kalerkantho


পুলিশের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

অপরাধ ঘটার আগেই ব্যবস্থা

কম্পিউটারে তথ্য বিশ্লেষণ করে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই আটকে দেওয়া সম্ভব। কিভাবে? বিবিসি অনলাইন অবলম্বনে তা জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অপরাধ ঘটার আগেই ব্যবস্থা

মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমান স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ম্যাপের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো রঙিন কোডের মাধ্যমে চিহ্নিত করে। ছবি : বিবিসি অনলাইন

ধরুন, একদল ডাকাত ব্যাংক লুট করতে বের হয়েছে। পরিকল্পনামতো ব্যাংকের সামনে গিয়ে দেখে নিরাপত্তারক্ষীতে এলাকা সয়লাব। অথবা গভীর রাতে একাকী একটি মেয়ে বাসায় ফিরতে গিয়ে পড়েছে বখাটেদের সামনে। ভয়ে কুঁকড়ে ওঠার আগেই সেখানে পুলিশের গাড়ি হাজির।

অতীতে এ ধরনের ঘটনা ‘কাকতাল’ হিসেবে ঘটলেও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এখন জেনেশুনেই জানমাল নিরাপদ রাখতে পারছে নিরাপত্তা বাহিনী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের সহায়তায় অতীতের লাখো ঘটনার তথ্য কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করে অপরাধ ঘটার আগাম অনুমান করা যাচ্ছে। হলিউডি সিনেমা ‘দ্য মাইনরিটি রিপোর্ট’ যেন এখন ‘বাস্তব’ রূপ পাচ্ছে।

ধারণাটি নিয়ে কাজ করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রেডিকটিভ পুলিশিং সফটওয়্যার (প্রেডপল)। তাঁরা মনে করেন, যথেষ্ট পুরনো ডাটা থাকলে সেটির সঙ্গে অনেক পরিবেশগত ও আচরণগত তথ্যের মিশেল ঘটিয়ে এমন একটি মডেল তৈরি করা সম্ভব, যা সফলতার সঙ্গে অপরাধ অনুমান করতে সক্ষম।

 

যেভাবে কাজ করে

কৌশলটার নাম প্রেডিকটিভ মডেলিং। একটি এলাকায় অতীতে সংঘটিত সব অপরাধের ডাটার সঙ্গে পরিবেশ ও আচরণের ডাটাগুলোর মিশেল ঘটিয়ে একটি মডেল তৈরি করা হয়। এই মডেলই অনুমান করে যে কখন কোথায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে যাচ্ছে। মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমান একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম তৈরি করা হয়। সিস্টেমটি ম্যাপের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো রঙিন কোডের মাধ্যমে চিহ্নিত করে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পুলিশ স্টেশনগুলোকে পাঠাতে পারে সতর্কবার্তাও।

প্রেপডল মনে করে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি এলাকার অপরাধের মাত্রা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা

প্রযুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি পুলিশ স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি স্থানেও। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ৬ শতাংশ পর্যন্ত অপরাধ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

সান্তা ক্রুজ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি চিফ স্টিভ ক্লার্ক এই মডেলটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর মতে, এটি নির্ভুলভাবে অপরাধ অনুমান করতে সক্ষম।

 

সুবিধা

কমিউনিটি পুলিশিংয়ে এ ধরনের প্রযুক্তি পুলিশের কাজকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ অঞ্চলগুলো বের করে সেসব স্থানে পুলিশ স্টেশন তৈরি করা বা নজরদারিতে রাখার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সহায়ক হবে।

রাস্তায় ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব হলে ক্যামেরায় গতিবিধি দেখে আরো ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি হওয়ায় যত দিন যাবে তত নির্ভুল সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।

স্মার্ট সিটি নির্মাণে এটি একটি অপরিহার্য অংশ হতে পারে। সেই সঙ্গে রোবটিক পুলিশিং নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে ব্যাপক।

 

সমালোচনাও চলছে

অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে প্রেডিকটিভ মডেলিংয়ের সমালোচনা আছে প্রচুর। অ-শ্বেতাঙ্গ অঞ্চলগুলোতে অহেতুক পুলিশি প্রহরা বাড়তে পারে। ফলে বর্ণবাদভিত্তিক বিভেদকে প্রকট হতে পারে। পুলিশ যদি এই প্রযুক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে কিছু অপরাধ পুরোপুরি নজরদারির বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।



মন্তব্য