kalerkantho


খনির আঁধারে প্রযুক্তির আলো

খনিতে কাজের পরিবেশ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি কমাতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, ড্রোনসহ নতুন ধারার প্রযুক্তির। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



খনির আঁধারে প্রযুক্তির আলো

ভূপৃষ্ঠ থেকে শত ফুট গভীরে বিস্ফোরণ ঘটালে অনেক হিসাব করতে হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই শেষ। ভুল জায়গায় বিস্ফোরণে কত শত খনিশ্রমিকের জীবনাবসান ঘটেছে! পরিবেশের ক্ষতি তো আছেই। এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ।

শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর)। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিষ্ঠান সিমুলেটেড ট্রেইনিং সলিউশনের ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বিভাগের প্রধান জন বাওয়ার জানান, একটি অন্ধকার কক্ষে খনির আবহ সৃষ্টি করা হয়। এরপর সেটিতে ভার্চুয়াল বিস্ফোরক বসিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ধরনের প্রথম প্রশিক্ষণকক্ষ নির্মাণ করা হয় ২০১৬ সালে জাম্বিয়ায়। সে দেশের ‘মোপানি কপার’ খনির কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সিমুলেটেড ট্রেইনিং সলিউশনের কাজ শুরু হয়।

সাফল্য পাওয়ার পর একই ধরনের আরো দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। জন বাওয়ার বলেন, খনিশ্রমিকদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি খনিজ উত্তোলন খরচও কমায়।

শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আরো কিছু কাজে নতুন ধারার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। যেমন—ড্রোন উড়িয়ে খনিতে ব্যবহার করা অন্য যন্ত্রগুলোর কাজ তদারকি করা হচ্ছে। শুরু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ড্রিল ও স্বচালিত ট্রাক ব্যবহার। এতে লোকবল কম লাগছে।

একজন অপারেটর একাধারে কয়েকটি ড্রিল চালাতে পারছেন।

বিশ্বের অন্যতম বড় খনি করপোরেশন রিও টিন্টোর উন্নয়ন ও উদ্ভাবন বিভাগের প্রধান স্টিফেন ম্যাকিন্টোশ বলেন, শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি কমাতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সফটওয়্যারের মাধ্যমে খনির বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে খনির কাজের পরিবেশগত ক্ষতির মতো বিষয়গুলো।

ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, কঙ্গোতে একটি কোবাল্ট খনিতে ৪০ হাজার শিশু কাজ করছে। খনিতে শিশু শ্রমিকের কাজের হারও কমিয়ে আনা যাবে এর মাধ্যমে।



মন্তব্য