ মেগাবাইট

৬৪ বিট উইন্ডোজ

বয়স

১৫+

 

মন্তব্য