kalerkantho


বিদ্যুৎ দেবে ‘ছোট সূর্য’

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন পদ্ধতির দ্বারস্থ হন বিজ্ঞানীরা। এখন তাঁদের নজর পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে। এবার বিশেষ ধরনের ছোট ছোট সূর্য বানিয়ে সেগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিদ্যুৎ দেবে ‘ছোট সূর্য’

‘তুকামাক এনার্জি’ নির্মাণ করছে ‘মিনিয়েচার সান’ বা ‘ছোট সূর্য’।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা, জ্বালানি তেল, গ্যাস ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারে হুমকির মুখে পৃথিবীর অস্তিত্ব। ৫০ বছরের মধ্যেই মহাবিপর্যয় আসবে বলেও সতর্ক করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আবার জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার না করে উপায়ই বা কী? বিদ্যুতের জন্য এখনো প্রধান উৎস এই জীবাশ্ম জ্বালানি।

সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুকল ইত্যাদি সম্ভাবনাময় ও পরিচ্ছন্ন হলেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের পরিমাণ নিয়ে আছে হতাশা। সব মিলে আদর্শ বিকল্প খুঁজেই চলেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘ফিউশন শক্তি’ নামে বিশেষ ধরনের এক পদ্ধতির ওপর আস্থা  রাখতে চাচ্ছেন তাঁরা। আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ল্যাবরেটরিতে ছোট ছোট সূর্য বানিয়ে সেগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এই ফিউশনে।

 

নিউক্লিয়ার ফিউশন

সূর্য কিভাবে কোটি কোটি বছর ধরে আলো দিয়ে যাচ্ছে? কী-ইবা তার শক্তির উৎস? দেখা গেছে সূর্য প্রতিনিয়ত দুটি হাইড্রোজেনকে চাপ দিয়ে হিলিয়াম বানায়। এই প্রক্রিয়ায় যে প্রবল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় সেটিই সূর্যকে এত উজ্জ্বল বাতি বানিয়ে রেখেছে। এই প্রক্রিয়াকেই বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন নিউক্লিয়ার ফিউশন। আর এই পুরো প্রক্রিয়াকে সফল করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। সফল হলে আর চিন্তা নেই। কারণ মহাবিশ্বে হাইড্রোজেনের পরিমাণ অসীম। এই বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধবও।

 

সময় যায়!

এত দিনে এটা হলো না কেন? উত্তর হচ্ছে—এত দিন ফিউশন বিক্রিয়া চালু করার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতো সে তুলনায় যথাযথ শক্তির উৎপাদন হচ্ছিল না। কারণ ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য উচ্চ তাপের প্লাজমাকে উচ্চ চাপে ধরে রাখতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপ হচ্ছে কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঝামেলাটা এখানেই। এত উত্তপ্ত প্লাজমাকে চেপে ধরে রাখতে যে বিদ্যুৎ খরচ হয় তা উৎপন্ন বিদ্যুতের চেয়ে ঢের বেশি।

তবে নতুন এক চুল্লি উদ্ভাবনে বিষয়টিকে এখন ‘সম্ভাবনা’ হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

আরো আশার কথা হচ্ছে, সরকারের পাশাপাশি এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগেও গতি বেড়েছে। বিল গেটস, জেফ বেজোসের মতো বিলিয়নেয়াররা এগিয়ে এসেছেন। অক্সফোর্ডশয়ারের প্রতিষ্ঠান ‘তুকামাক এনার্জি’ তো আরো এগিয়ে। তারা এমন একটি চুল্লি নির্মাণ করছে, যা চৌম্বকশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্লাজমাকে উচ্চ চাপে আটকে রাখতে পারবে। চুল্লিটি আকারে ছোট, তাই নির্মাণ খরচ কম। এসব চুল্লিকে ‘মিনিয়েচার সান’ বা ‘ছোট সূর্য’ও বলা চলে। একাধারে এমন তিনটি রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এমআইটিও কাজ করছে আরেক ধরনের চুল্লি নিয়ে। ডোনাট আকৃতির ওই চুল্লিটি নির্মাণে টাকা দিচ্ছে বিল গেটস, জেফ বেজোস, মাইকেল ব্লুমবার্গসহ বিলিয়নেয়াররা।

এসব উদ্যোগ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ফল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ঘরের বাতি জ্বলবে ফিউশন শক্তিতে—এটাই লক্ষ্যমাত্রা।

এদিকে ফিউশন থেকে শক্তি উৎপাদনে ২০০৭ সালে ৩৫ দেশ মিলে গঠন করে ইন্টারন্যাশনাল থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিঅ্যাক্টর (আইটিইআর)। লক্ষ্য ছিল দ্রুত ফিউশন থেকে শক্তি উৎপাদনকে লাভজনক করা। বিশাল এক চুল্লি নির্মাণ করছে সংস্থাটি, তবে ২০২৫ সালের আগে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।



মন্তব্য