kalerkantho


গেইম

পুলিশের উর্দি যখন আপনার গায়ে

সামীউর রহমান    

১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পুলিশের উর্দি যখন আপনার গায়ে

‘নাহ্, এ দেশের পুলিশ কোনো কাজের না’—ভিনদেশ থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেককেই কথাটা বলতে শোনা যায়। উন্নত দেশের পুলিশ কতটা সহযোগিতাপরায়ণ, কতটা দক্ষ— এসবের অনেক গল্পই তাঁরা বলেন পারিবারিক পুনর্মিলনীতে অথবা বন্ধুদের আড্ডায়। তাদের চোখ এড়িয়ে যায় প্রখর রোদে ধুলা ওড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করা ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যবোধ। চোখে পড়ে না জীবনবাজি রেখে কোনো পুলিশ সদস্যের অপরাধী ধরার কৃতিত্ব। অনেকেই মনে করেন, পুলিশের কাজটা ভারি সোজা! রাতারাতি তো আর কাউকে পুলিশের চাকরি দিয়ে কাজে বসিয়ে দেখিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কতটা কঠিন এই দায়িত্ব। বিকল্প হতে পারে ‘দিস ইজ পুলিশ’ গেইমটা খেলতে দেওয়া। তখন এসব গালগল্প শোনানো মানুষটি বুঝবেন, কত ধানে কত চাল।

‘দিস ইজ পুলিশ গেইম’-এর প্রথমটি বেরিয়েছিল ২০১৬ সালে। ফ্রিবার্গ নামের কল্পিত এক শহরের পুলিশ প্রধান জ্যাক বয়েডের ভূমিকায় খেলতে হয়েছিল গেইমারকে। দায়িত্বের শেষ ১৮০ দিনে পুলিশ বাহিনীর জন্য তহবিল সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের কঠিন কাজটি সামলানোর অভিজ্ঞতা যদি থেকে থাকে, তাহলে এই গেইমের দ্বিতীয় পর্ব ‘দিস ইজ পুলিশ-২’ও ভালো লাগবে।

প্রথম পর্বে মাফিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনীকেই আইনের বাইরে পা ফেলতে হয়েছিল। আদালতের চোখ তা এড়ায়নি। বড় শহর ছেড়ে বয়েডকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে হয়েছে ছোট্ট শহর শার্পউড শেরিফের। তুষারধবল শহরের পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থাপনার কাজটাই করতে হবে গেইমারকে। অপরাধ দমনে পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ইউনিট পাঠানো—করতে হবে সবই। কোন অবস্থায় ঘটনাস্থলে কী করতে হবে, সেটাই নির্ণয় করে দেবে গেইমের গতিপথ। চুরি, ডাকাতি, সশস্ত্র ডাকাতি, নাকি যৌন হয়রানি—কোন ধরনের অপরাধে কী ধরনের পুলিশ সদস্যকে পাঠাতে হবে, কিভাবে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করতে হবে, বন্দুকের গুলিতে নাকি আলোচনায় নিরসন হবে জিম্মি সংকট, এর সবই করতে হবে গেইমারকে। সেটা রক্তাক্ত পথ মাড়িয়ে নাকি আলোচনার মাধ্যমে, লম্বা সংলাপ ও কাটসিনগুলোতে সেই দায়িত্ব নেওয়াটাই গেইমারের কাজ এখানে। তারপর দুর্নীতি, অপরাধচক্রের প্রভাবশালীদের চাপ, অনেক কিছু তো আছেই। সব সামলে পুলিশের কাজটা করে যেতে পারা অর্থাৎ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করাটাই হবে গেইমারের লক্ষ্য।

গেইমটা মূলত সময় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার পাঠের সঙ্গে যুক্তি ও দূরদৃষ্টির এক চমৎকার সমন্বয়। গেইম বলতে যা আদতে খানিকটা শিশুতোষ শোনালেও আসলে দারুণ একটা শিক্ষাই দেয় এই গেইম, যা হচ্ছে পুলিশ হওয়া নয় সোজা!

এবারও উইপি স্টুডিও আর টি এইচ কে নরডিক মিলে বানিয়েছে গেইমটি।

 

খেলতে হলে পিসিতে থাকতে হবে

ইন্টেলের কোরআই ৫ প্রসেসর

১৬ গিগাবাইট র‌্যাম

এনভিডিয়া জিটিএক্স ৯৭০ মানের গ্রাফিকস কার্ড।

বয়স

১৬+



মন্তব্য